Advertisement

Annapurna Yojana Form Details: অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার ফর্ম কীভাবে ফিলআপ, কী কী নথি লাগবে? সব তথ্য

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেতে শুরু হয়ে গিয়েছে ফর্ম ফিলআপ। ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে সরকারি পোর্টাল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েথেন, ১ জুন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে। প্রত্যেকটা পুরসভাতে অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে কাজ চলবে। ১২ পাতার সেই ফর্মে একাধিক নথি চাওয়া হয়েছে। চলুন এই নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

 অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ডাউনলোড করতে কোন লিংকে ক্লিক করবেন? অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ডাউনলোড করতে কোন লিংকে ক্লিক করবেন?
Aajtak Bangla
  • কলকাতা,
  • 28 May 2026,
  • अपडेटेड 9:53 AM IST

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পেতে শুরু হয়ে গিয়েছে ফর্ম ফিলআপ।  ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে সরকারি পোর্টাল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিয়েথেন, ১ জুন থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে। প্রত্যেকটা পুরসভাতে  অনলাইন ও অফলাইন পদ্ধতিতে কাজ চলবে। ১২ পাতার সেই ফর্মে একাধিক নথি চাওয়া হয়েছে। চলুন এই নিয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

 মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী  বার্তা দিয়েছেন, কোনও বেনোজল যাতে না ঢুকে পড়ে, সেদিকে নজর দেওয়া হবে। সেই কারণে শুধু আবেদনকারীর তথ্য নয়, তাঁর পরিবারের প্রত্যেক সদস্য সম্পর্কেও খুঁটিনাটি তথ্য নেবে সরকার। তবেই বিবেচনা করা হবে, তাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য কি না। তাই এই  ফর্মে আবেদনকারী এবং তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের খুঁটিনাটি তথ্য চাওয়া হয়েছে। জমির কাগজ থেকে শুরু করে পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের নথি— যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। তবেই অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা মিলবে। 

জনকল্যাণ শিবির
রাজ্যের যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে এই স্কিমটি চালু করা হয়েছে, যা ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে শুরু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বদলে রাজ্য জুড়ে কার্যকর হবে।  অফলাইনে ফর্ম পূরণ করার ক্ষেত্রে আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুনের মধ্যে রাজ্যজুড়ে ‘জনকল্যাণ শিবির’ আয়োজন করা হবে, যেখানে  সরাসরি আবেদনপত্র জমা দেওয়া যাবে। এছাড়া পঞ্চায়েত ও পৌরসভা এলাকায় সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়েও ফর্ম সংগ্রহ করবেন।

যোগ্যতার মাপকাঠি
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করতে হবে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আবেদনকারী মহিলার বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। তিনি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, কোনো সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, পঞ্চায়েত, পৌরসভা বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্থায়ী কর্মী, বেতনভোগী বা পেনশনভোগী হতে পারবেন না। পাশাপাশি আবেদনকারীকে অবশ্যই আয়কর দাতার আওতার বাইরে থাকতে হবে।

Advertisement

কোথায় পাবেন অলাইন ফর্ম?
অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মটি অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমেই জমা দেওয়া যাবে। ইংরেজি, বাংলা এবং হিন্দি এই তিন ভাষাতেই ফর্মটি ডাউনলোডের জন্য উপলব্ধ করা হয়েছে।  আবেদনপত্রটি ডাউনলোড করতে ইচ্ছুকদের সামাজিক সুরক্ষা পোর্টালের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (https://socialsecurity.wb.gov.in/login) ভিজিট করতে হবে। ফর্মটি পূরণ করার সময় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, আধার নম্বর, ডিজিটাল রেশন কার্ডের সঙ্গে যুক্ত হাউজহোল্ড আইডি (যদি থাকে), ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, ভোটার কার্ড বা এপিক (EPIC) নম্বর, প্যান কার্ডের তথ্য এবং বার্ষিক পারিবারিক আয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারীদের ফর্ম জমা দেওয়ার আগে সমস্ত নির্দেশনাবলী ভালো করে পড়ে জমা দিতে হবে। 

