Advertisement

Perfume Carrying Rules In Flight: পারফিউম নিয়ে বিমানে সফর করা যায়? DGCA-র নিয়মকানুন জেনে নিন

Perfume In Flight: অনেকের মনেই ভয় থাকে, বিমান যাত্রার সময় ব্যাগে পারফিউম রাখলে যদি কাচের বোতল ভেঙে যায়? বা বিমানবন্দরে নিরাপত্তারক্ষীরা যদি দামি পারফিউমটা সোজা ডাস্টবিনে ফেলে দেন?

বিমানে পারফিউম নেওয়ার নিয়মবিমানে পারফিউম নেওয়ার নিয়ম
Aajtak Bangla
  • কলকাতা ,
  • 10 Jun 2026,
  • अपडेटेड 5:12 PM IST

সবে ৬-৭ হাজার টাকা খরচ করে শখের আফনান (Afnan) বা আরমাফ (Armaf)-র মতো একটি দামি পারফিউম কিনেছেন। দু'দিন পরেই ফ্লাইট। আর ঠিক এই মুহূর্তেই কপালে ভাঁজ! ব্যাগে রাখলে যদি কাচের বোতল ভেঙে যায়? বা বিমানবন্দরে নিরাপত্তারক্ষীরা যদি দামি পারফিউমটা সোজা ডাস্টবিনে ফেলে দেন?

ভয়টা একেবারেই অমূলক নয়। ভারতে বেশিরভাগ ফুল-সাইজ পারফিউমের বোতল ১০০ মিলিলিটার (100ml) বা তার বেশি হয়। অর্থাৎ, ডোমেস্টিক বা ইন্টারন্যাশনাল— ফ্লাইটের কড়া নিয়মের একেবারে বর্ডারলাইনে গিয়ে দাঁড়ায় এই বোতলগুলো। শখের সুগন্ধি নিয়ে কীভাবে বিমানে উঠবেন, কোথায় পারফিউম লিক করার ভয় থাকে আর কোন উপায়ে নিশ্চিন্তে সুগন্ধি নিয়ে সফর করা যায়— রইল তারই বিস্তারিত গাইডলাইন।

১০০ মিলিলিটারের কড়াকড়ি 

ইন্ডিগো (IndiGo) ধরে মুম্বই যান বা এমিরেটস (Emirates) চেপে দুবাই- ভারত সরকার ডিজিএসিএ (DGCA) এবং বিসিএএস (BCAS)-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিয়মই কঠোরভাবে মেনে চলে। নিয়মটি হল: কেবিন ব্যাগেজে ১০০ মিলিলিটারের বেশি কোনও তরল বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

১০০ মিলিলিটারের বোতল সঙ্গে রাখার ক্ষেত্রেও একটি প্যাঁচ রয়েছে। আপনার পারফিউমের বোতলটিকে একটি স্বচ্ছ, এক লিটারের জিপ-লক ব্যাগের মধ্যে অন্যান্য সমস্ত তরল সামগ্রীর (ফেসওয়াশ, ময়শ্চারাইজার ইত্যাদি) সঙ্গে অনায়াসে ফিট হতে হবে। মুশকিল হল, পারফিউমের ভারী কাচের বোতল ওই ব্যাগের বেশিরভাগ জায়গাই দখল করে নেয়।

আর ১২০ বা ১৫০ মিলিলিটারের বোতল লুকিয়ে পার করার চেষ্টা? ভুলেও এই কাজ করবেন না। সিআইএসএফ (CISF) আধিকারিকরা স্ক্যানারে দেখার সঙ্গে সঙ্গে আপনার ৫,০০০ টাকা দামের পারফিউমটি সোজা ডাস্টবিনে ফেলে দেবেন। প্রতিদিন দেশের প্রতিটি বড় বিমানবন্দরে অসংখ্য যাত্রীর সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে।

