
অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ইতিমধ্যেই ঢুকতে শুরু করে দিয়েছে রাজ্যের মহিলাদের অ্যাকাউন্টে। এখনও পর্যন্ত বাংলার ৫০ লক্ষ মা-বোন এই টাকা পেয়ে গিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কোলাঘাটের বলাকা মঞ্চে এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেকথা উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গতকাল পর্যন্ত, ৫০ লক্ষ মা-বোন-দিদিকে, ৩ হাজার টাকা করে ট্রান্সফার করে দিয়েছি। প্রথম দিনই আমরা ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জনকে দিয়েছি। এটা আমাদের সবচেয়ে বড় অ্যাচিভমেন্ট।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের সব যোগ্য উপভোক্তা এই প্রকল্পে টাকা পাবেন বলে স্পষ্ট করে দিয়েছে নতুন সরকার। অন্নপূর্ণা যোজনায় ফর্ম পূরণ আগামী ৩ মাস চলবে। অন্নপূর্ণা যোজনা জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলাদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। সুবিধাভোগীরা সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের (DBT) মাধ্যমে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা পাবেন। গত বুধবার থেকে সেই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির ৩০০০ টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের পোর্টাল লঞ্চ করা হয়েছে। https://socialregistry.wb.gov.in/ অ্যাড্রেসে একটি ওয়েবসাইট লঞ্চ করা হয়েছে। যেখান থেকেই অনলাইনে আবেদন করা যাচ্ছে। বিপুল সংখ্যক মহিলা প্রতিদিনই আবেদন করছেন। সেই আবেদন সরকারি পোর্টালে আপলোড করা হচ্ছে। তাতে সময় লাগছে। আবেদন করার পরেও আপনার টাকা না ঢুকলে তাই চিন্তার কোনও কারণ নেই। আবেদন সরকারি পোর্টালে আপলোড হওয়ার পরে ভেরিফিকেশন হচ্ছে। সেই সব প্রক্রিয়া শেষ হলেই টাকা ছেড়ে দেওয়া হবে সরকারের তরফে।
অফলাইনে পঞ্চায়েত, পুরসভা, বিডিও অফিস থেকেও আবেদন করা যাচ্ছে। যারা বাইরে বেরিয়ে আবেদন করতে পারবেন না, অনলাইন আবেদনও করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য বাড়িতে সাহায্য়কারী পাঠিয়ে ফর্ম ফিলআপ করে দেওয়া হবে। রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ডেটা ভেরিফিকেশনে জোর দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন, সরকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম ফিলআপে সাহায্য করছে। তেমনই সমস্ত ডেটা পরীক্ষার পরেই দেওয়া হবে প্রকল্পের টাকা।
ইতিমধ্যে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে ভেরিফিকেশনের জন্য শুরু হয়ে গিয়েছে ফোনও। সেখানে ফর্মে যে সমস্ত তথ্য পূরণ করা হয়েছে তা পুনরায় জানতে চাওয়া হচ্ছে বলেই খবর। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো দুর্নীতি যেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে না হয়, প্রকৃত উপভোক্তারাই এই প্রকল্পের সুবিধা যাতে পায় তা নিশ্চিত করবে রাজ্য সরকার। সেই কারণেই এবার করা হচ্ছে বাড়তি ভেরিফিকেশন।
বেশ কয়েকজনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী,পুরসভা থেকে ফোন করে সরাসরি জানতে চাওয়া হচ্ছে, সেই মহিলা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতেন কিনা, বর্তমানে কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত বা মাসিক ইনকাম কত, পরিবারের প্রধান কী কাজ করেন ইত্যাদি। শুধু তাই নয়, বাড়িতে গাড়ি আছে কিনা, বাড়িতে কয়টি ঘর আছে, ইত্যাদি তথ্যও ফোন করে জানতে চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মতো দুর্নীতি যাতে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে না হয় তার জন্য এই বাড়তি ভেরিফিকেশন।