
আজ থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের ভাড়া লাগছে না। বাসে উঠলে তাঁদের ‘জ়িরো ব্যালান্স’-এর একটি টিকিট দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ টিকিট দেওয়া হবে, কিন্তু তার জন্য কোনও ভাড়া দিতে হবে না। এদিকে চলতি সপ্তাহে মহিলাদের জন্য ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র প্রথম দফার টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই জানিয়েছেন, আগামী ৩ জুন থেকেই এই প্রকল্পের অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে জারি হয়ে গিয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের বিজ্ঞপ্তি। জানানো হয়েছে 'অন্নপূর্ণা যোজনা' নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের মহিলাদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের তরফে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে আগে যাঁদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছিল, সেই সব প্রাপকরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে অন্নপূর্ণা যোজনায় স্থানান্তরিত হয়ে যাবেন। সেইসঙ্গে বলা হয়েছে মাসিক ৩ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা DBT -এর মাধ্যমে প্রাপকের আধার সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্পের প্রশাসনিক কাজ আজ, সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে। আজ থেকেই পূর্ণমাত্রায় শুরু হচ্ছে আবেদন যাচাই প্রক্রিয়া। যদিও প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা ইতিমধ্যেই হয়েছে, তবে উপভোক্তাদের তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাইয়ের কাজ আজ থেকে শুরু করবেন সরকারি আধিকারিকেরা। নবান্ন সূত্রে খবর, সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে আগামী ৩ জুন থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। সেই কারণেই আজ থেকে জোরকদমে শুরু হতে চলেছে প্রশাসনিক কাজ। এই কাজের জন্য ২২টি জেলার জন্য ২২ জন সচিব ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি পর্যায়ের অফিসারদের নিয়োগ করা হয়েছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অধীনে আবেদন পত্র আশা কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা সঠিকভাবে বাড়িতে দিচ্ছেন কিনা তা খতিয়ে দেখতেই মুখ্য সচিবের তরফে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারই নজরদারি করবেন এই আইএএস অফিসাররা। এর জন্য নবান্নের তরফে টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেইমতো ২ জুন এর মধ্যেই নির্দিষ্ট টার্গেটে পৌঁছতে হবে এই আই এএস অফিসারদের। কারণ রাজ্য ৩ জুন থেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অধীনে আর্থিক সহায়তা দেওয়া শুরু হবে।
অনলাইন ও অফলাইন- দুইভাবেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পাওয়া যাচ্ছে। অফলাইন ফর্ম বেরিয়েছে গত বুধবার, ২৭ মে। অনলাইনে ফর্ম পূরণ শুরু হয়েছে ২৯ মে থেকে। অফলাইনে বিডিও অফিস, ডিএম অফিস, পুরসভা ও ওয়ার্ড অফিসে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাচ্ছে। অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে গেলে, উপভোক্তাদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্য়ে ফর্ম জমা দিতে হবে। আপাতত স্থির করা হয়েছে, আগামী ৯০ দিনের মধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম জমা দিতে হবে। তবেই এই আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে।
রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ২ জুনের মধ্যে যারা অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম জমা দেবেন, তাঁদের মধ্যে যাঁদের ফর্ম গৃহীত হবে কোনও ভুল-ত্রুটি ছাড়াই, তাঁরাই জুন মাসের মধ্যে অন্নপূর্ণার প্রথম কিস্তির ৩০০০ টাকা পাবেন। অন্নপূর্ণা তহবিলের টাকা ৩ জুন থেকেই ডিবিটি-র মাধ্যমে দেওয়া শুরু হবে। পাশাপাশি যদি কেউ আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তা থাকেন, তবে এখনই ফর্ম জমা করতে না পারলেও, এই মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ টাকা পাবেন।
জুন মাসেই ৩,০০০ টাকার প্রথম কিস্তি পেতে মহিলাদের ঠিক কী কী করতে হবে, দেখে নিন তার সম্পূর্ণ গাইডলাইন-
অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম দফার টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো শুরু হবে আগামী ৩ জুন থেকে। কিন্তু এই প্রথম দফাতেই ৩,০০০ টাকা পেতে হলে আবেদনপত্র পূরণ করে জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২ জুন। আপনি যদি ২ জুনের পর ফর্ম জমা দেন, তবে কোনওভাবেই জুন মাসের কিস্তি পাবেন না। কারণ হিসেবে নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর জানিয়েছে, আবেদনপত্র ও নথিপত্র যাচাই করতে কিছুটা সময় লাগবে। সেক্ষেত্রে আপনার নাম পরবর্তী মাসের তালিকায় নথিভুক্ত হবে। অনেকের মধ্যেই এই ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে, যাঁরা আগে পূর্বতন সরকারের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' পেতেন, তাঁদের নাম হয়তো নিজে থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনায় চলে যাবে। রাজ্য সরকার এই জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাওয়া মহিলারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই টাকা পাবেন না। ৩,০০০ টাকার নতুন ব্র্যাকেটে নিজেদের নাম তুলতে গেলে আগের প্রাপকসহ প্রত্যেক আবেদনকারীকেই বাধ্যতামূলকভাবে অন্নপূর্ণা যোজনার নতুন ফর্ম পূরণ করতে হবে। যে সমস্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপক ২ জুনের মধ্যে নতুন ফর্ম জমা করতে পারবেন না, তাঁরা জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বেসলাইন টাকা হিসেবে ১,৫০০ টাকা পাবেন। তবে নতুন অন্নপূর্ণা যোজনার পুরো ৩,০০০ টাকা তখনই চালু হবে, যখন তাঁদের নতুন আবেদনপত্রটি সরকারিভাবে খতিয়ে দেখে অনুমোদন দেওয়া হবে।
ডিবিটি জরুরি
আপনার অ্যাকাউন্টে ৩ জুনই ৩,০০০ টাকার প্রথম কিস্তি ঢুকুক চাইলে আজই আপনার নিকটবর্তী অফিস বা অনলাইন থেকে ফর্ম সংগ্রহ করুন, প্রয়োজনীয় কেওয়াইসি (KYC) নথি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডিটেইলস জুড়ে অবিলম্বে জমা দিন। রাজ্য় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লিঙ্ক থাকলে, তবেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাওয়া যাবে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেতে উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আধার এবং এনপিসিআই (NPCI) ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যাতে সরাসরি গ্রাহকের অ্যাকাউন্টেই যায়, তার জন্য ডিরেক্ট বেনেফিট ট্রান্সফারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যাঙ্কে গিয়ে ফর্ম পূরণ করে যেমন ডিবিটি করা যায়, তেমনই এনপিসিআই-র ওয়েবসাইট থেকে এবং উমঙ্গ অ্যাপ থেকেও ডিবিটি করা যায়। এতে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক থাকবে।