
প্রতিদিন অফিস যাওয়া, ছেলেমেয়েকে স্কুলে দিয়ে আসা, আবার মাঝেমধ্যে লং রাইড। মোটরসাইকেল একটাই। কিন্তু আমাদের প্রত্যেকের চাহিদা আলাদা। তাই বাইক কেনার আগে শুধু ডিজ়াইন বা ব্র্যান্ড নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ইঞ্জিন ক্ষমতা বা ‘সিসি’। ১০০ সিসি থেকে ৩৫০ সিসি; কোন ধরনের বাইক কার জন্য বেশি উপযুক্ত, তা না বুঝে কিনলে পরে আফসোস করতে হবে। টাকা বাঁচাতে গিয়ে কম সিসির বাইক কিনে পরে আশ মিটবে না। আবার বেশি উৎসাহিত হয়ে বড় বাইক কিনে পরে তেলের দামে পকেটে টানও পড়তে পারে।
অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইকের সিসি যত বাড়ে, ততই বাড়ে শক্তি, গতি এবং দীর্ঘপথে আরাম। তবে তার সঙ্গে বাড়ে জ্বালানি খরচ ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়ও। তাই ব্যবহারের ধরন বুঝেই বাইক বেছে নেওয়া জরুরি।
১০০ থেকে ১১০ সিসি: কমিউটার
যাঁদের প্রতিদিন শহরের মধ্যে ২০ থেকে ৫০ কিলোমিটার যাতায়াত, তাঁদের জন্য ১০০ বা ১১০ সিসির বাইকই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বাইকগুলিতে সাধারণত ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ পাওয়া যায়।
কম ওজন, কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং সহজ চালানোর সুবিধার জন্য এই সেগমেন্ট এখনও সবচেয়ে জনপ্রিয়। কলেজ পড়ুয়া, অফিসযাত্রী বা ডেলিভারি কর্মীদের মধ্যে এই ধরনের বাইকের চাহিদা বেশি। তবে হাইওয়ে বা দীর্ঘপথে বারবার যাতায়াত করলে শক্তির ঘাটতি অনুভব হতে পারে।
১২৫ থেকে ১৬০ সিসি: শহর ও হাইওয়ের জন্য
যাঁরা একটু বেশি পাওয়ার চান, কিন্তু অতিরিক্ত জ্বালানি খরচও চান না, তাঁদের জন্য ১২৫ থেকে ১৬০ সিসি আদর্শ বলে মনে করা হয়। শহরের ট্র্যাফিকেও স্বচ্ছন্দ, আবার মাঝেমধ্যে হাইওয়েতেও আরামদায়ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে ‘ব্যালান্সড’ সেগমেন্ট এটাই। মাইলেজ মোটামুটি ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে। অফিস যাতায়াতের পাশাপাশি উইকএন্ড রাইডের জন্যও এই বাইকগুলি যথেষ্ট উপযোগী।
২০০ থেকে ২৫০ সিসি: পারফরম্যান্স ও ট্যুরিং
যাঁরা নিয়মিত হাইওয়েতে চলাফেরা করেন বা ট্যুরিং পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ২০০-২৫০ সিসি বাইক উপযুক্ত। এই বাইকগুলিতে দ্রুত ওভারটেক, বেশি স্টেবিলিটি এবং তুলনামূলক ভাল সাসপেনশন পাওয়া যায়।
তবে এই সেগমেন্টে জ্বালানি খরচও বাড়ে। শহরের ভিড়ে চালালে অনেক সময় ইঞ্জিনের পুরো ক্ষমতা ব্যবহারই করা যায় না। ফলে শুধুমাত্র শহরের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এই সেগমেন্ট সবসময় প্রয়োজনীয় নয় বলে মত অনেকের।
৩৫০ সিসি: সিরিয়াস রাইডিং/স্টাইল
বর্তমানে ৩৫০ সিসি সেগমেন্টের জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে ক্রুজ়ার এবং রেট্রো বাইকের বাজারে। Royal Enfield, Honda-র মতো সংস্থার একাধিক মডেল এই সেগমেন্টে জনপ্রিয়।
৩৫০ সিসির বাইকগুলিতে সাধারণত শক্তিশালী টর্ক, আরামদায়ক রাইডিং পজ়িশন এবং দীর্ঘপথে ভাল স্টেবিলিটি পাওয়া যায়। তবে মাইলেজ অনেক কমে গিয়ে সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকে।
রেডিটের ‘ইন্ডিয়ানবাইকস’ কমিউনিটিতেও অনেক ব্যবহারকারী মত দিয়েছেন যে, ৩৫০ সিসির বাইক শহরের জ্যামে অনেক সময় ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। অনেকে আবার জানিয়েছেন, হাইওয়ে ও উইকএন্ড রাইডের জন্য এই সেগমেন্ট আদর্শ হলেও শুধুমাত্র অফিস যাতায়াতের জন্য তা সবসময় বাস্তবসম্মত নয়।
তা হলে কোন সিসির বাইক সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইক কেনার আগে নিজেকে এই তিনটি প্রশ্ন করুন;
১. প্রতিদিন কত কিলোমিটার চলবেন?
২. শহরে বেশি চালাবেন না হাইওয়েতে?
৩. মাইলেজ বেশি গুরুত্বপূর্ণ, না পারফরম্যান্স?
যদি মূল লক্ষ্য কম খরচে দৈনন্দিন যাতায়াত হয়, তা হলে ১০০-১২৫ সিসি এখনও সেরা বিকল্প। শহর ও মাঝেমধ্যে হাইওয়ে; দু’দিক সামলাতে চাইলে ১৫০-১৬০ সিসি সবচেয়ে ব্যালান্সড। আর যাঁরা রাইডিং অভিজ্ঞতা, টর্ক এবং লং রাইডকে গুরুত্ব দেন, তাঁদের জন্য ৩৫০ সিসি উপযুক্ত হতে পারে।
তবে পেট্রলের দাম এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মাথায় রেখে এখন অনেকেই ‘প্রয়োজন অনুযায়ী’ বাইক কেনার দিকেই ঝুঁকছেন। অটোমোবাইল মহলের মতে, শুধুমাত্র ট্রেন্ড দেখে নয়, নিজের ব্যবহার বুঝে বাইক বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।