
হড়পা বানে বিধ্বস্ত নেপাল। ইতিমধ্যেই মৃতের সংখ্যা পেরিয়ে গিয়েছে ৬০০। তারমধ্যেই আবারও নেপালের জন্য সতর্কতা জারি করল চিন। কাঠমাণ্ডুকে অ্যালার্ট করে বেজিংয়ের তরফে জানানো হল, লেহেন্দে নদীর উপরের দিকে যে হ্রদটি হিমবাহ ধসের ফলে তৈরি হয়েছে, তা যে কোনও সময় পাড় ধসিয়ে নীচের দিকে নেমে আসতে পারে। হ্রদটি ভেঙে গেলে নদীতে সর্বোচ্চ জলপ্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ কিউবিক মিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।
নেপালের বিদেশ মন্ত্রককে বার্তা দিয়ে চিনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুতে নেপাল ও তিব্বতের কিছু অংশে ভয়াবহ হড়পা বান আছড়ে পড়ার পর যে হ্রদটি তৈরি হতে শুরু করেছিল, তার জলের রঙ ক্রমশ গাঢ় হয়ে উঠছে। এর অর্থ হতে পারে, হ্রদটি যে কোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে।
চিনের তরফে বলা হয়েছে, "গত পরশু দিন থেকে তৈরি হচ্ছিল ওই হ্রদ। এই হ্রদের জলের রঙ ক্রমাগত গাঢ় হচ্ছে। এর অর্থ হল এটি ভেঙে পড়তে পারে।" বেজিংয়ের পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, জলের পরিমাণ খুব বেশি না হওয়ায় নিম্নাঞ্চলের নদীগুলিতে জলপ্রবাহ সামান্য বাড়তে পারে, তবে উল্লেখযোগ্য হারে জলস্তর বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম।
তবে, চিনা কর্তৃপক্ষ নদীর অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে। হিমবাহ ধসে যাওয়ার ফলে এই হ্রদটি তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই হিমবাহ ধসের ফলেই নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা হয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
ধসের ফলে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ দিয়ে তৈরি একটি প্রাকৃতিক বাঁধের কারণে এই হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সেই হ্রদই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। চিনের দিকে চোচেন নদী এবং নেপালের দিকে পুরেপু নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে হ্রদটি তৈরি হয়েছে। চিনের জলসম্পদ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির জলস্তর ধীরে ধীরে বাড়ছে। শুক্রবার পর্যন্ত হ্রদটিতে প্রায় ২৫ লক্ষ ঘনমিটার জল জমা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
অস্থায়ী হ্রদটির বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা এবং তার জেরে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনায় নেপালের প্রশাসন এখনও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হিমালয়ের এই দেশটি যখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে, তখনই নতুন করে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ওই বন্যায় অন্তত ৫৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিব্বতে অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
অস্থায়ী হ্রদটির বাঁধ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা এবং তার জেরে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনায় নেপালের প্রশাসন এখনও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হিমালয়ের এই দেশটি যখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছে, তখনই নতুন করে এই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।