
মাত্রাতিরিক্ত গরমে এয়ার কন্ডিশন ছাড়া এক মুহুর্তও থাকা সম্ভব হচ্ছে না। তবে AC সারাদিন চালিয়ে রাখলে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রিক বিল মেটাতে গিয়ে নাভিঃশ্বাস ওঠে মধ্যবিত্তের। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না, AC ঠিক কত তাপমাত্রায় চালানো উচিত। অতিরিক্ত ইলেকট্রিক বিলের খরচ কমানোর জন্য দিল্লির সরকার সম্প্রতি এই নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে।
অনেকেই নিজেদের বাড়ি কিংবা অফিসে AC ১৮ ডিগ্রিতে চালিয়ে রাখেন। তবে দিল্লি সরকারের একটি দফতর থেকে জারি করা নির্দেশে বলা হয়েছে, AC ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সেট করা উচিত।
AC-র তাপমাত্রা এক ডিগ্রি বাড়ালে আনুমানিক ৫ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতে পারে। যদি আপনার AC ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পরিবর্তে ২৪ বা ২৬ ডিগ্রিতে চালান, তাহলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মাধ্যমে আপনি কতটা লাভবান হবেন?
> ১৮ ডিগ্রির তুলনায় ২৪ ডিগ্রি তাপমাত্রায় AC চালান।
> তাপমাত্রার পার্থক্য হবে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
> সম্ভাব্য সঞ্চয়- ৩০ থেকে ৩৬ শতাংশ।
> ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তুলনায় ২৬ ডিগ্রিতে চালালে সঞ্চয় হবে- ৪০ থেকে ৪৮ শতাংশ।
উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনার এয়ার কন্ডিশনার ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৮ ঘণ্টা চলে তবে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। এরপর যেই মুহুর্তে আপনি AC ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে চালাবেন, বিদ্যুৎ বিলের ইউনিট খরচ ৫.১ ইউনিট থেকে কমে ৫.৬ ইউনিট হবে। যদি আপনি ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ৮ ঘণ্টা AC চালান, তাহলে ৪.২ ইউনিট থেকে ৪.৮ ইউনিট পর্যন্ত হতে পারে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির সরকারের তরফে সমস্ত বিভাগীয় প্রধান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং তাদের অধীনস্থ দফতরগুলিকে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি নির্দেশে বলা হয়েছে, জ্বালানি ও শক্তি সংরক্ষণের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে দিনের বেলায় অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ রাখুন। প্রাকৃতিক আলোর ব্যবহার সর্বাধিক করুন এবং AC ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
সরকারি নির্দেশে এ-ও বলা হয়েছে, ঘর, করিডর এবং অফিস চত্বরে অতিরিক্ত আলো বন্ধ রাখার অভ্যাস করতে হবে। শুধুমাত্র প্রয়োজন হলেই বাতি জ্বালিয়ে রাখা যাবে। লোকজনকে মাস্টার সুইচ লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যাতে কাজ শেষ হওয়ার পর সমস্ত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করে দেওয়া যায়। তবে কেবলমাত্র দিল্লি নয়, দেশের প্রতিটি রাজ্যেই AC এই তাপমাত্রায় চালানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।