
বিমানের টিকিট কাটার পর অনেক যাত্রীরই মনে প্রশ্ন জাগে, টিকিটের ভাড়া দেওয়ার পরেও কেন আসন বেছে নিতে আলাদা টাকা দিতে হয়? আবার সেই টাকা না দিলে আদৌ কি আসন পাওয়া যাবে? বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও নিয়ম কিন্তু বেশ স্পষ্ট।
আসলে বিমানের টিকিটের সঙ্গে একটি আসন বরাদ্দ থাকেই। অর্থাৎ, শুধুমাত্র আসন নির্বাচন না করার কারণে কোনও যাত্রীকে আসন ছাড়া ভ্রমণ করতে বাধ্য করা যায় না। আপনি যদি নিজে থেকে কোনও নির্দিষ্ট আসন বেছে না নেন, তাহলে চেক-ইনের সময় বিমান সংস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি আসন বরাদ্দ করে দেয়। এর জন্য সাধারণত কোনও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় না।
তবে অনেক বিমান সংস্থা কিছু বিশেষ আসনকে ‘প্রেফার্ড সিট’ হিসেবে চিহ্নিত করে। যেমন, জানালার ধারের আসন, সামনের সারির আসন, অতিরিক্ত লেগস্পেসযুক্ত আসন বা জরুরি নির্গমন পথের কাছাকাছি আসন। যাত্রীরা যদি আগে থেকেই এই ধরনের নির্দিষ্ট আসন সংরক্ষণ করতে চান, সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফি দিতে হতে পারে।
অন্যদিকে, আপনি যদি আসন নির্বাচন না করেন, তাহলে উপলব্ধ আসনের মধ্যেই একটি আসন বরাদ্দ হবে। ভাগ্য ভালো হলে জানালার ধারের আসনও মিলতে পারে, আবার মাঝের আসনও পেতে পারেন।
আসন নির্বাচনের জন্য অতিরিক্ত টাকা নেওয়া নিয়ে অতীতে বহু অভিযোগ জমা পড়েছিল। সেই প্রেক্ষিতে ভারতের বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ বিমান সংস্থাগুলিকে আরও স্বচ্ছ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেয়। নিয়ম অনুযায়ী, মোট আসনের অন্তত ৬০ শতাংশ কোনও অতিরিক্ত চার্জ ছাড়াই যাত্রীদের জন্য উপলব্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে একই পিএনআর-এ ভ্রমণকারী পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে বসানোর বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তাই পরের বার বিমানের টিকিট বুক করার সময় আসন নির্বাচনের জন্য অতিরিক্ত অর্থ দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে মনে করার কোনও কারণ নেই। আপনার যদি নির্দিষ্ট কোনও আসনের প্রয়োজন না থাকে, তাহলে অতিরিক্ত টাকা না দিয়েও নিশ্চিন্তে ভ্রমণ করতে পারবেন। বিমান সংস্থা আপনার জন্য একটি আসনের ব্যবস্থা করবেই।