Advertisement

Train Rules: কেউ ট্রেন মিস করলে অন্য কাউকে সেই সিট দেওয়া যায়? জানুন রেলের নিয়ম

যদি প্রায়শই ট্রেনে যাতায়াত করেন, তবে রেলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই নিয়মগুলো অধিকার রক্ষা করে এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করে। জেনে নিন।

ট্রেনের সিট পাওয়ার নিয়মট্রেনের সিট পাওয়ার নিয়ম
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 19 Jun 2026,
  • अपडेटेड 2:07 PM IST

ভারতে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। ট্রেনের ভ্রমণকে সাশ্রয়ী, আরামদায়ক এবং সুবিধাজনক বলে মনে করা হয়। তবে, অনেক সময় যাত্রীদের রেলের নিয়মকানুন সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব থাকে, যা তাদের যাত্রাপথে সমস্যার কারণ হতে পারে। যদি প্রায়শই ট্রেনে যাতায়াত করেন, তবে রেলের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি। এই নিয়মগুলো অধিকার রক্ষা করে এবং নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করে। জেনে নিন।

রাতে ট্রেন থেকে মহিলা ও শিশুদের নামানো যাবে না
কখনও কখনও, মহিলা বা নাবালক শিশুদের টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করতে দেখা যায়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, রেল কর্তৃপক্ষ তাদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়। নিয়ম অনুযায়ী, রাতে কোনও মহিলা বা নাবালক শিশুকে টিকিট ছাড়া একা ট্রেনে পাওয়া গেলে, টিটিই (TTE) কোনও স্টেশনেই তাদের জোর করে ট্রেন থেকে নামাতে পারবেন না। এই নিয়মটি তাদের নিরাপত্তার জন্য তৈরি করা হয়েছে। কোনও নারী বা শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটলে, তাঁরা রেল কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করতে পারেন অথবা হেল্পলাইনে ফোন করতে পারেন।

টিটিইরা রাত ১০টার পর যাত্রীদের জাগাতে পারেন না
রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সময় যাত্রীদের বিশ্রামের সময় হিসেবে গণ্য করা হয়। সাধারণত, টিটিইরা এই সময়ে শুধুমাত্র টিকিট পরীক্ষা করার জন্য ঘুমন্ত যাত্রীদের জাগাতে পারেন না। তবে, রাতে স্টেশন থেকে ট্রেনে ওঠা যাত্রীদের ক্ষেত্রে এই নিয়মটি প্রযোজ্য নয়। এই ধরনের যাত্রীদের জন্য টিকিট পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। 

মাঝের বার্থ খোলার সঠিক সময় কোনটি?
স্লিপার এবং এসি থ্রি-টিয়ার কোচে, মাঝের বার্থ প্রায়শই যাত্রীদের মধ্যে বিতর্কের একটি বিষয় হয়ে থাকে। রেলওয়ের নিয়ম অনুযায়ী, মাঝের বার্থ শুধুমাত্র রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে খোলা যায়। দিনের বেলায়, নিচের বার্থে বসা যাত্রীদের বসার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।যদি কোনো যাত্রী দিনের বেলায় মাঝের বার্থটি খুলতে অস্বীকার করেন, তাহলে তিনি অভিযোগ করতে পারেন। রাত ১০টার পর মাঝের বার্থ খুলতে বাধা দেওয়াও অন্যায় বলে গণ্য করা হয়।

Advertisement

যদি ট্রেন মিস করেন তাহলে কি অন্য কেউ আপনার আসনটি পাবে?
অনেক যাত্রী মনে করেন, তাঁরা সময়মতো নিজেদের কোচে না পৌঁছলে তাঁদের আসনটি অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু সবসময় এমনটা হয় না। যদি কোনও কারণে নির্ধারিত কোচে উঠতে না পারেন এবং অন্য কোনও কোচে গিয়ে পড়েন, তাহলে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। বেশিরভাগ ট্রেনের সব বগি সংযুক্ত থাকে, ফলে দেরিতে নিজের আসনে পৌঁছতে পারেন। কিছু নির্দিষ্ট স্টেশনে টিটিই (TTE) অপেক্ষা করেন, ফলে আসনটি সঙ্গে সঙ্গে অন্য কোনও যাত্রীকে দিয়ে দেওয়া হয় না।

প্রয়োজনে যাত্রাপথ বাড়াতে পারেন
কখনও কখনও, ভ্রমণের পরিকল্পনা অপ্রত্যাশিতভাবে বদলে যায় এবং নির্ধারিত স্টেশনের বাইরে যেতে হয়। এই ধরনের পরিস্থিতিতে, রেলওয়ে যাত্রাপথ বাড়ানোর সুযোগ দেয়। টিটিই-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে পরবর্তী স্টেশন পর্যন্ত যাত্রা চালিয়ে যেতে পারেন। এতে নতুন টিকিট কেনার প্রয়োজন হয় না এবং যাত্রা আরও সহজ হয়ে ওঠে।

রাতে উচ্চস্বরে গান শোনা নিষিদ্ধ
রেল কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আরামের বিষয়ে বিশেষ যত্ন নেয়। তাই, রাতে মোবাইল ফোনে উচ্চস্বরে গান শোনা, ভিডিও দেখা বা স্পিকারে কথা বলা অনুচিত বলে বিবেচিত হয়। যদি কোনও যাত্রী অন্য যাত্রীদের ঘুম বা বিশ্রামে ব্যাঘাত ঘটান, তবে অভিযোগ দায়ের করা যেতে পারে। রাতে হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করাই শ্রেয়।

আরপিএফ এবং জিআরপি-র ভূমিকা কী?
অনেকে মনে করেন, আরপিএফ এবং জিআরপি টিকিটও পরীক্ষা করতে পারে, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। আরপিএফ (রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স) এবং জিআরপি (গভর্নমেন্ট রেলওয়ে পুলিশ)-এর প্রধান ভূমিকা হলো যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা। সাধারণত, শুধুমাত্র অনুমোদিত রেল কর্মচারী এবং টিটিই-দেরই টিকিট চেক করার অধিকার রয়েছে। টিকিট চেকের নামে কেউ যদি অপ্রয়োজনীয় হয়রানি করে, তাহলে রেল কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করা যেতে পারে।

ভ্রমণের সময় অধিকার সম্পর্কে জানুন
ভ্রমণের সময় অধিকার এবং রেলওয়ের নিয়মকানুন সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি যেকোনও ভুল বোঝাবুঝি, বিবাদ বা সমস্যা এড়াতে সাহায্য করবে। সঠিক তথ্য থাকলে, অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে রেলওয়ের সাহায্য চাইতে পারবেন।

ট্রেনে ভ্রমণের আগে রেলওয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো জেনে রাখা উপকারী হতে পারে। টিকিট চেকিং, মাঝের বার্থের নিয়ম বা রাতের যাত্রীদের অধিকার—এই নিয়মগুলো জানা থাকলে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা থেকে বাঁচতে পারবেন। পরের বার ট্রেনে ভ্রমণের সময় এই নিয়মগুলো অবশ্যই মনে রাখবেন। সঠিক তথ্যই একটি নিরাপদ, আরামদায়ক এবং আনন্দদায়ক যাত্রার চাবিকাঠি।

Read more!
Advertisement
Advertisement