
আগামী ১৭ অগাস্ট থেকেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া শুরু হবে। প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন যোগ্য মহিলারা। বুধবার রাজ্য সচিবালয় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে প্রকল্পের আওতা থেকে কাদের বাদ রাখা হচ্ছে এবং যোগ্যতার শর্ত কী কী, তা সবিস্তারে তুলে ধরেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক
বুধবার আবেদনকারীদের আশ্বস্ত করে শুভেন্দু অধিকারী জানান,'প্রকৃত প্রাপকরা আগামী ১৭ অগাস্ট থেকেই টাকা পাওয়া শুরু করবেন। আবেদন যাচাইয়ের কাজ শেষ হলেই সরাসরি সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হবে। অর্থ দফতর জেলা ধরে ধরে এই টাকা পাঠাবে। যাঁদের নথি খতিয়ে দেখার কাজ শেষ হয়ে যাবে, প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে'।
কারা কারা পাবেন অন্নপূর্ণার টাকা
২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি মহিলা
মাসিক আয় ১০ হাজারের কম
পরিবারের আয় ১২ লাখের মধ্যে
কারা পাবেন না
পৌরনিগম এলাকায় ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকলে
কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সরকার পোষিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মীরা
তবে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা পাবেন
মহিলার মাসিক আয় ১০০০০ টাকা বা তার বেশি হলে
পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি
তবে গ্রামীণ এলাকায় একটি বাড়িতে তিনটি ঘর সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে।
অন্য কোনও ভাতা পেলে কী হবে?
অন্য কোনও সরকারি পেনশন বাবদ ৩,০০০ টাকার কম পেলে অন্নপূর্ণা যোজনায় আর্থিক সাহায্য পাবেন। তবে তার সীমা ৩০০০ টাকাই। মানে, কেউ ১৫০০ টাকার বিধবা ভাতা পেলে বাকি ১৫০০ টাকা পাবেন অন্নপূর্ণা যোজনায়।
পিএম কিষান পেলে কী হবে?
তবে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপক এবং পিএম কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত পরিবারগুলি অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি পুরো ৩,০০০ টাকাই পাবেন।
গত জুন মাসে যেখানে আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ২৮ লক্ষ। জুলাই মাসে তা এক লাফে পৌঁছেছে ১ কোটি ১৯ লক্ষের গণ্ডিতে। ফলে প্রাথমিকভাবে যে বাজেট ৩৮ লক্ষ ধরা হয়েছিল, তা বেড়ে আট মাসের জন্য আনুমানিক ৪৮ থেকে ৫০ লক্ষে গিয়ে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যে সব অভিযোগের নিষ্পত্তি এখনও হয়নি, সেগুলি খতিয়ে দেখতে বিডিও-দের অধীনে একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ পোর্টাল চালু করা হচ্ছে। গোটা বিষয়টি নজরদারি করবেন খোদ মুখ্য সচিব। নথি যাচাইয়ের এই কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে অধিকারী দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ৫০০ টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিশদ তথ্য যাচাই করত। যোগ্য আবেদনকারীদের অযথা চিন্তিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। প্রকৃত প্রাপকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাতে টাকা পৌঁছয়, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।