Advertisement

Aadhar Card : আধার কার্ডের দিন কি শেষ? সরকারি প্রকল্পের টাকা পেতে এবার লাগতে পারে ভোটার কার্ড!

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়। সেই তালিকায় রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

প্রতীকী ছবি প্রতীকী ছবি
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 06 Nov 2026,
  • अपडेटेड 1:24 PM IST
  • মন্ত্রীর কথায়, এখন দেশের প্রায় সর্বত্র আধার কার্ড তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে
  • ফলে খুব সহজেই যে কারও আধার কার্ড তৈরি করা সম্ভব

সরকারি প্রকল্পের টাকা পেতে আধার কার্ডের প্রয়োজনীয়তা কি এবার কমতে চলেছে? আধারের পরিবর্তে ভোটার কার্ডের EPIC নম্বর এবং বায়োমেট্রিক তথ্য ব্যবহার করে উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং। 

তাঁর বক্তব্য, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে আধার কার্ড আর পরিচয়ের মূল ভিত্তি থাকবে না। পরিবর্তে ব্যবহার করা হতে পারে ভোটার কার্ডের EPIC নম্বর এবং বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ। এই খবর সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, তাহলে কি PM-Kisan থেকে শুরু করে বিধবা ভাতা, বার্ধক্য ভাতা কিংবা গ্রামীণ আবাস যোজনার মতো প্রকল্পে টাকা পাওয়ার নিয়ম বদলাতে চলেছে?

কী বলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রকের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন রাজীব রঞ্জন সিং। তিনি কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েতি রাজ, মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ উৎপাদন মন্ত্রী। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে আধার কার্ড আর ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে না।

মন্ত্রীর কথায়, এখন দেশের প্রায় সর্বত্র আধার কার্ড তৈরির ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে খুব সহজেই যে কারও আধার কার্ড তৈরি করা সম্ভব। তাঁর বক্তব্য, আধার কার্ড তৈরির এই সহজলভ্যতার কারণে সুবিধাভোগীদের পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অন্য ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক তথ্য এবং তাঁদের ভোটার কার্ডের EPIC নম্বরকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ, উপভোক্তার পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ভোটার কার্ডের নম্বরের পাশাপাশি বায়োমেট্রিক তথ্যও কাজে লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

কোন কোন সরকারি প্রকল্পে আধার ব্যবহার করা হয়?

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্পে উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়। সেই তালিকায় রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প।

PM-Kisan: দেশের কৃষকদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য এই প্রকল্প চালু রয়েছে। যোগ্য কৃষকদের নির্দিষ্ট সময় অন্তর আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়।

Advertisement

VB-G RAM G: গ্রামীণ কর্মসংস্থান সংক্রান্ত এই প্রকল্পে শ্রমিকদের মজুরি প্রদানের ক্ষেত্রেও আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহৃত হয়।

প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ): গ্রামীণ এলাকায় যোগ্য উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। সেই টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়।

৪. ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্টান্স প্রোগ্রাম: এই কর্মসূচির আওতায় বৃদ্ধ, বিধবা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের পেনশন দেওয়া হয়। এখানেও আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ উৎপাদন মন্ত্রকের অধীনে থাকা কয়েকটি প্রকল্পে আধার বাধ্যতামূলক। যেমন National Livestock Mission Entrepreneurship Development Programme-এর আওতায় সুবিধা পেতে যোগ্য উপভোক্তাদের আধার নম্বরের প্রমাণ দিতে হয় অথবা আধার অথেনটিকেশন করাতে হয়।

কবে থেকে চালু হবে নতুন নিয়ম?

তবে মন্ত্রীর বক্তব্যের পরেও বেশ কয়েকটি বিষয় এখনও স্পষ্ট নয়। ঠিক কোন কোন সরকারি প্রকল্পে আধারের পরিবর্তে ভোটার কার্ডের EPIC নম্বর ব্যবহার করা হবে, তা তিনি জানাননি। নতুন ব্যবস্থা কবে থেকে কার্যকর হতে পারে, সেই বিষয়েও নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।

এমনকী, আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পরিবর্তে কীভাবে নতুন পদ্ধতিতে উপভোক্তাদের টাকা পাঠানো হবে, তার বিস্তারিত রূপরেখাও এখনও সামনে আসেনি। ফলে আপাতত এটিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দেওয়া নতুন ব্যবস্থার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে। আধার কার্ড বাতিল হচ্ছে বা অবিলম্বে সরকারি প্রকল্পে আধারের ব্যবহার বন্ধ হচ্ছে, এমন কোনও ঘোষণা এখনও করা হয়নি।

Read more!
Advertisement
Advertisement