Advertisement

Annapurna Yojana-এ ১৭ লক্ষের নাম বাদ! এই ৫ কারণে আটকে যেতে পারে ৩ হাজার টাকা

Annapurna Yojana 2026: অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকছে ১.৪৫ কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে। বাদ ১৭ লক্ষ! কেন নাম কাটল, ফের আবেদন করবেন কীভাবে?

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকছে ১.৪৫ কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকছে ১.৪৫ কোটি মহিলার অ্যাকাউন্টে।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 17 Aug 2026,
  • अपडेटेड 9:04 PM IST
  • অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় খবর।
  • ১৭ অগাস্ট থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে।
  • প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে।

Annapurna Yojana 2026: অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় খবর। সোমবার, ১৭ অগাস্ট থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্টের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে মোট ৪,৩৫০ কোটি টাকা পৌঁছে দেওয়ার টার্গেট স্থির করেছে রাজ্য সরকার। তবে একই সঙ্গে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। নথি যাচাইয়ের সময় প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। কেন এত আবেদন বাতিল হল? নাম বাদ পড়লে কি আবার আবেদন করা যাবে? কোথায় আবেদন করতে হবে? আর যাঁদের আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সমস্যা রয়েছে, তাঁরাই বা কী করবেন? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জানাল রাজ্য সরকার।

নবান্নে সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের সচিব মৌমিতা গোদারা। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, প্রথম দফায় বিপুল সংখ্যক আবেদন যাচাই করে যোগ্য উপভোক্তাদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যাঁদের আবেদন এখনও যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে, তাঁদের জন্যও পরে টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

২০ অগাস্টের মধ্যে কারা টাকা পাবেন?
সরকারের হিসেব অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে ১ কোটি ৬২ লক্ষ আবেদন যাচাই করা হয়েছে। সেই যাচাইয়ের পর প্রায় ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়েছে। ফলে আপাতত প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার জন্য এলিজেবল বলে ধরা হচ্ছে।

এই ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ১৭ অগাস্ট থেকে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। ২০ অগাস্টের মধ্যে পুরো টাকা পৌঁছে দেওয়ার টার্গেট রেখেছে সরকার। সব মিলিয়ে এই দফায় প্রায় ৪,৩৫০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছে সরকার।

অর্থাৎ, যাঁদের আবেদন ইতিমধ্যেই যাচাই হয়ে অনুমোদিত হয়েছে, তাঁদের নতুন করে কোনও ফর্ম ভরার প্রয়োজন নেই। সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

Advertisement

তবে এখানেই শেষ নয়। কারণ, ১০ জুলাই পর্যন্ত মোট প্রায় ১ কোটি ৮০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে এখনও বেশ কিছু আবেদনের নথি যাচাই চলছে। ফলে এখনই টাকা না ঢুকলে সেই আবেদন বাতিল হয়েছে; এমনটা ধরে নেবেন না।

১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল কেন?
এ বার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে আসা যাক। এত আবেদন বাতিল হল কেন?

নবান্নের বক্তব্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লিঙ্কের সমস্যা ধরা পড়েছে। অর্থাৎ, আবেদনকারীর আধার নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডেটার মধ্যে প্রয়োজনীয় মিল বা কানেকশন পাওয়া যায়নি। এই কারণেই প্রায় ১৭ লক্ষ বাতিল আবেদনের মধ্যে অন্তত ১০ লক্ষ আবেদন খারিজ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এর বাইরে আরও কিছু কারণ রয়েছে। যেমন;
1. কোনও আবেদনকারী সরকারি কর্মী হলে
2. আয়করদাতা হলে
3. প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলে

তাঁর আবেদন বাতিল হতে পারে। অন্নপূর্ণা যোজনায় যাতে প্রকৃত যোগ্য মহিলারাই টাকা পান, সে জন্য নথি যাচাইয়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

তাই কারও নাম তালিকায় না থাকলেই যে তিনি ইচ্ছাকৃত ভাবে বাদ পড়েছেন, এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে আধার, ব্যাঙ্ক, আয় বা অন্যান্য নথির তথ্যের ভুলের কারণেও আবেদন আটকে যেতে পারে।

নাম বাদ গেলে ফের আবেদন করা যাবে?
হ্যাঁ। এই বিষয়টি বেশ জোর দিয়েই জানিয়েছেন নবান্নের আধিকারিকরা।

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন বাতিল হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরে ফের অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এর জন্য নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে 'Social Register' অপশন ব্যবহার করতে হবে।

তবে সোমবারের সাংবাদিক বৈঠকে জানানো হয়েছে, ওই পোর্টালটি আপাতত বন্ধ রয়েছে। ২০ অগাস্ট থেকে ফের আবেদন ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ চালু হওয়ার কথা। যাঁরা মনে করছেন ভুল ভাবে তাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে, তাঁরাও ওই পোর্টালের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন।

অর্থাৎ, আপনার আবেদন বাতিল হয়েছে বলে যদি মনে হয়, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। আগে দেখে নিতে হবে, কী কারণে আবেদনটি বাতিল হয়েছে। প্রয়োজন হলে আধার ও ব্যাঙ্কের তথ্য ঠিক করে নিয়ে ফের আবেদন করা যাবে।

কোথায় গিয়ে ফের আবেদন করবেন?
নতুন করে আবেদন করার ক্ষেত্রে অনলাইন পোর্টালের 'Social Register' অপশন ব্যবহার করতে হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন জমা দিতে পারবেন।

