Advertisement

Vinod Tawde: শান্ত-শিষ্ট বিনোদ তাওড়েকে কেন UP-র দায়িত্ব দিল BJP? শাহ-নাড্ডার নজিরেই লুকিয়ে উত্তর

BJP UP In-Charge: বিজেপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে উত্তরপ্রদেশ সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। দেশের সবচেয়ে বেশি লোকসভা আসন এই রাজ্যে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় স্তরে ক্ষমতাপ্রাপ্তির যে সিঁড়ি, তার শেষ ধাপ এই রাজ্য। 

বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় স্তরে ক্ষমতাপ্রাপ্তির যে সিঁড়ি, তার শেষ ধাপ এই রাজ্য। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় স্তরে ক্ষমতাপ্রাপ্তির যে সিঁড়ি, তার শেষ ধাপ এই রাজ্য। 
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 18 Aug 2026,
  • अपडेटेड 6:16 PM IST
  • বিজেপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে উত্তরপ্রদেশ সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য।
  • দেশের সবচেয়ে বেশি লোকসভা আসন এই রাজ্যে।
  • জাতীয় স্তরে ক্ষমতাপ্রাপ্তির যে সিঁড়ি, তার শেষ ধাপ এই রাজ্য। 

BJP UP In-Charge: বিজেপির সাংগঠনিক রাজনীতিতে উত্তরপ্রদেশ সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। দেশের সবচেয়ে বেশি লোকসভা আসন এই রাজ্যে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় স্তরে ক্ষমতাপ্রাপ্তির যে সিঁড়ি, তার শেষ ধাপ এই রাজ্য। বিজেপির ইতিহাসই তার প্রমাণ। অমিত শাহ, জেপি নাড্ডার মতো নেতারা উত্তরপ্রদেশে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলানোর পরেই জাতীয় স্তরে আরও বড় পদ পেয়েছেন। অর্থাৎ, দিল্লির রাস্তা উত্তরপ্রদেশ হয়েই। সেই উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব এ বার দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক বিনোদ তাওড়ের হাতে তুলে দিল বিজেপি।

২০২৭-এর বিধানসভা ভোটের আগে এই সিদ্ধান্তকে নিছক সাংগঠনিক রদবদল ভাবলে ভুল করবেন। মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। বিজেপি কি উত্তরপ্রদেশে এমন একজন সংগঠককে আনতে চাইছে, যিনি শুধু ভোটের অঙ্ক নয়, দলের ভিতরের সমীকরণও সামলাতে পারবেন? পাশাপাশি, তাওড়ের এই দায়িত্ব কি আসলে জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় কোনও ভূমিকার প্রস্তুতি?

উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব মানেই বড় পরীক্ষা
বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং রাজ্যসভার সাংসদ বিনোদ তাওড়ে। এবার তিনিই উত্তরপ্রদেশের ইনচার্জ। তাঁর সঙ্গে সহ-ইনচার্জ হয়েছেন জগদীশ ঈশ্বরভাই পটেল।

বছর ঘুরলেি ২০২৭-এর বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে, এখন থেকেই উত্তরপ্রদেশে দলের সংগঠন আরও শক্তিশালী করতে চাইছে বিজেপি।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে UP-তে বিজেপির ফল প্রত্যাশামতো হয়নি। ফলে ২০২৭-এর লড়াইয়ে ভুলের জায়গা খুব কম।

উত্তরপ্রদেশে বিধানসভার আসন ৪০৩টি। লোকসভা আসন ৮০টি। ফলে দিল্লির রাজনীতিতেও এই রাজ্যের প্রভাব যথেষ্ট।

'দিল্লির রাস্তা ইউপি হয়েই', কেন?
ভারতের রাজনীতিতে উত্তরপ্রদেশের গুরুত্ব শুধু সংখ্যার অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় রাজনীতিতে বড় নেতাদের উত্থানের সঙ্গে এই রাজ্যের নাম জড়িয়ে।

বিজেপির ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অমিত শাহ এক সময় উত্তরপ্রদেশে বিজেপির সংগঠনের দায়িত্ব সামলেছেন। সে সময় ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিরাট সাফল্য পায় BJP। পরে তিনিই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এবং দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।

জেপি নাড্ডাও উত্তরপ্রদেশে দলের সাংগঠনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এবং জাতীয় স্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হন।

Advertisement

ফলে বিজেপির ডায়েরিতে উত্তরপ্রদেশকে শুধু একটি ‘রাজ্য’ হিসাবে দেখলে ভুল হবে।  

সেই জায়গায় বিনোদ তাওড়ের মতো জাতীয় সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্যে তাই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়েও ভাবতে বসেছেন অনেকে।

