
অষ্টম বেতন কমিশনের (8th Pay Commission) জন্য অধীর অপেক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা। কিন্তু ঠিক কত টাকা বাড়ছে, বা অ্যাকাউন্টে কত ঢুকবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে অষ্টম পে কমিশনের আগেই জুলাই মাসে বাড়তে পারে DA বা মহার্ঘ ভাতা।
অষ্টম বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় থাকা লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর জন্য সুখবর আসতে পারে। বড় ধরনের বেতন সংশোধন এখনও সময়সাপেক্ষ হলেও, তার আগেই মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) বৃদ্ধির মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শ্রম ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শিল্প শ্রমিকদের জন্য সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচক (AICPI-IW) মার্চ ২০২৬-এ ১৪৯.১ থেকে বেড়ে এপ্রিল ২০২৬-এ ১৪৯.৯ হয়েছে। একই সময়ে শিল্প শ্রমিকদের খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হারও ৪.২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
কেন্দ্রীয় কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণ
এই AICPI-IW সূচকের ভিত্তিতেই কেন্দ্রীয় কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণ করা হয়। এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ১২ মাসের গড় সূচক দাঁড়িয়েছে ১৪৭.৫১। ২০১৬ সালের বেস সিরিজকে ২০০১ সালের বেস সিরিজে রূপান্তরের জন্য ২.৮৮-এর লিঙ্কিং ফ্যাক্টর প্রয়োগ করলে ডিএ-র হিসাব প্রায় ৬২.৫১ শতাংশে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী এটি ৬৩ শতাংশ হিসেবে নির্ধারিত হতে পারে।
ডিএ ৩ শতাংশ বেড়ে ৬৩ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা
বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ৬০ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। সেই হিসেবে ডিএ ৩ শতাংশ বেড়ে ৬৩ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মে ও জুন ২০২৬-এর AICPI-IW তথ্য এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের উপর। এদিকে অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন একাধিক দাবি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে বেতন কাঠামোয় বড়সড় সংশোধন প্রয়োজন। উচ্চ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধি, মূল বেতনের সঙ্গে ডিএ একসঙ্গে এবং আরও শক্তিশালী পেনশন ব্যবস্থার দাবি তুলেছে কর্মচারী সংগঠনগুলি। কয়েকটি সংগঠন ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের প্রস্তাবও দিয়েছে।
স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময়সীমা
বেতন ও পেনশন সংক্রান্ত স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময়সীমা অষ্টম বেতন কমিশন ১৫ জুন ২০২৬ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, সমস্ত প্রস্তাব ও স্মারকলিপি শুধুমাত্র তাদের সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জমা দিতে হবে। হার্ড কপি, ই-মেল বা পিডিএফ আকারে পাঠানো নথি গ্রহণ করা হবে না।