
পশ্চিমবঙ্গের কুর্সি দখলের আগেই বিজেপি বাংলার মহিলাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। আর সরকার গঠনের পর সেই কথা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া শুরু হয়েছে গিয়েছে মহিলাদের। ১ কোটির বেশি মহিলা পেয়ে গিয়েছেন টাকা। তবে এর উল্টো চিত্রও রয়েছে। এখনও লক্ষ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণার টাকা পাননি। তাঁদের অ্যাপ্লিকেশন আন্ডার ইনকোয়ারি হয়ে রয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, তাঁদের ঠিক কী হবে? তাঁরা কি আদৌ টাকা পাবেন? কাদের অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্ট হবে? আর অন্নপূর্ণার ভেরিফিকেশন নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়।
তাঁর মতে, এই সরকারের বয়স এখন মাত্র দু'মাস। গোটা প্রক্রিয়াটা ঠিকঠাকভাবে করতে এখনও কিছুটা সময় প্রয়োজন। বর্তমানে অ্যাপ্লিকেশন যাচাই করার কাজ চলছে। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, যোগ্য আবেদনকারীরা কোনওভাবেই বঞ্চিত হবেন না।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমাদের সরকারের বয়স দুই মাস। একটু সময় দিন। যাঁরা প্রকৃত যোগ্য, তাঁরা অবশ্যই সহযোগিতা পাবেন। অনেকেই ভুল করেছেন অনলাইন ও অফলাইনে আবেদন করতে গিয়ে। কেউ আবার দুই জায়গাতেই ফর্ম জমা দিয়ে দিয়েছেন। এসব যাচাই করার কাজ চলছে। যোগ্যরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন।'
তবে আন্ডার ইনকোয়ারিতে থাকা সবাই যে টাকা পেয়ে যাবেন, এমনটা কিন্তু নয়। বরং অনেককে রিজেক্টও হবেন বলে জানিয়েছেন দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, অ্যাপ্লিকেশন ভেরিফিকেশনের কাজ চলছে। অনেকেই নিজেদের তথ্য গোপন করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই প্রসঙ্গে মালতি আভা রায় বলেন, 'অনেকেই তথ্য গোপন করে অ্যাপ্লিকেশন করেছেন। সব তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যাঁরা প্রকল্পের নির্ধারিত মানদণ্ডের মধ্যে পড়বেন না, তাঁদের অ্যাপ্লিকেশন বাতিল করা হবে। তাঁদের এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে না।'
নথি যাচাই চলছে
১ জুলাই অন্নপূর্ণা যোজনার দ্বিতীয় দফার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু সেই সময় লক্ষ লক্ষ মহিলা টাকা পাননি বলে অভিযোগ। এমনকী তাঁদের মধ্যে অনেকের অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্টেড দেখায়। এরপরই শুরু হয়ে যায় বিতর্ক। এমন পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি বাতিলের তালিকায় থাকা অ্যাপ্লিকেশনগুলিকে আবার নতুন করে রিভেরিফিকেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্টেটাস দেখায় আন্ডার ইনকোয়ারি।
এক্ষেত্রে নতুন করে অ্যাপ্লিকেন্টদের নথি যাচাই করার কাজ চলছে। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ি বাড়ি গিয়েও চলছে যাচাই প্রক্রিয়া। সবকিছু ঠিক ঠাক থাকলেই টাকা মিলবে বলে জানা যাচ্ছে।