
অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারী ১ কোটি ৬২ লক্ষ। টাকা পাচ্ছেন ১ কোটি ৪৫ লক্ষ উপভোক্তা। এ জন্য বরাদ্দ ৪ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা। নাম বাদ ১৭ লক্ষ। তবে অন্নপূর্ণা যোজনায় নাম কাটা গেলেও চিন্তা করার দরকার নেই। ফের আবেদন করার সুযোগ দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এর পাশাপাশি অযোগ্য কেউ এই স্কিমের সুবিধা পেলেও অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, 'এই মুহূর্তে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা এই স্কিমের সুবিধা পাচ্ছেন। স্থায়ী সরকারি কর্মী বা বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হওয়ার মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র বাদ দেওয়ার নিয়ম ছাড়া আমরা সমস্ত মহিলাকে ৩,০০০ টাকা করে দিচ্ছি'।
মঙ্গলবারই শুভেন্দু ঘোষণা করেছেন, মহিলাদের জন্য অন্নপূর্ণা যোজনায় একটি পৃথক ক্লেম অ্যান্ড অবজেকশন পোর্টাল চালু করবে রাজ্য সরকার। যাঁদের নাম বাতিল হয়েছে, তাঁরা ফের আবেদন করতে পারবেন। এমনকি অযোগ্য কোনও উপভোক্তা এই অনুদান পাচ্ছেন বলে মনে হলে সাধারণ মানুষ তা জানাতে পারবেন।
১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল কেন?
নবান্ন সূত্রে খবর, ১৭ লক্ষ আবেদন বাতিল হওয়ার প্রধান কারণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার যুক্ত না থাকা। প্রায় ১০ লক্ষ আবেদন এই কারণেই বাতিল হয়েছে। এছাড়াও আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য সরকারি চাকরি করেন কিনা, অথবা আয়কর দেন না, নথি যাচাইয়ের সময় সেই তথ্যও দেখা হয়েছে। যাঁরা ১১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের নথি যাচাইয়ের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।
কারা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাবেন না?
কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারি সংস্থায় স্থায়ী কর্মী
পঞ্চায়েত, পুরসভা বা সরকারি স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী
৬০ বছরের বেশি বয়সি
পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি
মহিলার মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি আয়
বাতিল হলে কী করবেন?
আধার এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্যা মেটাতে বিডিওদের নির্দেশ দিয়েছে নবান্ন। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিশেষ ক্যাম্প করার কথাও বলা হয়েছে। বাতিল হওয়া আবেদনকারীরা সরকারি পোর্টালের Social Register অপশনে গিয়ে ফের নিজেদের দাবি জানাতে পারবেন। ২০ অগাস্ট থেকে ফের নাম তোলার সুযোগ। জেলা শাসকের দফতরে সমস্ত নথি ফের যাচাই করা হবে। যাচাইয়ে যোগ্য প্রমাণিত হলে মিলবে মাসে মাসে আর্থিক সহায়তা।
আবেদন বাতিল নিয়ে কারও অভিযোগ বা আপত্তি থাকলেও একই পোর্টালের মাধ্যমে তা জানানো যাবে। তবে নতুন করে আবেদন করতে চাইলে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।