
Annapurna Yojana 2026: অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় খবর। অগাস্টের টাকা আগামী ১৭ তারিখ থেকে দেওয়া শুরু হবে। সেটা সবাই জানেন। তবে একইসঙ্গে এই প্রকল্পে আবেদনের নিয়মেও বেশ কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মহিলাদের বাড়িতে কতগুলি ঘর রয়েছে, সেই শর্তে ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। ফলে আগে যে সমস্ত মহিলা বাড়ির ঘরের নিয়মের কারণে প্রকল্পের বাইরে চলে যাচ্ছিলেন, তাঁদের অনেকেই এ বার অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে পারেন। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গ্রামীণ এলাকায় পরিবারের বাড়িতে ঘরের সংখ্যা নিয়ে যে শর্ত ছিল, তা কিছুটা শিথিল করা হচ্ছে। এর ফলে আরও বেশি সংখ্যক মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আসতে পারেন।
কবে থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা মিলবে?
জানা গিয়েছে, অগস্ট মাসের টাকা ১৭ তারিখ থেকে যোগ্য উপভোক্তাদের দেওয়া শুরু হবে। জুলাই মাস পর্যন্ত যে আবেদনগুলি জমা পড়েছে, সেগুলির যাচাই বা ভেরিফিকেশনের কাজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।
এর পর থেকে প্রতি মাসের টাকা পাওয়ার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হবে না। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী মাস থেকে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
অর্থাৎ, আবেদন অনুমোদিত হয়ে গেলে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সময়ের কাছাকাছি টাকা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
অন্নপূর্ণা যোজনায় কত আবেদন জমা পড়েছে?
জুন মাস থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছিল। অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও ফর্ম জমা দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল। ফলে বহু মহিলা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেন।
প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৭০ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদন পাওয়ার পর বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়। আবেদনকারীর বয়স, আয়, চাকরি এবং পরিবারের পরিস্থিতি-সহ বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এর পর কারা প্রকল্পের টাকা পাওয়ার যোগ্য, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফে।
কারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন?
অন্নপূর্ণা যোজনায় মূলত ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সকল মহিলা এই প্রকল্পের টাকা পাবেন না। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে।
যে মহিলারা আয়কর দেন, তাঁরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। একই ভাবে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের চাকরিতে থাকা মহিলারাও অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় আসবেন না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলির একটি হল আবেদনকারীর নিজের আয়।
কোনও মহিলা মাসে ১০ হাজার টাকা বা তার বেশি আয় করলে তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন না। অর্থাৎ, মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার কম হওয়া জরুরি।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে।
ধরা যাক, কোনও মহিলা নিজে মাসে ৮ হাজার টাকা আয় করেন। কিন্তু তাঁর পরিবারের অন্য কোনও সদস্য মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি আয় করেন। সে ক্ষেত্রে শুধুমাত্র পরিবারের ওই সদস্যের বেশি আয়ের কারণে মহিলাটি অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা থেকে বাদ পড়বেন না। আবেদনকারীর নিজের আয়কেই এ ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বাড়িতে তিনটি ঘর থাকলেই আর বাদ নয়
অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনের সময় গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের জন্য বাড়ির ঘর নিয়েও একটি শর্ত ছিল। পরিবারের বাড়িতে তিনটি ঘর থাকলে আবেদনকারী প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না; এমন নিয়ম রাখা হয়েছিল।
এ বার সেই নিয়মে পরিবর্তন করা হচ্ছে।
গ্রামীণ এলাকায় বাড়িতে কতগুলি ঘর রয়েছে, সেই শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে তিনটি ঘর থাকার কারণে যে মহিলারা আগে প্রকল্পের বাইরে চলে যাচ্ছিলেন, তাঁদের অনেকের আবেদন নতুন নিয়মে বিবেচিত হতে পারে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তে গ্রামীণ এলাকার বহু মহিলা উপকৃত হতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্য প্রকল্পের টাকা পেলেও অন্নপূর্ণার টাকা মিলবে?
এ ক্ষেত্রেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম। কোনও ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলা রাজ্য সরকারের অন্য কোনও প্রকল্প থেকে আর্থিক সহায়তা পেলে, অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মোট ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পাওয়ার নিয়ম রয়েছে।
অর্থাৎ, একই ধরনের আর্থিক সাহায্য যাতে একাধিক প্রকল্প থেকে মিলে নির্দিষ্ট সীমার বেশি না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
তবে বিশেষ ভাবে সক্ষম মহিলাদের ক্ষেত্রে ছাড় রয়েছে। তাঁরা একই সঙ্গে দুই প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।
অন্নপূর্ণা যোজনায় গ্রামের মহিলাদের জন্য আপডেট
নতুন নিয়মে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা গ্রামীণ এলাকার মহিলাদের। কারণ বাড়ির ঘরের সংখ্যা সংক্রান্ত শর্ত কিছুটা সহজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি আবেদনকারীর নিজের আয় ১০ হাজার টাকার কম হলে পরিবারের অন্য সদস্যের বেশি আয় থাকলেও শুধুমাত্র সেই কারণে আবেদন বাতিল হবে না।
তাই যাঁরা আগে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেছিলেন এবং ভেবেছিলেন বাড়ির ঘরের সংখ্যা বা পরিবারের অন্য সদস্যের আয়ের কারণে টাকা পাবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়মে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
তবে শেষ পর্যন্ত ভেরিফিকেশনের পর প্রশাসনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। আবেদনকারীদের তাই নিজেদের দেওয়া তথ্য ও নথি সঠিক রয়েছে কি না, তা কনফার্ম করা খুব জরুরি।