Iconic Cars India History: গাড়ি। যাতায়াতের মাধ্যম। আবেগ। শিল্প। ইঞ্জিনিয়ারিং। গাড়ির এই সমস্ত দিক যিনি উপলব্ধি করেছেন, তিনিই প্রকৃত কার এনথ্যুসিয়াস্ট। গাড়ির চাকায় জড়িয়ে থাকে ইতিহাসও।ভারতের ইতিহাসে এমন কিছু গাড়ি রয়েছে, যেগুলি শুধু রাস্তা দাপায়নি, বরং দেশের যাতায়াতের ধরণই বদলে দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি বদলেছে, ডিজাইন পাল্টেছে, কিন্তু এই গাড়িগুলির প্রভাব আজও অটুট। আসুন ফিরে দেখা সেই পাঁচ আইকনিক গাড়ি, যেগুলি ভারতের রাস্তাঘাট পাল্টে দিয়েছে।
Maruti Suzuki 800
প্রথমেই আসে Maruti Suzuki 800। ১৯৮৩ সালে বাজারে আসা এই ছোট হ্যাচব্যাক কার্যত বিপ্লব ঘটিয়েছিল। কম দাম, দুর্দান্ত মাইলেজ এবং নির্ভরযোগ্য ইঞ্জিন; এই তিনের জোরে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই গাড়ি। পাঁচজন যাত্রী আর কিছু লাগেজ নিয়ে অনায়াসে চলতে পারত। ডিস্ক ব্রেক, এসি; সেই সময়ের জন্য বড় আকর্ষণ ছিল। প্রায় তিন দশক বাজারে থাকার পর ২০১৪ সালে এই গাড়ির প্রোডাকশন শেষ হয়। পরে এর জায়গা নিয়ে নেয় Alto।
Tata Indica
এর পরেই আসে Tata Indica। ১৯৯৮ সালে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই গাড়ি Tata Motors-কে যাত্রীবাহী গাড়ির বাজারে প্রতিষ্ঠা দেয়। বড় ইন্টেরিয়র, আরামদায়ক রাইড এবং কম খরচ; এই তিন কারণেই জনপ্রিয়তা পায়। পেট্রোল ও ডিজেল; দুই ভার্সনেই পাওয়া যেত। দীর্ঘ ২০ বছর বাজারে থাকার পর ২০১৮ সালে বন্ধ হয়ে যায় Indica, কিন্তু আজকের Altroz-সহ একাধিক মডেলের ভিত্তি তৈরি করে দেয় এই গাড়ি।
Premier Padmini
Premier Padmini-ও ভারতের গাড়ির ইতিহাসে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। Fiat-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই গাড়ি ১৯৬০-এর দশক থেকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ছোট আকার, সহজ চালনা এবং ইতালিয়ান ডিজাইন; সব মিলিয়ে শহরের রাস্তায় দাপট ছিল। তবে আধুনিক গাড়ির আগমনে ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা কমে এবং ২০০০ সালে উৎপাদন বন্ধ হয়।
জিপ গাড়ি
SUV সেগমেন্টে Jeep-এর অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৫০-এর দশকে Mahindra-র হাত ধরে ভারতে আসে Jeep CJ সিরিজ। কঠিন রাস্তা, পাহাড়ি এলাকা; সব জায়গায় চলার ক্ষমতা ছিল এই গাড়ির। পরবর্তী সময়ে Mahindra Thar-এর মতো আধুনিক মডেল তৈরি হলেও Jeep-এর ‘গো-এনিওয়্যার’ চরিত্র আজও একই রয়ে গেছে।
অ্যাম্বাসাডর
সবশেষে Hindustan Motors-এর Ambassador। ১৯৫৮ সালে উৎপাদন শুরু হওয়া এই গাড়ি দীর্ঘদিন সরকারি গাড়ি হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশাল জায়গা, আরামদায়ক সিটিং এবং ক্লাসিক লুক; এই গাড়িকে আলাদা মর্যাদা দেয়। যদিও সময়ের সঙ্গে আপডেট না হওয়ায় জনপ্রিয়তা কমে এবং ২০১৭ সালে উৎপাদন বন্ধ হয়। তবুও আজও এটি সংগ্রাহকদের কাছে অমূল্য সম্পদ।