Advertisement

Bank FD র চেয়েও বেশি সুদ, বড়লোকদের সিক্রেট এই ৪ সরকারি স্কিম

Bank FD: টাকা ইনভেস্ট করবেন, কিন্তু ঝুঁকি নিতে চান না? সে ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথমেই সবাই ব্যাঙ্কের Fixed Deposit বা FD করতে ছোটেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা রেখে নিশ্চিত হারে সুদ। নিরাপদও বটে। তাই ব্যাঙ্ক FD সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়।

কিছু ক্ষেত্রে FD র তুলনায় সুদের হারও বেশি হতে পারে।কিছু ক্ষেত্রে FD র তুলনায় সুদের হারও বেশি হতে পারে।
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 09 Aug 2026,
  • अपडेटेड 7:30 PM IST
  • নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা রেখে নিশ্চিত হারে সুদ। 
  • ব্যাঙ্ক FD সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়।
  • কিন্তু শুধু FD-তেই টাকা রাখতে হবে, এমনটা নয়।

টাকা ইনভেস্ট করবেন, কিন্তু ঝুঁকি নিতে চান না? সে ক্ষেত্রে সাধারণত প্রথমেই সবাই ব্যাঙ্কের Fixed Deposit বা FD করতে ছোটেন। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য টাকা রেখে নিশ্চিত হারে সুদ। নিরাপদও বটে। তাই ব্যাঙ্ক FD সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয়। কিন্তু শুধু FD-তেই টাকা রাখতে হবে, এমনটা নয়। ব্যাঙ্কের FD এর মতোই তুলনামূলক নিরাপদ বেশ কয়েকটি সরকারি বা সরকার সাপোর্টেড বিনিয়োগের রাস্তা রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে FD র তুলনায় সুদের হারও বেশি হতে পারে। আবার কোনও কোনও প্রকল্পে বাজারের ওঠানামার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে সম্ভাব্য রিটার্ন আরও বেশি হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, সুদের হার, করের নিয়ম, বিনিয়োগের সীমা এবং টাকা তোলার শর্ত সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই শুধুমাত্র বেশি সুদের হার দেখে বিনিয়োগ না করে নিজের বয়স, প্রয়োজন, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং টাকার প্রয়োজনের সময় বিবেচনা করা জরুরি।

তা হলে FD ছাড়াও কোন কোন জায়গায় টাকা রাখা যায়? দেখে নিন।
১. NPS: অবসরের জন্য বড় ফান্ড 

অবসরের পরে নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা করার জন্য National Pension System বা NPS একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগের পথ। এটি পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা PFRDA-র নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

NPS-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এখানে বিনিয়োগের একটি অংশ বিভিন্ন ধরনের সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়। বিনিয়োগকারী চাইলে নিজের বয়স এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী ইক্যুইটি বা শেয়ার-ভিত্তিক বিনিয়োগের অংশ বেছে নিতে পারেন।

অর্থাৎ, সাধারণ FD-এর মতো এখানে সুদের হার আগে থেকে নির্দিষ্ট থাকে না। বাজারের পারফরম্যান্সের উপর রিটার্ন নির্ভর করে। সেই কারণে FD-এর তুলনায় ঝুঁকি বেশি হলেও দীর্ঘ সময়ের জন্য বিনিয়োগ করলে তুলনামূলক বেশি রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

NPS মূলত দীর্ঘমেয়াদি অবসর পরিকল্পনার জন্য তৈরি। ৬০ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী বিনিয়োগের একটি অংশ তোলার সুযোগ থাকে। বাকি অর্থ দিয়ে অ্যানুইটি কেনার ব্যবস্থা করা যায়, যার মাধ্যমে নিয়মিত পেনশন ধরনের আয় পাওয়া সম্ভব।

Advertisement

তবে NPS-এ টাকা রাখার আগে করের সুবিধা, টাকা তোলার নিয়ম এবং অ্যানুইটির শর্তগুলি ভাল করে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।

কার জন্য ভাল?
যাঁদের অবসর এখনও কয়েক বছর দূরে এবং দীর্ঘমেয়াদে টাকা তৈরি করতে চান, তাঁদের জন্য NPS বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে এটি সাধারণ FD-এর বিকল্প হিসেবে একেবারে একই ধরনের পণ্য নয়।

