
Best Monthly Income Plans: মাসের শেষে নির্দিষ্ট আয়। এটাই তো সবার লক্ষ্য। কিন্তু শুধু চাকরির মাইনের উপর ভরসা করলে চলবে না। যদি আপনার কাছে কিছু অতিরিক্ত টাকা থাকে, তাহলে সেটিকে সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করা প্রয়োজন। সেটা করলেই মাসে মাসে কিছু বাড়তি আয় করা সম্ভব। ২০২৬ সালে অনেকেই এখন এমন ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান খুঁজছেন, যেখান থেকে নিয়মিত মাসিক ইনকাম পাওয়া যাবে। চাকরি থাকলে প্রতি মাসে বেতন আসে। কিন্তু অবসরের পর? তখন এই ধরনের স্কিমই ভরসা। এগুলি থেকে পাওয়া টাকা নিয়মিত খরচ মেটাতে সাহায্য করে। বড় লাভ না হলেও নিশ্চিন্ত আয় দেয়; এটাই সবচেয়ে বড় বেনেফিট। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা করলে অবসর নেওয়ার পরও আয় বন্ধ হয় না। বরং বিনিয়োগ থেকেই আসে মাসিক টাকা। তাই এখন থেকেই পরিকল্পনা করা জরুরি।
কোন কোন স্কিমে মাসিক আয় পাওয়া যাবে?
২০২৬ সালে কিছু জনপ্রিয় মাসিক আয়ের স্কিম রয়েছে;
১. সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম (SCSS)
৬০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য এটি অন্যতম সেরা স্কিম। সরকার সমর্থিত হওয়ায় ঝুঁকি কম। প্রায় ৮.২% হারে সুদ পাওয়া যায়। ৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ করা যায়।
২. পোস্ট অফিস মাসিক আয় স্কিম (POMIS)
নিরাপদ বিনিয়োগ চান? তাহলে পোস্ট অফিসের এই স্কিম ভালো অপশন। বছরে প্রায় ৭.৪% সুদ এবং মাসে মাসে টাকা পাওয়া যায়।
৩. দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ড
কম ঝুঁকিতে স্থির আয় চান? সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করলে নির্দিষ্ট সময় অন্তর সুদ পাওয়া যায়।
৪. কর্পোরেট ডিপোজিট
ব্যাঙ্কের তুলনায় বেশি সুদ দেয়। তবে ঝুঁকি একটু বেশি। তাই সংস্থা যাচাই করে বিনিয়োগ করা জরুরি।
৫. মাসিক আয় মিউচুয়াল ফান্ড (MIP)
এখানে কিছু টাকা ইক্যুইটিতে এবং বাকিটা ফিক্সড ইনকামে যায়। আয় নির্ভর করে মার্কেটের উপর।
৬. প্রধানমন্ত্রী বয়স বন্দনা যোজনা (PMVVY)
বয়স্কদের জন্য বিশেষ স্কিম। নির্দিষ্ট সুদে মাসিক বা নির্দিষ্ট সময় অন্তর আয় পাওয়া যায়।
৭. লাইফ ইন্স্যুরেন্স + সেভিংস প্ল্যান
একদিকে সুরক্ষা, অন্যদিকে নির্দিষ্ট সময় পরে মাসিক আয়; দুই সুবিধাই পাওয়া যায়।
৮. সিস্টেম্যাটিক উইথড্রয়াল প্ল্যান (SWP)
মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট টাকা তোলা যায়।
৯. শেয়ার থেকে ডিভিডেন্ড
বড় কোম্পানির শেয়ার কিনলে নিয়মিত ডিভিডেন্ড পাওয়া যায়। তবে ঝুঁকি বেশি।
১০. অ্যানুইটি প্ল্যান
একবার টাকা বিনিয়োগ করলে দীর্ঘ সময় ধরে মাসিক আয় পাওয়া যায়।
বিনিয়োগের আগে কী দেখবেন?
বিনিয়োগের আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। বাজারের অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সুদের হার বেশি থাকলে বিনিয়োগ করলে লাভ বেশি হয়। নিজের প্রয়োজন বুঝে স্কিম বেছে নিতে হবে। সব স্কিম এক রকম নয়, তাই তুলনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
মাসিক আয়ের জন্য বিনিয়োগ করতে গেলে আগে ভালো করে খোঁজ নেওয়া জরুরি। কোন স্কিম আপনার জন্য ঠিক, সেটি বুঝে তবেই টাকা রাখুন। সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে ভবিষ্যৎ আর্থিকভাবে অনেকটাই নিরাপদ হবে।
Disclaimer: এই তথ্য শুধুমাত্র জনসাধারণের জ্ঞাতার্থে লেখা। বিনিয়োগের আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।