
Age Wise Savings: মাসের শুরুতে স্যালারি ঢোকে। তার পর বাড়িভাড়া, বাজার, বিদ্যুতের বিল, যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচ মেটাতেই প্রায় সব টাকা শেষ। সঞ্চয়ের কথা ভাবলেও অনেকের আর হয়ে ওঠে না। এদিকে অনলাইন শপিং, বাইরের জাঙ্ক ফুড, বদ অভ্যাসে কিন্তু কয়েক হাজার টাকা সেই নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স থাকতে থাকতেই সঞ্চয়ে জোর দেওয়া জরুরি। কারণ, ২০ বছর বয়সে যে ভাবে টাকা জমানো যায়, ৫০ বা ৬০ বছর বয়সে সেই সুযোগ থাকে না। তাই আয়ের কত শতাংশ সঞ্চয় করবেন, তার একটি পরিকল্পনা থাকা দরকার। দেখে নেওয়া যাক, ২০ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত কী ভাবে সঞ্চয় করবেন। আর শুরুতেই জেনে রাখুন, মাসের শেষে যা বাঁচবে, সেটাকে সেভিংস বলে না। মাইনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে একটি অ্য়ামাউন্ট আলাদা অ্যাকাউন্টে বা কোনও স্কিমে পাঠিয়ে দেবেন। সেটাই আপনার সঞ্চয়। উদাহরণস্বরূপ, ৩০ হাজার বেতন হলে, মাসের শুরুতেই ৫-১০ হাজার টাকা সেভিংস ফান্ডে ফেলে দেবেন। লাইফস্টাইল এমন চালাবেন যেন আপনি ২০-২৫ হাজার টাকাই আয় করেন। এতে সঞ্চয় করা সহজ হবে।
২০-৩০ বছর: আয়ের ১৫-২০ শতাংশ
এই বয়সে চাকরি, ব্যবসা শুরু হয়। আয় কম। তবে এখনই সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় হলে অন্তত ৪,৫০০-৬,০০০ টাকা জমাতে পারেন। একটি এমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করুন। বিশেষ করে যাঁরা প্রাইভেট জব বা ব্যবসা করেন, তাঁদের অবশ্যই উপার্জন শুরুর প্রথম ৩-৫ বছর একটু কষ্ট করে মোটা টাকা সেভিংস করে নেওয়া উচিত। হিসেব বলছে, অন্তত এক বছর বিনা উপার্জনে চলবে, এমন পরিমাণ টাকা এমার্জেন্সি ফান্ড হিসেবে তৈরি রাখা উচিৎ। এর পাশাপাশি, এই সময় থেকেই লং টার্ম বিনিয়োগের কথা ভাবুন। সময় বেশি থাকায় চক্রবৃদ্ধি সুদের সুবিধা পাওয়া যায়। ৩০-৪০ বছরে যখন সংসারের চাপ বাড়বে, তখন এই ব্যাকআপ ফান্ড-ই আপনাকে আলাদা কনফিডেন্স দেবে।
৩০-৪০ বছর: আয়ের ২০-২৫ শতাংশ
এই সময়ে সংসার, বাড়ি এবং সন্তানের খরচ বাড়তে পারে। তাই মাসিক আয়ের ২০-২৫ শতাংশ সঞ্চয়ের টার্গেট রাখুন। ৫০ হাজার টাকা আয় হলে ১০-১২ হাজার ৫০০ টাকা জমাতে পারেন। স্বাস্থ্যবিমা অবশ্যই করে রাখবেন।
৪০-৫০ বছর: আয়ের ২৫-৩০ শতাংশ
অবসরের প্রস্তুতি শুরু করার এটাই গুরুত্বপূর্ণ সময়। সন্তানের পড়াশোনা এবং ভবিষ্যতের খরচের পাশাপাশি অবসরকালীন তহবিল তৈরি করুন। ৬০ হাজার টাকা আয় হলে ১৫-১৮ হাজার টাকা সঞ্চয়ের চেষ্টা করুন।
৫০-৬০ বছর: আয়ের ৩০-৪০ শতাংশ
অবসরের আগে ঋণ কমানো এবং সঞ্চয় বাড়ানো জরুরি। মাসে ৭০ হাজার টাকা আয় হলে ২১-২৮ হাজার টাকা জমাতে পারেন। ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ কমিয়ে স্থিতিশীল আয়ের দিকে নজর দিন।
৬০ বছরের পর: সঞ্চয়ের পাশাপাশি মূলধন রক্ষা
অবসরের পরে নিয়মিত আয় কমে যেতে পারে। পেনশন বা অন্য আয় থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী ১০-১৫ শতাংশ জমাতে পারেন। তবে চিকিৎসা ও দৈনন্দিন খরচের জন্য পর্যাপ্ত টাকা রাখুন।