২. RBI Floating Rate Savings Bond: সিকিওর, রিটার্নও ভাল
তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে RBI Floating Rate Savings Bond-এর নামও উঠে আসে। নাম থেকেই বোঝা যায়, এটি রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত একটি সঞ্চয় বন্ড।

এই বন্ডে ৮.০৫ শতাংশ রিটার্ন। তবে এই সুদের হার পরিবর্তনশীল। অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময় অন্তর সুদের হার পরিবর্তিত হতে পারে। তাই বিনিয়োগের সময় সর্বশেষ সুদের হার অবশ্যই যাচাই করা দরকার।

এই বন্ড অনলাইনে RBI Retail Direct-এর মাধ্যমে কেনা যায়। এ ছাড়াও নির্দিষ্ট কিছু ব্যাঙ্ক এবং অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এর জন্য ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট প্রয়োজন হয় না।

মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়েও এই বন্ডে বিনিয়োগ শুরু করা যায়। সর্বোচ্চ বিনিয়োগের কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই বলেই প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল লক-ইন পিরিয়ড। এই বন্ড সাধারণত সাত বছরের জন্য রাখা হয়। অর্থাৎ FD-এর মতো প্রয়োজন হলেই টাকা তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।

নির্দিষ্ট বয়সের প্রবীণ বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত মেনে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেও টাকা তোলার সুযোগ থাকতে পারে। তবে তার সঙ্গে জরিমানার নিয়ম যুক্ত থাকতে পারে।

তাই যাঁদের হাতে এমন টাকা রয়েছে, যা দীর্ঘ সময়ের জন্য সরিয়ে রাখতে পারবেন, তাঁদের কাছে এই ধরনের বন্ড আকর্ষণীয় হতে পারে।

৩. Senior Citizens Savings Scheme: প্রবীণদের জন্য মাসিক আয়ের প্ল্যান
৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের ব্যক্তিদের জন্য Senior Citizens Savings Scheme বা SCSS অন্যতম পরিচিত সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প। অবসরের পরে নিয়মিত আয়ের প্রয়োজন হয় এমন প্রবীণদের কথা মাথায় রেখেই এই প্রকল্প তৈরি।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পে ৮.২ শতাংশ সুদ উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সুদের হার সরকার নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরিবর্তন করতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার আগে বর্তমান হার যাচাই করা জরুরি।

এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণ হল তুলনামূলক ভাল সুদের হার এবং সরকারি সমর্থন। বিনিয়োগের মেয়াদ সাধারণত পাঁচ বছর। প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে আরও তিন বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

আগে এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগের সীমা ছিল। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সেই সীমা বাড়িয়ে ৩০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।

ধরা যাক, কোনও প্রবীণ ব্যক্তি অবসরের পরে এককালীন একটি বড় টাকা হাতে পেয়েছেন। তিনি যদি সেই টাকা নিরাপদ জায়গায় রেখে নিয়মিত আয় করতে চান, তা হলে SCSS তাঁর জন্য বিবেচনাযোগ্য হতে পারে।

তবে সুদের উপর করের বিষয়টি মনে রাখতে হবে। বিনিয়োগ করা মূল টাকার উপর সরাসরি কর বসে না হলেও পাওয়া সুদ করযোগ্য হতে পারে। বিনিয়োগের আগে নিজের করের অবস্থাও হিসাব করা দরকার।

৪. Post Office Monthly Income Scheme: প্রতি মাসে সুদের টাকা
যাঁরা বিনিয়োগ করে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট আয় পেতে চান, তাঁদের কাছে Post Office Monthly Income Scheme বা MIS আকর্ষণীয় হতে পারে।

এই প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য হল; এককালীন টাকা জমা রাখার পর তার উপর পাওয়া সুদ মাসে মাসে হাতে আসে।

প্রদত্ত তথ্যে বর্তমানে ৭.৪ শতাংশ সুদের হার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পোস্ট অফিসের ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হারও সরকার নির্দিষ্ট সময় অন্তর সংশোধন করতে পারে।

