
কৃষিকাজে এখন যন্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। জমি তৈরি থেকে ধান কাটার কাজ; সবেতেই এখন মেশিন। এতে কৃষকদের সময় এবং পরিশ্রম দুই-ই বাঁচছে। কিন্তু সব কৃষকের পক্ষে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, থ্রেশারের মতো দামি যন্ত্র কেনা সম্ভব নয়। তাই অনেকেই ভাড়া নিয়ে কাজ করেন।
সে বিষয়টি মাথায় রেখেই কৃষিজীবীদের জন্য নতুন স্কিমের বিষয়ে জানালেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধ কুমার মণ্ডল। এবার থেকে কৃষি যন্ত্র ভাড়ার জন্য কেন্দ্র(Custom Hiring Centre) তৈরির ব্যবস্থা রাজ্য। সেখান থেকে কৃষকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন যন্ত্র ভাড়া নিতে পারবেন। অন্যদিকে, কোনও ব্যবসায়ীর যদি পুঁজি থাকে, তিনিও এই হায়ারিং সেন্টার খুলে যন্ত্র ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন।
তবে পুঁজি থাকলেই নেমে পড়া যাবে, এমনটা নয়। কত টাকার যন্ত্র কিনতে হবে, কতটা অনুদান পাওয়া যাবে এবং নিজের কত টাকা দিতে হবে; সব ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে।
কী কী যন্ত্র কিনতে হবে?
Custom Hiring Centre-এর ক্ষেত্রে একটি বা দু’টি মেশিন কিনলেই হবে না। নির্দিষ্ট তালিকা থেকে কমপক্ষে চার ধরনের কৃষি যন্ত্র নিতে হবে। যেমন, কম্বাইন হার্ভেস্টার, ট্রাক্টর, কৃষি ড্রোন, মাল্টি-ক্রপ থ্রেশার, পাওয়ার টিলার, পাওয়ার উইডার, মিনি রাইস মিল, ডাল মিল, তেল মিল এবং মিলেট মিলের মতো যন্ত্র।
অর্থাৎ, শুধু একটি ট্রাক্টর কিনে সেটিকে ভাড়ায় দেওয়ার জন্য এই প্রকল্প ব্যবহার করা যাবে না। কৃষিকাজের বিভিন্ন কাজে লাগে, এমন একাধিক ধরনের যন্ত্র রাখতে হবে।
ট্রাক্টর কেনার ক্ষেত্রেও লিমিট রয়েছে। নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী একাধিক ট্রাক্টর নেওয়া গেলেও তার সংখ্যা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে।
মিনিমাম কত টাকা ইনভেস্ট করতে হবে?
Custom Hiring Centre তৈরির ক্ষেত্রে ন্যূনতম প্রকল্প মূল্য ২০ লক্ষ টাকা। এই প্রকল্পের মোট খরচের একটি অংশ সরকার অনুদান হিসাবে দিতে পারে।
প্রকল্পের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি অনুদানের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ২০ লক্ষ টাকার প্রকল্প হলে হিসেব অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদানের সুযোগ।
বাকি টাকা আবেদনকারীকে নিজস্ব বিনিয়োগ এবং ঋণের মাধ্যমে জোগাড় করতে হবে। প্রকল্পের নির্দিষ্ট একটি অংশ নিজের থেকে দিতে হবে।
১০ লক্ষ টাকার বেশি প্রকল্প হলে কী নিয়ম?
ছোট প্রকল্পের ক্ষেত্রে ভর্তুকি বাদ দেওয়ার পর বাকি টাকা আবেদনকারীকেই জোগাড় করতে হবে। কিন্তু প্রকল্পের মূল্য ১০ লক্ষ টাকার বেশি হলে ব্যাঙ্ক ঋণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
এই ধরনের প্রকল্পে ভর্তুকি বাদে বাকি টাকা নিজের ফান্ডা এবং ব্যাঙ্ক লোনের মাধ্যমে মেটাতে হবে। অর্থাৎ, শুধুমাত্র নিজের টাকা দিয়ে পুরো প্রকল্প করার পরিকল্পনা করলে নিয়মগুলি আগে ভাল করে দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট তালিকা থেকে একাধিক ধরনের কৃষি যন্ত্র কেনা বাধ্যতামূলক। একটি মাত্র ধরনের মেশিন কিনে প্রকল্প নেওয়া যাবে না।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
‘কৃষকবন্ধু (নতুন)’ বা ‘পিএম কিষান সম্মান নিধি’তে নথিভুক্ত কৃষকরা আবেদন করতে পারবেন। সরকারি স্বীকৃত কৃষকগোষ্ঠী, কৃষি সমবায় এবং স্বনির্ভর সংস্থার মতো সংগঠনও নির্দিষ্ট শর্তে আবেদন করতে পারে।
কৃষকের বয়স সাধারণত ১৮ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে হতে হবে। পাওয়ার টিলার বা সোলার পাম্প সেটের ক্ষেত্রে নিজের নামে ন্যূনতম ০.৫ একর কৃষিজমির খতিয়ান বা ROR থাকতে হবে।