
চাষাবাদ করে লাখপতি হচ্ছেন কৃষক, এমন ঘটনা খুব বেশি দেখা যায় না। বড় কৃষকেরা এবিষয়ে এগিয়ে থাকলেও, ক্ষুদ্র বা ছোট কৃষকরা চাষ করে যা রোজগার করেন, তাতে তাঁদের সংসার চালানো দুষ্কর হয়ে ওঠে। কিন্তু প্রচলিত ফসলের বাইরে গিয়ে, নয়া আইডিয়া কাজে লাগালে ক্ষুদ্র চাষিরাও যে সাফল্য পেতে পারেন, তার উদাহরণ দেখালেন বিহারের জামুইয়ের এক কৃষক। নিজের চাষের ধরনে পরিবর্তন এনে আর্থিক লাভের মুখ দেখলেন জামুইয়ের লক্ষ্মীপুর ব্লকের কর্ণিপুর গ্রামের কৃষক চন্দ্রিকা মণ্ডল।
ঠিক কী করেছেন ওই কৃষক?
চন্দ্রিকা মণ্ডল নিজে একজন ক্ষুদ্র চাষি। তাঁর দুই একর জমিতে বাটন মাশরুম চাষ করে বিরাট ফায়দা পেয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, জামুই প্রশাসনের তরফে আয়োজিত কৃষক সভা ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি প্রথম বাটন মাশরুম চাষ সম্পর্কে জানতে পারেন। বিষয়টি তাঁর পছন্দ হলে তিনি এবিষয়ে আরও আধুনিক কৃষি কৌশল এবং নতুন চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্যের খোঁজ নেন। এরপর নিজেকে একটা সুযোগ দিয়ে, এই বিশেষ মাশরুম চাষ করার প্রশিক্ষণ নেন চন্দ্রিকা। প্রশাসনিক সহায়তায় সব বিষয় বুঝে ও প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি শুরু করেন মাশরুম চাষ।
কীভাবে বাটন মাশরুম চাষ করলেন তিনি?
বাটন মাশরুম চাষ করার জন্য চন্দ্রিকা মন্ডল প্রথমে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি মাশরুম উৎপাদন ব্যবস্থা তৈরি করেন। এরপর তিনি মাশরুম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত বীজ ও প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তিনি জেনেছিলেন ভালো মাশরুম উৎপাদনের জন্য সঠিক তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার মাত্রা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই চাষের সময় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। এছাড়াও, ভালো ফলন নিশ্চিত করতে তিনি উন্নত মানের সার ব্যবহার করতেন। এইভাবে, প্রযুক্তি-ভিত্তিক পদ্ধতি অবলম্বন করেই চন্দ্রিকা শুরু করেছিলেন বাটন মাশরুম চাষ।
উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়
আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষকদের উৎপাদনের উপরও প্রভাব ফেলেছে। বাটন মাশরুমের পাশাপাশি সবজির উৎপাদনও বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করেছে। সীমিত জমির মালিক ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য মাশরুম চাষ যে একটি অতিরিক্ত আয়ের উৎস হতে পারে। তা প্রমাণ করেছেন বিহারের এই চাষি। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল মাশরুম চাষের জন্য বড় জায়গার প্রয়োজন হয় না এবং এটি একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষ করা যায়। এই কারণেই চন্দ্রিকা মণ্ডলের মতো কৃষকদের জন্য, এই চাষ অতিরিক্ত আয়ের ক্ষেত্রে প্রচলিত ফসলের একটি বিকল্প হয়ে উঠছে।
ছোট জমিতে চন্দ্রিকার চাষ উদাহরণ হয়ে উঠেছে
কৃষক চন্দ্রিকা মণ্ডলের মাত্র ২ একর কৃষি জমি রয়েছে। তিনি একজন ক্ষুদ্র কৃষক হিসেবেই এলাকায় পরিচিত। তা সত্ত্বেও, তিনি আধুনিক প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন এবং মাশরুম চাষ শুরু করেন। তাঁর এই সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে, আধুনিক কৃষিকাজের জন্য বড় এক খণ্ড জমিই যে জরুরি, তা মোটেই নয়। সঠিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং সুব্যবস্থাপনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।