চেনা ছকে যে বিপদগুলো লুকিয়ে

ফ্লাইটের নিয়মের বেড়াজালে পড়ে যাত্রীরা সাধারণত দুটি ভুল রাস্তা বেছে নেন, যা আখেরে চরম বিপদের কারণ হয়।

প্রথমত, অনেকেই পুরো পারফিউমের বোতলটি চেক-ইন ব্যাগেজে (Checked Baggage) ভরে দেন। এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। বিমানবন্দর কর্মীদের লাগেজ ওঠানো-নামানোর সময় ভারী কাচের বোতল ভাঙার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া, হাজার হাজার ফুট ওপরে বায়ুচাপের তারতম্যে পারফিউমের পাম্প লিক করে আপনার সাধের জামাকাপড়ে দাগ লেগে যাওয়ার ঘটনাও হামেশাই ঘটে।

Advertisement

দ্বিতীয়ত, কেউ কেউ আবার পারফিউমের পুরো বোতলটাই কেবিনে (Full Bottle in Cabin) নিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন। এখানেই বাজেয়াপ্ত হওয়ার সবচেয়ে বড় ভয় থাকে। নিয়ম মেনে ১০০ মিলিলিটারের বোতল সঙ্গে রাখলেও, তা ব্যাগে এতই বেশি জায়গা নেয় যে অন্যান্য দরকারি জিনিস রাখার আর কোনও উপায়ই থাকে না। আর বোতল যদি ১০০ মিলিলিটারের চেয়ে একটুও বড় হয়, তবে তা নির্ঘাত নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে বাজেয়াপ্ত হবে।

এর ঠিক উল্টো দিকে রয়েছে সবচেয়ে নিরাপদ উপায়— ৮ মিলিলিটারের ট্রাভেল অ্যাটোমাইজার। এতে ঝুঁকি আক্ষরিক অর্থেই শূন্য। এটি পুরোপুরি বিমানবন্দরের নিয়ম-সম্মত, উচ্চতার চাপে লিক করার কোনও ভয় নেই এবং লাগেজে একেবারে সামান্য জায়গা নেয়।

৮ মিলিলিটার-ই কি সফরের জন্য যথেষ্ট? অঙ্কের হিসেব কী বলছে?

সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হল, আপনার দামি বোতলটি বাড়িতে যত্নে তুলে রাখা এবং শুধুমাত্র যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু একটি ‘এভিয়েশন-গ্রেড’ (Aviation-grade) ট্রাভেল অ্যাটোমাইজারে (যেমন Pardevo Classic) ভরে সঙ্গে নেওয়া।

কিন্তু ৮ মিলিলিটার পারফিউম কি একটি ট্রিপের জন্য সত্যিই যথেষ্ট? আসুন হিসেব করে দেখা যাক:

একটি সাধারণ স্প্রে নজল থেকে প্রতিবার প্রায় ০.১ মিলিলিটার পারফিউম বেরোয়।

একটি ৮ মিলিলিটার অ্যাটোমাইজারে মোটামুটি ৮০ বার স্প্রে করা যায়।

দিনে ৩ বার স্প্রে করলে, এটি ২৬ দিন অনায়াসে চলবে।

দিনে ৫ বার স্প্রে করলেও ১৬ দিন পার হয়ে যাবে।

অর্থাৎ, এক সপ্তাহের ছুটি হোক বা বিজনেস ট্রিপ— একবার অ্যাটোমাইজারটি ভর্তি করে নিলে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি।

এক ফোঁটাও না ফেলে পারফিউম ভরবেন কীভাবে?

