
Banned Food Items In Flight 2026: ছুটির মেজাজে বিমানে চেপে পাড়ি দেবেন দেশ-বিদেশে? প্যাকিং করার সময় সুটকেসে মায়ের তৈরি আচার বা পছন্দের খাবার গুছিয়ে নিচ্ছেন তো? তবে একটু থামুন। বিমানে কোন খাবার নেওয়া যাবে আর কোনটি একেবারেই নিষিদ্ধ, তা না জানলে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশিতেই আপনার যাত্রা থমকে যেতে পারে। সাধারণ যাত্রী হিসেবে আমরা অনেক সময় না জেনেই এমন কিছু খাদ্যদ্রব্য সঙ্গে রাখি, যা নিরাপত্তার খাতিরে বিমান সংস্থাগুলি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। আপনার সামান্য একটি ভুলের জন্য বড় অঙ্কের জরিমানা বা আইনি জটিলতায় পড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
অনেকেই হয়তো অবাক হবেন জেনে যে, শুকনো নারকেল বা ‘কোপরা’ বিমানে বহন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। মূলত, শুকনো নারকেলের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে তেল থাকে, যা অত্যন্ত দাহ্য। মাঝ আকাশে আগুনের সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেও এটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই শুকনো নারকেলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া আপনি যদি ঝোলে-ঝালে-অম্বলে রসনাতৃপ্তির জন্য অনেকটা পরিমাণ ঘি বা মাখন সাথে রাখতে চান, তবে চেক-ইন ব্যাগেজ ছাড়া কোনো উপায় নেই। কেবিন ব্যাগে তরল বা আধা-তরল জাতীয় যে কোনও খাবার ১০০ মিলিলিটারের বেশি নেওয়ার অনুমতি মেলে না।
বাড়ির তৈরি আম বা লেবুর আচার ছাড়া যাদের ভাত রোচে না, তাদের জন্যও রয়েছে দুঃসংবাদ। আচারের তেল বা মশলার ঝোল লিক করে অন্য যাত্রীদের মালপত্র নষ্ট করতে পারে, এই আশঙ্কায় অনেক বিমান সংস্থাই এটি কেবিন ব্যাগে নেওয়ার অনুমতি দেয় না। একই নিয়ম খাটে সস বা মধু নেওয়ার ক্ষেত্রেও। ডাল বা কারি জাতীয় তরল খাবার যদি সাথে নিতেই হয়, তবে তা এয়ার টাইট কন্টেইনারে ভরে চেক-ইন লাগেজে রাখতে হবে। কোনোভাবেই হ্যান্ড ব্যাগে এগুলো রাখা যাবে না।
ফল খাওয়ার শখ থাকলেও সাবধান। কাঁঠাল বা বিশেষ কিছু ফল যাদের তীব্র গন্ধ রয়েছে, সেগুলিও অনেক সময় বিমানে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকে। এমনকি ফ্রোজেন ফুড বা বরফ দেওয়া মাছ-মাংস বহন করার ক্ষেত্রেও আপনাকে নির্দিষ্ট সংস্থার অনুমতি নিতে হবে। কারণ, এই জাতীয় খাবার থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে যা সহযাত্রীদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। বিমানে মদ্যপান করতে চাইলে তা কখনোই নিজের সাথে রাখা বোতল থেকে করা যায় না। শুল্কমুক্ত দোকান থেকে কেনা মদের বোতলও নির্দিষ্ট সিল করা প্যাকেটে থাকতে হয়।
নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, আপনার সাথে রাখা কোনও খাবার যদি স্ক্যানারে সন্দেহজনক মনে হয়, তবে তা বাজেয়াপ্ত করার পূর্ণ অধিকার তাদের রয়েছে। তাই ভ্রমণের আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের ‘নিষিদ্ধ খাবারের তালিকা’ একবার দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখবেন, নিয়ম মেনে প্যাকিং করলে কেবল আপনার সফর মসৃণ হবে না, বরং বিমানবন্দরের দীর্ঘ লাইনে অনভিপ্রেত ঝামেলা থেকেও মুক্তি পাবেন। তাই স্বাদের চেয়েও আকাশপথের নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিন।