
রিটায়ারমেন্ট ফান্ড নিয়ে আমাদের দেশে অনেকেই তেমন একটা চিন্তিত নন। আর এটাই বিপদ বাড়ায়। অবসরের পর হাতে থাকে না টাকা। অর্থনৈতিক সমস্যায় পড়তে হয়। তাই চাকরি শুরুর সময় থেকেই সেভিংস করা উচিত। করা উচিত রিটায়ারমেন্ট ফান্ড তৈরি। নইলে বিপদ বাড়বে।
এখন প্রশ্ন হল, রিটায়ারমেন্টের জন্য ঠিক কতটা টাকা জমানো প্রয়োজন? আর এটা নির্ভর করছে আপনার লাইফস্টাইল এবং স্যালারির উপর। তবে অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এক্ষেত্রে সবথেকে ভাল ফর্মুলা হল আপনার শেষ স্যালারির ১০০ গুণ টাকা জমিয়ে ফেলা। আরও সহজে যদি বলি, রিটায়ারমেন্টের সময় আপনার ইনহ্যান্ড স্যালারি ঠিক যতটা থাকবে, তার ১০০ গুণ টাকা জমিয়ে ফেলা খুবই জরুরি।
একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টা খুবই স্পষ্ট হয়ে যাবে। ধরুন আপনার শেষ ইনহ্যান্ড স্যালারি হচ্ছে ১ লক্ষ টাকা। তাহলে রিটায়ারমেন্টের সময় আপনার হাতে থাকা উচিত ১ কোটি টাকা। এই নিয়ম অনুযায়ী, ১ কোটি টাকা যদি কোনও নিরাপদ জায়গায় বিনিয়োগ করা যায়, সেটা যদি ৫ শতাংশ হারে তোলা হয়, তাহলে আপনি নিজের লাইফস্টাইল ধরে রাখতে পারবেন।
আপনার বয়স অনুযায়ী কত টাকা রিটায়ারমেন্টের জন্য রাখা উচিত?
যদি ৬০ বছরে রিটায়ারমেন্ট হয়, আর আপনার বয়স যদি ৩০-এর মধ্যে হয়, সেক্ষেত্রে খুব বেশি বিনিয়োগ না করলেও চলবে। তবে যদি আপনার বয়স ৪০, ৫০-এর মতে হয়, তাহলে আরও বেশি টাকা ইনভেস্ট করা অত্যন্ত জরুরি।
আরও সহজে বললে, ধরুন ৩০ বছর বয়সে আপনার স্যালারি রয়েছে ১২ লক্ষ টাকা। এমন পরিস্থিতিতে আপনি যদি ৩০ বছরের মধ্যেই ১২ লক্ষ টাকা জমিয়ে ফেলতে পারেন, সেই টাকায় যদি ১২ শতাংশ হারে রিটার্ন পান, তাহলে রিটায়ারমেন্টের সময় পেয়ে যাবেন ৩.৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ৩০ বছর বছর বয়সে ১২ লক্ষ টাকা জমিয়ে ফেললেই চিন্তা নেই।
কিন্তু আপনার বয়স যদি ৪০ বছর হয়, তাহলে ৩৬ থেকে ৪৮ লক্ষ টাকা জমিয়ে ফেলতে হবে রিটায়ারমেন্টের জন্য। আর ৫০-এর পর আপনাকে জমাতে হবে ৯৬ লক্ষ টাকা। তাহলেই রিটায়ারমেন্ট সেফ। এক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা মাইনে ধরেই গোটা হিসেবটা করা হয়েছে।
কোন বয়সে কত টাকা জমানো উচিত?
এই বিষয়টা মাথায় রাখুন
রিটায়ারমেন্ট ক্যালকুলশনের সময় আপনাকে মুদ্রাস্ফীতির বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। আজ যদি আপনার সংসারের খরচ ৫০ হাজার টাকা হয়, তাহলে ৬ শতাংশ ইনফ্লেশন রেটে সেটা ২০ বছর পর ১.৬০ লক্ষ টাকায় পৌঁছে যাবে।
SIP-তে ইনভেস্ট করতে পারেন
নিজেকে সমস্যা থেকে দূরে রাখতে সিপের মাধ্যমে ইনভেস্ট করতে পারেন। মূলত ৩০ থেকে ৪০ বছরের সময় সিপে ইনভেস্ট করা যায়। তবে বয়স বাড়লে ডেবট ফান্ড বা ফিক্সড ডিপোজিটের দিকে এগিয়ে যান।