ছোট্ট প্লাস্টিকের ফানেল দিয়ে পারফিউম ভরতে গিয়ে অর্ধেকটা মাটিতে ফেলার দিন শেষ। আধুনিক ট্রাভেল অ্যাটোমাইজারগুলোতে ‘বটম-ফিল’ (Bottom-fill) মেকানিজ়ম থাকে, যার সাহায্যে মূল বোতল থেকে সরাসরি পারফিউম ট্রান্সফার করা যায়।

১. অ্যাটোমাইজারের বেস বা তলার অংশটি খুলুন: ফিল পোর্ট বের করার জন্য অ্যাটোমাইজারের লেদার বা মেটালের তৈরি তলার আবরণটি ঘুরিয়ে বা টেনে খুলে ফেলুন। দেখবেন একেবারে নীচে একটি ছোট্ট ছিদ্র বা 'ফিল পোর্ট' (fill port) রয়েছে।

২. মূল পারফিউমের বোতলের সঙ্গে জুড়ুন: আপনার ফুল-সাইজ পারফিউমের স্প্রে ক্যাপটি (উপরের অংশ) খুলে নিন। এবার অ্যাটোমাইজারটি উল্টো করে ধরে তার তলার ছিদ্রটি পারফিউম বোতলের উন্মুক্ত প্লাস্টিকের নজ়লের ওপর শক্ত করে চেপে ধরুন।

৩. পাম্প করে পারফিউম ভরুন: অ্যাটোমাইজারটি ১০ থেকে ১৫ বার ওপর-নীচ করে পাম্প করুন। কাচের ভায়ালটি ধীরে ধীরে ভর্তি হতে দেখবেন। যখনই সামান্য চাপ বা বাধা অনুভব করবেন, তৎক্ষণাৎ পাম্প করা থামিয়ে দিন। অতিরিক্ত ভরলে ভেতরের সিল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৪. বন্ধ করে ব্যাগে ভরে নিন: বেস বা তলার অংশটি আবার আটকে দিন। আপনার অ্যাটোমাইজারটি এখন সম্পূর্ণ এয়ারটাইট এবং বিমানের ভেতরের বায়ুচাপ সামলানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। সরাসরি আপনার জিপ-লক ব্যাগে এটি ভরে নিন।

আপনার কালেকশনের সঙ্গে কি এটি মানানসই?

আপনার পারফিউমে যদি একটি স্ট্যান্ডার্ড স্প্রে নজল থাকে, তবে উত্তরটি হল— হ্যাঁ। লতাফা (Lattafa), রাসাসি (Rasasi) বা আফনান (Afnan)-এর মতো জনপ্রিয় মিডল ইস্টার্ন ব্র্যান্ড থেকে শুরু করে আরমানি (Armani) বা ডাভিডফ (Davidoff)-এর মতো মেনস্ট্রিম ডিজাইনার ব্র্যান্ড— সবার সঙ্গেই এই অ্যাটোমাইজারগুলো খাপে খাপে বসে যায়।

উন্নত মানের অ্যাটোমাইজারে সিল করা কাচের বডি ব্যবহার করা হয়, ফলে খুব কড়া বা হাই-কনসেন্ট্রেশন পারফিউম রাখলেও সুগন্ধির গুণমান এতটুকু নষ্ট হয় না।

সড়কপথে বা ট্রেনে সফরের ক্ষেত্রে কী হবে?

Advertisement

বন্দেভারত এক্সপ্রেস বা পাহাড়ে রোড ট্রিপের ক্ষেত্রে তরল বহনের ওই ১০০ মিলিলিটারের নিয়ম খাটে না ঠিকই, কিন্তু পারফিউম বোতল ভাঙার ঝুঁকিটা থেকেই যায়। গাড়ির ডিকিতে বা ট্রেনের সিটের ওপরে একটা ভারী, ভঙ্গুর কাচের বোতল রাখা মানে যে কোনও সময় একটা বড়সড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি নেওয়া। অ্যাটোমাইজার ব্যবহার করলে আপনার ব্যাগ যেমন হালকা থাকে, জামাকাপড় নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না, তেমনই আপনার ৮,০০০ টাকার শখের পারফিউমটিও বাড়িতে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে।

 

Read more!
Advertisement
Advertisement