
Bajaj Chetak: এক সময়ের অত্যন্ত পরিচিত স্কুটার। মাঝের কয়েক বছর বাজার থেকে প্রায় হারিয়েই গিয়েছিল। কিন্তু ইলেকট্রিক অবতারে ফেরার পর সেই পুরনো Chetak-ই যেন নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জুলাইয়ের বিক্রির পরিসংখ্যান অন্তত তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে Bajaj Chetak-এর বিক্রি বেড়েছে ৩০৭ শতাংশ! শুধু Chetak নয়, জুলাই মাসে Bajaj Auto-র সামগ্রিক টু-হুইলার ব্যবসাতেও বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। সংস্থার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে মোট ১,৬৫,৭৪৭টি টু-হুইলার ডিসপ্যাচ করেছে Bajaj Auto। গত বছরের একই মাসে সেই সংখ্যা ছিল ১,৩৯,২৭৯। অর্থাৎ বছরে প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে জুনের ১,৬৬,৯৫৬ ইউনিটের তুলনায় জুলাইয়ে মোট টু-হুইলার ডিসপ্যাচ সামান্য কমেছে।
Chetak-এর ৩০৭ শতাংশ বিক্রি বাড়ল
Bajaj-এর মোট বিক্রির মধ্যে সবচেয়ে নজরকাড়া পারফরম্যান্স করেছে Chetak। জুলাই ২০২৬-এ ৪৭,১৮৪টি Chetak বিক্রি হয়েছে বলে দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে বিক্রি হয়েছিল ১১,৫৮৪টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৩০৭ শতাংশ।
শুধু গত বছরের তুলনাতেই নয়, মাসের হিসাবেও Chetak-এর বিক্রি বেড়েছে। জুনে যেখানে ৪০,৩৭৬টি Chetak বিক্রি হয়েছিল, জুলাইয়ে সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৭,১৮৪। অর্থাৎ এক মাসে বিক্রি বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।
এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, ভারতীয় বাজারে ইলেকট্রিক স্কুটারের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে Chetak-ও নিজের জায়গা শক্ত করছে। Bajaj-এর বার্ষিক রিপোর্টেও Chetak-এর বিক্রি ও বাজারে উপস্থিতি বাড়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। FY2026-এ সংস্থার দাবি অনুযায়ী, Chetak-এর দেশীয় বিক্রি ছিল ৩,০২,৬৭৪ ইউনিট।
এক চার্জে ১৫৩ কিলোমিটার!
Chetak-এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর রেঞ্জ। বর্তমানে Bajaj-এর C Series-এ C25, C30 এবং C35—এই তিন ধরনের মডেল রয়েছে। সংস্থার এপ্রিল ২০২৬-এর আপডেট অনুযায়ী, C 3501 এবং C 3502 এক চার্জে ১৫৩ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে পারে। C 3503-এর রেঞ্জ ১৫১ কিলোমিটার। C 3001-এর রেঞ্জ ১২৭ কিলোমিটার এবং C 2501-এর রেঞ্জ ১১৩ কিলোমিটার।
অর্থাৎ প্রতিদিন অফিস, বাজার বা শহরের মধ্যে যাতায়াতের জন্য অনেক ব্যবহারকারীর কাছে এক বার চার্জেই বেশ কয়েক দিনের কাজ চালানো সম্ভব হতে পারে। অবশ্য বাস্তবে কত কিলোমিটার চলবে, তা নির্ভর করবে গতি, রাস্তার অবস্থা, ওজন, আবহাওয়া এবং রাইডিংয়ের ধরন-সহ একাধিক বিষয়ের উপর।
৩৫ টাকায় ১৫৩ কিলোমিটার
এখানেই Chetak নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা। C 35 সিরিজে রয়েছে ৩.৫ kWh ব্যাটারি। সংস্থার দাবি অনুযায়ী, এই সিরিজের নির্দিষ্ট মডেল এক চার্জে ১৫৩ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে।
ধরা যাক, বাড়িতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ ১০ টাকা। সে ক্ষেত্রে ৩.৫ ইউনিট বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করতে আনুমানিক ৩৫ টাকা লাগতে পারে। সেই হিসাবে ৩৫ টাকার বিদ্যুতে ১৫৩ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ পাওয়া সম্ভব—এমন হিসাব করা যায়।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সব জায়গায় এক নয়। চার্জিংয়ের সময় সামান্য বিদ্যুৎ ক্ষয়ও হয়। তাই বাস্তবে পুরো ব্যাটারি চার্জ করতে ৩৫ টাকার কিছুটা বেশি খরচ হতে পারে। ফলে ৩৫ টাকা এবং ১৫৩ কিলোমিটারের হিসাবটি একটি আনুমানিক হিসাব, নিশ্চিত বাস্তব খরচ নয়।
Chetak-এর একাধিক অপশন
যাঁদের বেশি রেঞ্জ দরকার, তাঁদের জন্য C35 সিরিজ। আবার তুলনামূলক কম বাজেটে ইলেকট্রিক স্কুটার কিনতে চাইলে C25 বা C30 সিরিজের মডেল রয়েছে।
বর্তমান C Series-এ ২.৫ kWh ব্যাটারির C2501-এর রেঞ্জ ১১৩ কিলোমিটার এবং ৩.০ kWh ব্যাটারির C3001-এর রেঞ্জ ১২৭ কিলোমিটার। C35 সিরিজে ৩.৫ kWh ব্যাটারি এবং সর্বোচ্চ ১৫৩ কিলোমিটার পর্যন্ত ক্লেমড রেঞ্জ রয়েছে।
নতুন C Series-এ শুধু ব্যাটারির ক্ষমতাই নয়, প্রযুক্তিতেও আপডেট এনেছে Bajaj। C35-এর নির্দিষ্ট মডেলে Google Maps, রাইডিং মোড, Hill Hold Assist এবং বড় স্টোরেজের মতো ফিচার্স রয়েছে। C3501-এ ৩৫ লিটার পর্যন্ত আন্ডার-সিট স্টোরেজ এবং ৮০ শতাংশ চার্জ হতে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে দাবি সংস্থার।