
ভারতে নিষিদ্ধ হয়েছে কিছু চিনা সিসিটিভি ক্যামেরা। নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে চিনা Wifi নিয়েও। সরকার এখন ক্যামেরার জন্য এসটিকিউসি (STQC) সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক করেছে, যার ফলে Hikvision এবং Dahua-র মতো প্রধান চিনা সংস্থাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ক্যামেরার চেয়েও বড় বিপদ হতে পারে বাড়িতে থাকা 'ওয়াইফাই রাউটার'।
ডিজিটাল হ্যাকারদের 'উন্মুক্ত দরজা'
আজকাল প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রাউটার থাকে। ফোন, ল্যাপটপ, স্মার্ট টিভি এবং ব্যাঙ্কিং অ্যাপগুলোতে ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির উন্মুক্ত দরজা হিসেবে কাজ করে কিছু ওয়াইফাই রাউটার।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ডঃ মেহতা বলেন, যদি রাউটারটি সুরক্ষিত না থাকে, তবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির উন্মুক্ত দরজার মতো। তথ্য চুরি এবং গুপ্তচরবৃত্তির সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি চিনা নেটওয়ার্ক ডিভাইস এবং রাউটার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভারতে সস্তা চিনা রাউটারের ছড়াছড়ি
ভারতে একটি বড় সমস্যা হল, বাজেটের সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষ প্রায়শই সস্তা চিনা রাউটার কিনে থাকেন। এই ডিভাইসগুলো সময়মতো নিরাপত্তা আপডেট পায় না এবং এদের সফটওয়্যার (ফার্মওয়্যার) ত্রুটিতে ভরা থাকে।
'ভোল্ট টাইফুন'-এর মতো সাইবার অভিযান প্রমাণ করেছে যে, হ্যাকাররা এখন সীমান্তের পরিবর্তে নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে। ভারতে মানুষ রাউটার সেটিংস বা আইপি অ্যাড্রেসের মতো প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো বোঝে না, যা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
অন্য কারও কাছে ডিজিটাল চাবি
প্রায়শই দেখা যায় যে ইন্টারনেট ইনস্টলেশন টেকনিশিয়ানরা রাউটারের পাসওয়ার্ড এবং ইউজারনেম ডিফল্ট (যেমন অ্যাডমিন/অ্যাডমিন) রেখে দেন। এর মানে হল, কোনও তৃতীয় পক্ষ ইন্টারনেটে প্রবেশাধিকার পেতে পারে।
যদি কোনও হ্যাকার রাউটারে প্রবেশাধিকার পায়, তবে তারা শুধু ডেটা দেখতেই পারবে না, বরং নেটওয়ার্ককে একটি বটনেটের অংশ হিসেবে ব্যবহার করে বড় ধরনের সাইবার আক্রমণও চালাতে পারবে। ২০১৬ সালে, মিরাই বটনেট আক্রমণে বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ রাউটার হ্যাক হয়েছিল, যা ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে ব্যাহত করে।
নিজেকে সুরক্ষিত রাখার উপায় কী?
নিরাপত্তার জন্য, ব্যবহারকারীদের অবিলম্বে তাদের ডিফল্ট পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। সাইবার বিশেষজ্ঞরা রাউটারের নাম বা SSID লুকিয়ে রাখার পরামর্শ দেন, যাতে এটি অদৃশ্য থাকে।
এছাড়াও, ওয়াই-ফাই-এর সঙ্গে কোন কোন ডিভাইস সংযুক্ত আছে তা নিয়মিত পরীক্ষা করুন। যদি রাউটার হ্যাক হয়, তবে হ্যাকার ভুয়ো ওয়েবসাইটে পাঠিয়ে ব্যাঙ্কিং জালিয়াতি করতে পারে।