
বাইক কিনেই দায়িত্ব শেষ? দীর্ঘদিন বাইক ভাল রাখতে হলে নিয়মিত যত্ন নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে টায়ার, ইঞ্জিন অয়েল এবং ব্রেক প্যাডের দিকে নজর না দিলে মাঝপথে বিপদে পড়তে পারেন। এমনকি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ে। কিন্তু কোন যন্ত্রাংশ কত দিন অন্তর বদলানো উচিত? শুধু কিলোমিটার দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন, না কি অন্য লক্ষণও খেয়াল করতে হবে?
বাইকের টায়ার কখন বদলাবেন?
বাইকের টায়ার কত দিন টিকবে, তা নির্ভর করে ব্যবহার, রাস্তার অবস্থা এবং রক্ষণাবেক্ষণের উপর। সাধারণ ভাবে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার কিলোমিটার চলার পরে টায়ার বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে সব বাইকের ক্ষেত্রে এই হিসাব এক নয়। টায়ারের খাঁজ ক্ষয়ে গেলে, ফাটল দেখা দিলে বা বারবার হাওয়া কমে গেলে সতর্ক হন। টায়ারের গায়ে থাকা ক্ষয়ের চিহ্নও পরীক্ষা করুন। টায়ার পুরনো হয়ে গেলে, বাইরে থেকে ভাল দেখালেও বদলানো প্রয়োজন হতে পারে। প্রস্তুতকারকের নির্দেশ মেনে চলুন।
ইঞ্জিন অয়েল কত দিন অন্তর বদলাবেন?
ইঞ্জিন অয়েল বাইকের ইঞ্জিনের বিভিন্ন অংশকে সচল রাখতে সাহায্য করে। সময়মতো অয়েল না বদলালে ইঞ্জিনের ক্ষতি হতে পারে। সাধারণত বাইকের মডেল ও অয়েলের ধরন অনুযায়ী ৩,০০০ থেকে ৬,০০০ কিলোমিটার অন্তর অয়েল বদলানোর প্রয়োজন পড়তে পারে। কিছু আধুনিক বাইকে এই ব্যবধান বেশি। তাই বাইকের ম্যানুয়ালে দেওয়া নির্দেশই মেনে চলুন। ইঞ্জিন অয়েলের মাত্রাও নিয়মিত পরীক্ষা করুন। অয়েল কমে গেলে বা অস্বাভাবিক ভাবে নোংরা হয়ে গেলে মেকানিকের পরামর্শ নিন।
ব্রেক প্যাড বদলানোর সময়
ব্রেক প্যাড ক্ষয়ে গেলে ব্রেক ঠিকমতো কাজ নাও করতে পারে। সাধারণত ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার কিলোমিটার চলার পরে ব্রেক প্যাড পরীক্ষা করা জরুরি। তবে রাস্তা, চালানোর ধরন এবং ব্রেক ব্যবহারের উপর নির্ভর করে এর আয়ু কমবেশি হয়। ব্রেক চাপলে কড়কড় শব্দ, ব্রেকের কার্যকারিতা কমে যাওয়া বা প্যাড পাতলা হয়ে যাওয়া বিপদের লক্ষণ। এমন হলে দেরি না করে পরীক্ষা করান।
মনে রাখবেন, শুধু নির্দিষ্ট কিলোমিটার পূর্ণ হলেই যন্ত্রাংশ বদলাতে হবে, এমন নয়। নিয়মিত সার্ভিসিং করান। বাইকের ম্যানুয়াল মেনে চলুন। সন্দেহ হলে প্রশিক্ষিত মেকানিককে দেখান। অবহেলা করবেন না।