
VAR Vs DRS Technology: আধুনিক ক্রীড়াজগতে নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্যে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। ফুটবল বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর এবং ক্রিকেট মাঠে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম বা ডিআরএস এখন অত্যন্ত পরিচিত নাম।
তবে এই দুই ভিন্ন জনপ্রিয় খেলার প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে ক্রীড়াপ্রেমী ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। নতুন এক ক্রীড়া লেখকের আলোচনায় উঠে এসেছে কীভাবে এই দুই প্রযুক্তি মাঠের আম্পায়ার ও রেফারিদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে এবং দর্শকদের আনন্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা সফল বা ব্যর্থ হচ্ছে।
ক্রিকেটের ডিআরএস প্রযুক্তি
ক্রিকেটের ডিআরএস প্রযুক্তিটি মূলত খেলোয়াড়দের অধিকার এবং আম্পায়ারদের মানবিক ভুল সংশোধনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। এখানে খেলোয়াড়রা সরাসরি অন ফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন এবং মাঠের বড় পর্দায় হক আই বা আল্ট্রাএজের মতো উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার দর্শকরাও সরাসরি দেখতে পান। এর ফলে ক্রিকেট ম্যাচে স্বচ্ছতা অনেক বেশি বজায় থাকে এবং আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কোনো দলকে খেসারত দিতে হয় না। অন্যদিকে ফুটবলের ভিএআর ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি থাকে মাঠের বাইরে বসা ম্যাচ অফিশিয়ালদের হাতে। কোনো অফসাইড ফাউল বা লাল কার্ডের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রেফারি নিজে মাঠের পাশে থাকা মনিটরে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ ধরে রিপ্লে দেখেন যা অনেক সময় ম্যাচের গতি কমিয়ে দেয় এবং স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকদের বিভ্রান্ত করে তোলে।
ফুটবলের ভিএআর প্রযুক্তি
ফুটবল মাঠে ভিএআর প্রযুক্তি চালু হওয়ার পর থেকে বিতর্কের অবসান হওয়ার বদলে তা আরও বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বোদ্ধারা। অনেক সময় খালি চোখে যা ফাউল বা অফসাইড মনে হয় না মিলিমিটারের সূক্ষ্ম ব্যবধানে প্রযুক্তির খাঁড়ায় তা বাতিল হয়ে যায় যা ফুটবলের মতো একটি গতিশীল খেলার স্বাভাবিক ছন্দকে নষ্ট করছে। ক্রিকেট বিশ্বে ডিআরএস প্রযুক্তিকে খেলোয়াড় ও দর্শকরা যেভাবে আপন করে নিয়েছেন ফুটবলের ক্ষেত্রে ভিএআর এখনও সেই স্তরের জনপ্রিয়তা বা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। খেলার গতিশীলতা বজায় রেখে কীভাবে ফুটবলকে আরও নিখুঁত ও বিতর্কহীন করা যায় তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ামক সংস্থাগুলি আগামী দিনে নিশ্চিতভাবেই নতুন কোনো চিন্তাভাবনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।