
অন্নপূর্ণা যোজনায় মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ৩ হাজার টাকা করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। বাংলার সব যোগ্য উপভোক্তা এই প্রকল্পে টাকা পাবেন বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সেপ্টেম্বরে ১ কোটি ৬০ লাখের কাছাকাছি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠান হয়েছে বলে নিজেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিক বিধবা মহিলাদের ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ১,৫০০ টাকা করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরেই নবান্নে এক অনুষ্ঠানে উপভোক্তাদের হাতে বর্ধিত হারে ভাতার টাকা তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, অন্নপূর্ণা ও বিধবাভাতা, দু’টি একসঙ্গে কোনওভাবেই পাবেন না উপভোক্তা। কেবলমাত্র একটি যোজনার অর্থ সাহায্যই মিলবে। দু’টি প্রকল্পের সুবিধা যাঁরা এতদিন একসঙ্গে পেতেন, এবার থেকে তাঁদের যে কোনও একটি বেছে নিতে নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার।
একসঙ্গে নয় অন্নপূর্ণা ও বিধবা ভাতা
রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজ কল্যাণ দফতরের সচিবের জারি করা নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে কলকাতা পুরসভার কমিশনার এবং রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের। জারি করা নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব বিধবা ভাতা প্রাপক বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁরা কোন ভাতাটি চালু রাখতে চান এবং কোনটি ছেড়ে দিতে চান, তা তাঁদের লিখিতভাবে জানাতে হবে। এর জন্য নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করতে হবে উপভোক্তাকে। যে সমস্ত উপভোক্তা বিধবা ভাতার সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ সাহায্য পান, তাঁদের তালিকা সমর্থ পোর্টালে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুরসভার কমিশনার এবং রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, উপভোক্তারা কোন যোজনার অর্থ সাহায্য নেবেন, সেই ‘অপশন’ সংগ্রহ করে তা আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পোর্টালে আপলোড করতে হবে।
উপভোক্তাদের কী করতে হবে?
বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনায় মাসে ৩,০০০ টাকা এবং বিধবা পেনশনে মাসে ১,৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগেই রাজ্য সরকার আবেদন জানিয়েছিল, চাইলে বিধবা ভাতা বাদ দিয়ে অন্নপূর্ণা যোজনা বেছে নিতে পারেন সংশ্লিষ্ট মহিলা উপভোক্তারা। তাতে মাসে তিন হাজার টাকা করে পাবেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। শুধুমাত্র ব্যতিক্রম বিশেষ ভাবে সক্ষম মহিলা উপভোক্তারা। তাঁরা দু’টি প্রকল্পেরই সুবিধা পাবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে আগেই দাবি করা হয়েছিল। এ নিয়ে বাংলা ভাষায় একটি আবেদনপত্রও প্রকাশ করেছে নবান্ন। তাতে উপভোক্তারা অন্নপূর্ণা বা বিধবা ভাতার মধ্যে যে কোনও একটি বেছে নিতে পারেন। সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাকে এবার লিখিতভাবে জানাতে হবে, তিনি বিধবা পেনশন চালিয়ে যেতে চান, নাকি বিধবা পেনশনের সুবিধা ছেড়ে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা নিতে চান। দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়া বিধবা পেনশনভোগীদের তালিকা ইতিমধ্যেই ‘সমর্থ’ পোর্টালে রয়েছে। সেই তালিকা থেকে উপভোক্তাদের কাছ থেকে তাঁদের পছন্দের অপশন সংগ্রহ করে পোর্টালে আপলোড করতে হবে। জেলাশাসক এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দুই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট উপভোক্তাকে দুটির মধ্যে একটি প্রকল্প বেছে নিতে হবে। এজন্য নির্দিষ্ট ফরম্যাটে লিখিত সম্মতি নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দফতর।
একসঙ্গে সরকারের ২ টো ভাতার টাকা পাবেন কারা?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু নিয়মও শিথিল করেছে রাজ্য সরকার। উদ্দেশ্য একটাই, যাতে আরও মহিলা এই আর্থিক যোজনার সুবিধা পান। তিনি বলেন, 'এক্ষেত্রে আমরা ২ নিয়ম শিথিল করছি। যারা দিব্বাঙ্গ ভাতা পান, তাঁরা দুটো ভাতা পাবেন। ১৫০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা, সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকাও পাবেন। আর PM কিষান সম্মান নিধির ক্ষেত্রেও এক নিয়ম। আমরা এই দুটো ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করলাম।' অর্থাৎ যে সকল মহিলার এই দুই ক্ষেত্রে আগে থেকেই ভাতা পাচ্ছিলেন, তার সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকাও পাবেন।
অন্নপূর্ণার ৩০০০ পেতে সারেন্ডার করতে হবে বিধবা ভাতা?
সরকারি নিয়মে একসঙ্গে ২টি ভাতা পাওয়া যায় না। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছে, ২৫ থেকে ৬০-এর মধ্যে বয়স হলে, কেউ যদি বিধবা ভাতার ১৫০০ টাকা পান, তা সারেন্ডার করে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩০০০ টাকা পেতে পারেন। একটিমাত্র পদক্ষেপে বেড়ে যেতে পারে তাঁর মাসিক ভাতার অঙ্ক, সবটাই হবে আবেদনের ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে কেউ যদি বিধবা ভাতা পেয়ে থাকেন, তিনি নিজের ব্লকের বিডিও-কে চিঠি দিয়ে জানাতে পারেন যে, তিনি অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করছেন, তাঁর বিধবা ভাতা যেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর বিডিও অফিস থেকে জেলাস্তরে পাঠানো হবে সেই চিঠি। সেখান থেকে বাকি কাজ করা হবে। পুরসভা এলাকার ক্ষেত্রে পুরসভাতেও যোগাযোগ করা যেতে পারে, নিয়ম অন্তত এমনটাই।