
ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে ডিল হয়ে গিয়েছে। খুলে গিয়েছে হরমুজ। এমন পরিস্থিতিতে দাম কমছে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের। কিন্তু পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম কমছে কই!
আসলে আমেরিকা-ইরান যুদ্ধকালে একটা সময় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। তখন দেশের বাজারে দাম বেড়েছিল পেট্রোল ও ডিজেলের। কিন্তু এখন হু হু করে পড়ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। যদিও তারপরও পেট্রোল ও ডিজেলের দাম একই জায়গায় রয়েছে।
এখন প্রশ্ন হল, এখনই কি দাম কমে যাবে পেট্রোল এবং ডিজেলের? আর এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস প্রতিমন্ত্রী সুরেশ গোপী। তিনি জানিয়েছেন, ব্যারেল প্রতি ক্রুড অয়েলের দাম কমেছে ঠিকই। তবে এখন যে দেশের বাজারে তেলের দাম কমে যাবে, এটা আশা করা ঠিক হবে না।
দ্রুত দাম কমবে না পেট্রোল, ডিজেলের
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় গোপী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। কিন্তু সেই তেল কিনে দেশে আনতে অনেকটা সময় লাগবে। যেহেতু এই তেল হরমুজ প্রণালী থেকে আসবে, তাই সেটা ভারতে পৌঁছতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যাবে। তারপর সেই অপরিশোধিত তেলকে রিফাইন করতে হবে। এরপর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গোপী আরও জানান, বর্তমানে ৩.৯৪ টাকার মতো সরাসরি বেড়েছে তেলের দাম। তবে সেই দামটা কমার এখনই সম্ভাবনা নেই।
তেল কোম্পানিগুলির উপর চাপ রয়েছে...
মন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি বছরে খুবই চাপে পড়েছে তেল সংস্থাগুলি। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ, অশান্ত হরমুজের কারণে বিরটা বিপদে পড়ে এই সংস্থাগুলি। এমন পরিস্থিতিতে সব কিছু স্বাভাবিক রাখতে প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকার লোকসান সইতে হয়েছে ভারত সরকারকে। কোনও রাজ্য সরকার ট্যাক্স কমায়নি। আর সেটাই ছিল সমস্যার কারণ।
ভারত কিছুটা সুরহা পাবে
এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছে আইসিআইসিআই সিকিউরিটিজ। তারা জানিয়েছে, ব্যারেল প্রতি ১০ থেকে ১৫ ডলার দাম কমলে ভারতের তেল আমদানীর বিল প্রতিমাসে ১.৫ থেকে ১.৮ বিলিয়ন ডলার কমবে। আর অপরিশোধিত তেলের দাম কমায় গ্যাস এবং তেল বিক্রি করে লাভ বাড়বে। এই সংস্থা আরও দাবি করেছে, তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের কাছাকাছি থাকলে আগামী ২ বছরের মধ্যে ওএনজিসি এবং অয়েল ইন্ডিয়া লাভেই থাকবে। তবে বিশ্ব বাজারে দাম কমলেও এখনই পেট্রোল ও ডিজেলের রেট নামার সম্ভাবনা কম।