
প্যারিসের বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে টেলিগ্রামের সিইও পাভেল দুরোভকে। সূত্রের খবর, টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপ সংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগেই গ্রেফতার করা হয়েছে সংস্থার সিইও-কে। এরপরই টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীদের মনে প্রশ্ন, অ্যাপটিও কি বন্ধ হয়ে যাবে? দেখে নিন কত স্মপদের মালিক টেলিগ্রাম সিইও...
পাভেল দুরাভের ১৫.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদ রয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় ১২,৯৯,১১,৬২,২৫,০০০ টাকা হয়। তিনি বলেন যে অনেক সরকার তাকে চাপ দেয়, তবে তিনি এই অ্যাপটিকে নিরপেক্ষ রাখবেন এবং এটিকে কখনই রাজনীতির জায়গা হতে দেবেন না। টেলিগ্রাম অনেক দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, যদিও অনেক দেশে ডেটা নিরাপত্তার কারণে এটিকে ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। প্রায় ১ বিলিয়ন উয়জার রিয়েছে টেলিগ্রামের।
টেলিগ্রামের ভবিষ্যৎ কী?
টেলিগ্রাম বন্ধ হওয়ার কোনও ইঙ্গিত এখনও দেওয়া হয়নি। রবিবার পাভেল দুরোভকে কোর্টে তোলা হবে। প্রসঙ্গত, এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। প্রতারণা থেকে শুরু করে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, সেই তথ্য বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। তবে টেলিগ্রাম বরাবরই দাবি করেছে, তারা কখনও গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস করেনি। বর্তমানে টেলিগ্রামে ৯০০ মিলিয়ন গ্রাহক রয়েছে।
কেন আটক করা হয়েছে পাভেল দুরোভকে?
ফ্রান্স-রাশিয়ান বংশোদ্ভূত পাভেল দুরোভ (৩৯)-কে শনিবার প্যারিসের লে বুগেট বিমানবন্দর থেকে আটক করে ফ্রান্স পুলিশ। জানা গিয়েছে, আজ়ারবাইজান থেকে ফিরছিলেন দুরোভ। সেই সময়ই তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সংবাদসংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, পাভেল দুরোভের বিরুদ্ধে টেলিগ্রাম অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণা, মাদক পাচার, সাইবার বুলিং, অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের প্রচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের অপরাধমূলক কার্যকলাপ রুখতে না পারার কারণেই ফ্রান্সের ওএফএমআইএন-র তরফে টেলিগ্রামের সিইও-র বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রাশিয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে টেলিগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ২০২২ সালে টেলিগ্রাম রাশিয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে তথ্যের একটি প্রধান উৎস হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষের কাছ থেকে অপরিশোধিত তথ্য পাঠানো হচ্ছে, যাতে কিছু ভুল তথ্যও রয়েছে। দুদিক থেকে এগুলো পাঠানো হচ্ছিল। এর পরে অনেক বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে এটি একটি ভার্চুয়াল যুদ্ধের ক্ষেত্র। ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভালাদিমির জেলেনস্কি এবং তাঁর কর্মকর্তারা ব্যাপকভাবে টেলিগ্রাম ব্যবহার করেন। রাশিয়ান সরকারও এটি ব্যবহার করে এবং ভুল তথ্য খণ্ডন করে। রুশ বিদেশ মন্ত্রক বলেছে যে প্যারিসে তাঁদের দূতাবাস দুরন্ড সম্পর্কে অবস্থান স্পষ্ট করছে। তাঁর মুক্তি দাবি করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।