Advertisement

এই প্রকল্পে মাত্র ১,০০০ টাকা দিয়েও অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। একক অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ৯ লক্ষ টাকা এবং যৌথ অ্যাকাউন্টে সর্বোচ্চ ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত রাখার কথা প্রদত্ত তথ্যে বলা হয়েছে।

যদি যৌথ অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা রাখা হয়, তা হলে বর্তমান ৭.৪ শতাংশ হারের হিসাবে বছরে প্রায় ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকা সুদ হতে পারে। অর্থাৎ মাসে প্রায় ৯,২৫০ টাকা।  

এই কারণেই অবসরের পরে যাঁরা প্রতি মাসে হাতে কিছু টাকা পেতে চান, তাঁদের কাছে এই প্রকল্পটি বেশ ভাল। 

মেয়াদের আগে টাকা তুললে কী হবে?
যে কোনও সঞ্চয় প্রকল্পে টাকা রাখার আগে একটি বিষয় অবশ্যই দেখতে হবে; প্রয়োজনে টাকা কত দ্রুত ফেরত পাওয়া যাবে।

Post Office MIS-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার আগে টাকা তুলে নিলে নিয়ম অনুযায়ী কেটে নেওয়া হতে পারে। প্রদত্ত তথ্যে এক বছর পর টাকা তুললে ২ শতাংশ এবং তিন বছর পর তুললে ১ শতাংশ কাটার নিয়ম রয়েছে।

অর্থাৎ, এমন টাকা এই ধরনের প্রকল্পে রাখা উচিত নয়, যা আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রয়োজন হতে পারে।

শুধু বেশি সুদ দেখেই বিনিয়োগ নয়
FD-এর তুলনায় বেশি সুদ দেখলেই যে কোনও প্রকল্পে টাকা ঢেলে দেওয়া ঠিক নয়। বিনিয়োগের আগে কয়েকটি বিষয় দেখা জরুরি।

প্রথমত, টাকা কত দিন আটকে থাকবে।

দ্বিতীয়ত, সুদের হার স্থির না পরিবর্তনশীল।

তৃতীয়ত, সুদের উপর কতটা কর দিতে হবে।

চতুর্থত, জরুরি প্রয়োজনে টাকা তোলার সুযোগ রয়েছে কি না।

পঞ্চমত, বিনিয়োগটি বাজারের সঙ্গে যুক্ত কি না।

FD-তে সাধারণত সুদের হার আগে থেকেই জানা থাকে। কিন্তু NPS-এর মতো বিনিয়োগে বাজারের ওঠানামার প্রভাব থাকতে পারে। আবার সরকারি সঞ্চয় প্রকল্পে তুলনামূলক নিরাপত্তা থাকলেও টাকা দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে পারে।

আপনার জন্য কোনটি?
যাঁরা একেবারেই বাজারের ঝুঁকি নিতে চান না, তাঁরা সরকারি সঞ্চয় প্রকল্প, পোস্ট অফিসের বিভিন্ন স্কিম বা RBI-এর বন্ডের মতো বিকল্পগুলি বিবেচনা করতে পারেন।

অবসরের পরিকল্পনা থাকলে NPS নিয়ে ভাবা যেতে পারে। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য SCSS নিয়মিত সুদের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে। আর প্রতি মাসে হাতে টাকা প্রয়োজন হলে Post Office Monthly Income Scheme বিবেচনা করা যায়।

তবে কোনও একটি প্রকল্পই সবার জন্য সেরা নয়। কারও বয়স ৩০, কারও ৬৫; দু’জনের বিনিয়োগের লক্ষ্য এক হতে পারে না। তাই নিরাপত্তা, রিটার্ন, কর এবং লিকুইডিটি; এই চারটি বিষয় একসঙ্গে বিচার করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

দ্রষ্টব্য: শেয়ার, বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলি বাজার পর্যবেক্ষণ মাত্র। এগুলি বিনিয়োগের পরামর্শ নয়। বাজারে বিনিয়োগের আগে অবশ্যই পড়াশোনা করুন এবং বিশেষজ্ঞের সাহায্য গ্রহণ করুন।

Read more!
Advertisement
Advertisement