এর পর সেই আবেদন জেলাশাসক স্তরে ফের নথি যাচাই করা হবে। সেখানে দেখা হবে আবেদনকারী প্রকল্পের সমস্ত শর্ত পূরণ করছেন কি না। নথিতে কোনও ভুল না থাকলে এবং যোগ্যতা ঠিক থাকলে পরবর্তী সময়ে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

তবে নতুন আবেদন বা পুনরায় আবেদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা মাথায় রাখতে হবে। সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ১১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের নথি যাচাইয়ের কাজ চলবে। এই যাচাই শেষ হতে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে ওই সময়ের আবেদনকারীদের টাকা পেতে কিছুটা দেরি হতে পারে।

আধার-ব্যাঙ্ক সংযোগে সমস্যা হলে কী করবেন?
এই মুহূর্তে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন বাতিলের অন্যতম বড় কারণ আধার এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগের সমস্যা। ফলে যাঁদের এই সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্যও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

প্রশাসনের তরফে বিডিও-দের ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় শিবির করে আধার এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তাই আপনার আধার নম্বর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ঠিকভাবে কানেক্টেড রয়েছে কি না, সেটি যাচাই করে নেওয়া জরুরি। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নাম, আধার কার্ডের নাম এবং অন্যান্য তথ্যের মধ্যে কোনও অসঙ্গতি থাকলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

Advertisement

কারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না?
অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সকল মহিলা এই টাকা পাবেন না। প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত রয়েছে।

সরকারের তরফে আগে জানানো হয়েছিল,
১. কোনও মহিলার নিজের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার বেশি হলে তিনি এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না।
২. একই ভাবে পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হলেও অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন।
৩. সরকারি কর্মী এবং আয়করদাতাদের ক্ষেত্রেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।

জমির মালিকানার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম রয়েছে। পুরনিগম এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকলে প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়ার নিয়মের কথা জানানো হয়েছে। তবে গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের জন্য জমি সংক্রান্ত কিছু ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে।

অর্থাৎ, শুধু ফর্ম জমা দিলেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া যাবে না। আয়, পরিবারের আর্থিক অবস্থা, সরকারি চাকরি, আয়কর এবং জমি-সহ বিভিন্ন তথ্য যাচাইয়ের পরেই যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এত কড়াকড়ি কেন?
সরকারের যুক্তি, সরকারি প্রকল্পের টাকা যাতে অযোগ্য ব্যক্তির হাতে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই এই যাচাই। অন্নপূর্ণা যোজনায় বিপুল সংখ্যক মহিলাকে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ফলে প্রকল্পের টাকা সঠিক উপভোক্তার কাছে পৌঁছনোই এখন বড় লক্ষ্য।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও আগে বলেছিলেন, সরকারি টাকার অপচয় বন্ধ করতেই তালিকা যাচাই করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আগের ব্যবস্থায় বহু ক্ষেত্রে ভুল বা অনিয়মের অভিযোগ ছিল। তাই নতুন প্রকল্পে শুরু থেকেই যোগ্যতার মাপকাঠি এবং নথি যাচাইয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সোমবার মানবাজারে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই পর্বের কাজ শেষ হওয়ার পরে ফের জনকল্যাণ শিবির করা হবে। সেখানে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এবং দিব্যাঙ্গ ভাতার মতো বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের আবেদন গ্রহণ ও পূরণ করার ব্যবস্থা করা হবে।

যাঁরা এখন টাকা পাচ্ছেন না, তাঁদের কী হবে?
এখানেই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝির সম্ভাবনা রয়েছে। কোনও আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে ১৭ থেকে ২০ অগাস্টের মধ্যে টাকা না ঢুকলেই যে তাঁর আবেদন বাতিল হয়েছে, এমন নয়।

কারণ, ১০ জুলাইয়ের পর জমা পড়া আবেদনগুলিরও একটি অংশ এখনও যাচাইয়ের মধ্যে রয়েছে। আবার ১১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত আবেদনকারীদের নথি যাচাই শেষ হতে সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

তাই প্রথমে নিজের আবেদনের বর্তমান স্ট্যাটাস জানতে হবে। যদি আবেদন আন্ডার ভেরিফিকেশন থাকে, তবে অপেক্ষা করতে হবে। আর যদি আবেদন বাতিল হয়ে থাকে, তা হলে বাতিলের কারণ খুঁজে প্রয়োজনীয় ভুল সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করার সুযোগ থাকবে।

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে এখন কী করবেন?
যাঁরা ইতিমধ্যেই যোগ্য তালিকায় রয়েছেন, তাঁরা নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়মিত চেক করুন। টাকা ঢুকেছে কি না, তা ব্যাঙ্ক, ATM বা অনলাইন ব্যাঙ্কিং পরিষেবার মাধ্যমে দেখে নিতে পারেন।

যাঁদের টাকা আসেনি, তাঁরা প্রথমেই বুঝে নিন আবেদন রিজেক্ট, আন্ডার ভেরিফিকেশন না বাতিল; কোন অবস্থায় রয়েছে। ভুল করে বার বার নতুন আবেদন না করাই ভাল।

আর যদি আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লিঙ্কে সমস্যা থাকে, তা দ্রুত ঠিক করতে হবে। প্রয়োজনে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে এবং প্রশাসনের তরফে শিবির চালু হলে সেখানে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে যেতে হবে।

সব মিলিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার অগাস্ট কিস্তিতে এক দিকে যেমন ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে ঢুকছে, অন্য দিকে ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল হয়েছে। তবে বাতিল হওয়া মানেই সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়া নয়। ভুল নথি বা তথ্যের সমস্যা থাকলে তা সংশোধন করে ফের আবেদন করার রাস্তা খোলা থাকছে।  

Advertisement

Read more!
Advertisement
Advertisement