কেন তাওড়েতেই আস্থা গেরুয়া শিবিরের?
তাওড়ের রাজনৈতিক পরিচয় কিছুটা অন্য রকম। সত্যি বলতে তাঁকে নিত্যদিনের রাজনৈতিক প্রচারে সেভাবে দেখাই যায় না। কিন্তু যাঁরা সিরিয়াসলি বিজেপি করেন, তাঁরা তাঁকে ভাল করেই চেনেন। তাওড়ের মূল শক্তি হল সংগঠন সামলানো। একেবারে তৃণমূল স্তর থেকে দলের মাথায়, সর্বত্র কো-অর্ডিনশনে সিদ্ধহস্ত। ভোট প্রচার, সংগঠন বাড়ানোর কৌশলকে বাস্তবের মাটিকে কার্যকর করায় বারবার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

মহারাষ্ট্রের ওবিসি সম্প্রদায়ের নেতা তাওড়ে। সে রাজ্যে বিজেপির সংগঠন থেকেই উঠে এসেছেন। ২০১৪ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হন। এর পর দেবেন্দ্র ফড়ণবীশের সরকারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলান।

শিক্ষা, উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষা, চিকিৎসা শিক্ষা, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ, সংসদীয় বিষয় এবং সংস্কৃতি; একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব তাঁর হাতে ছিল।

কিন্তু ২০১৯ সালের মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁকে টিকিট দেয়নি। ফলে সক্রিয় নির্বাচনী রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা কমে যায়।

সেখান থেকেই অবশ্য তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারে নতুন মোড় আসে।

নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে ‘সংগঠক’ তাওড়ে
মহারাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতি থেকে দূরে সরে তাওড়ে জাতীয় স্তরে সংগঠনের কাজে আরও বেশি করে যুক্ত হন।

২০২২ সালে দ্রৌপদী মুর্মুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এনডিএ-র নির্বাচনী দায়িত্বে ছিলেন তিনি। বিভিন্ন রাজ্যের রাজনৈতিক দল এবং জোটসঙ্গীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে মুর্মুর পক্ষে সমর্থন তৈরির কাজ করেন।

২০২৫ সালে এনডিএ-র উপরাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী সি পি রাধাকৃষ্ণনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দায়িত্ব পান।

বিহারেও তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতার পরীক্ষা হয়েছে। ২০২২ সালে বিজেপির বিহার ইনচার্জ হওয়ার পর দলের সংগঠন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র ভাল রেজাল্টের পিছনেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়। 

ত্রিপুরা ও রাজস্থানে মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের সময় পর্যবেক্ষক হিসাবেও দায়িত্ব পেয়েছেন তাওড়ে। গুজরাত, পশ্চিমবঙ্গ, কর্নাটক, উত্তরাখণ্ড এবং দিল্লিতেও সাংগঠনিক ও নির্বাচনী কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

অর্থাৎ, উত্তরপ্রদেশের মতো জটিল রাজনীতির রাজ্যে কাজ করার জন্য যে ধরনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা প্রয়োজন, তাওড়ের তা রয়েছে।

২০২৪-এর ধাক্কার পর ২০২৭-এর পরীক্ষা
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে বিজেপির আসন সংখ্যা অনেকটাই কমে যায়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পিছনে উত্তরপ্রদেশের ফলও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এই ফল থেকে শিক্ষা নিয়েছে বিজেপি। তারা বুঝতে পেরেছে যে, উত্তরপ্রদেশে দলের সংগঠনকে নতুন করে সক্রিয় করতে হবে।

২০২৭-এর বিধানসভা নির্বাচন তাই বিজেপির কাছে তিনটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, রাজ্যে টানা তৃতীয়বার সরকার গড়ার লক্ষ্য।

দ্বিতীয়ত, ২০২৪-এর লোকসভা ফলের পর দল কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে, তার পরীক্ষা।

তৃতীয়ত, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তরপ্রদেশে দলের শক্তি কতটা, তার একটি বড় ইঙ্গিত মিলবে ২০২৭-এই।

তাই তাওড়ের হাতে সময়ও খুব বেশি নেই।

শুধু ভোট নয়, দলের ভিতও সামলাতে হবে
উত্তরপ্রদেশের মতো বড় রাজ্যে দলের ভিতরের বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজেপির অন্দরে তাওড়ের বেশ 'আন্ডারস্ট্যান্ডিং' ভাবমূর্তি রয়েছে। পদমর্যাদা নির্বিশেষে বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। সবার মতামত গ্রহণ করেন। পাশাপাশি কোনও সংঘাতকে বড় আকার নেওয়ার আগেই সামলানোর চেষ্টা করেন। চট করে রেগে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেন না।

তাঁর এই গুণই উত্তরপ্রদেশে বিজেপির ট্রাম্প কার্ড হতে পারে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার, রাজ্য বিজেপি সংগঠন এবং দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব; তিন স্তরের মধ্যে সমন্বয় রাখা আগামী ভোটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

Read more!
Advertisement
Advertisement