ফর্মে কী কী তথ্য দিতে হচ্ছে?
১২ পাতার ফর্মে, প্রথমেই আবেদনকারীর পরিবারের প্রধানের নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, আধার নম্বর, আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর চাওয়া হয়েছে। এর পর পরিবারের বাকি সদস্যদের এই সমস্ত তথ্য এবং গৃহকর্তা বা গৃহকর্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর যুক্ত করা থাকতে হবে। আবেদনকারীর পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক সদস্যের ভোটার কার্ডের নম্বর, বিধানসভা এবং পার্ট নম্বরও অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে লিখতে হবে। ডিজিটাল রেশন কার্ড থাকলে সেই সংক্রান্ত তথ্য বিশদে উল্লেখ করতে হবে। ফর্মের তৃতীয় পর্যায়ে আবেদনকারীকে তাঁর সম্পত্তির খতিয়ান দিতে হবে। পাকা বাড়ি আছে কি না, আবেদনকারীর পরিবার কতটা জমির মালিক, মিউটেশন এবং রেজিস্ট্রেশনের নথি-সহ তা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। পরিবারের কারও চার চাকার গাড়ি আছে কি না, তা-ও জানাতে হবে। পরিবারের প্রত্যেকের শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য চাওয়া হচ্ছে। তাই শিক্ষিত সদস্যদের প্রত্যেককে তাঁদের সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ফর্মে উল্লেখ করতে হবে এবং সেই সংক্রান্ত নথি বা শংসাপত্র জমা দিতে হবে। জানাতে হবে পরিবারের মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ। এ ছাড়া, কেউ সিএএ-তে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন কি না, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড বা অন্য কোনও সরকারি কার্ডের সুবিধা নিয়েছেন কি না, SIR-এ নাম বাদ পড়েছে কি না, নাম বাদ পড়লে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন কি না, এই ফর্মে জানতে চেয়েছে সরকার। চাওয়া হয়েছে পরিবারের সকল শিশুর স্কুলের নাম এবং টিকাকরণের তথ্যও। আবেদনকারী ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারি কোনও প্রকল্পের সুবিধা পান কি না, কোনও স্বাস্থ্যবিমা আছে কি না, অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে তা জানতে চেয়েছে সরকার। যদি থাকে, পরিবারের সকল সদস্যের প্যান কার্ডের নম্বরও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। এ ছাড়া, পরিবারের প্রত্যেকের পেশা ফর্মে লিখতে হবে। বক্তব্যের সপক্ষে উপযুক্ত কাগজও জমা দিতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, ফর্মপূরণ করতে হলে আপনার এবং আপনার পরিবারের যাবতীয় তথ্য জমা দিতে হবে। আপনার এবং আপনার পরিবারের মোট কতজন সদস্য আছে তা জানাতে হবে। প্রত্যেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা, কে, কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত তাও উল্লেখ করতে হবে। বাড়িতে কেউ সরকারি পেনশনভোগী রয়েছেন কিনা, তাও জানাতে হবে ফর্মে। কেউ আয়কর দেন কিনা, সে তথ্যও জানাতে হবে। এমনকি পরিবারের সব সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরও দিতে হবে। সরকার এক্ষেত্রে সঠিক ব্যক্তিকে যোজনার টাকা পাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যোগ্য নয় এমন ব্যক্তিরা যাতে না অনুদান পান, যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তা দেখা হবে। তাই আয়কর জমা দেন এমন মহিলারা অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন করতে পারবেন না।

কোন কোন ডকুমেন্ট লাগবে
১) অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মের সঙ্গে প্রত্যেকের আধার কার্ড নম্বর দিতে হবে। তবে ৫ বছরের নীচে কেউ থাকলে, তার আধার কার্ড নম্বর দিতে হবে না।
২) জমা দিতে হবে ভোটার কার্ড সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। এছাড়া প্যান কার্ড, রেশন কার্ড সম্পর্কিত তথ্যও ওই আবেদনপত্রে উল্লেখ করতে হবে।
৩) পরিবারের প্রধান-সহ প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে হবে।
৪) অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মে উল্লেখ করতে হবে আপনি কিংবা আপনার পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের যানবাহন সংক্রান্ত তথ্য।
৫) পরিবারের কারও কোনও স্বাস্থ্য়বিমা থাকলে, তাও উল্লেখ করতে হবে।
৬) পরিবারে কোনও ছোট সদস্য থাকলে তার টিকাকরণ সংক্রান্ত তথ্যও জমা দিতে হবে।
৭) এছাড়া বাড়ির পড়ুয়া সদস্য সরকারি নাকি বেসরকারি, কোন স্কুলে পড়ে, তাও জানাতে হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মে। সেই সঙ্গে পারিবারিক বার্ষিক আয়ও উল্লেখ করতে হবে।
৮) কোনও সরকারি পরিষেবার সরাসরি আর্থিক সুবিধা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কিনা, তাও উল্লেখ করতে হবে। অর্থাৎ উক্ত পরিবার কিষাণ শিক্ষার্থী ক্রেডিট কার্ড, শিল্পী ক্রেডিট কার্ড, মৎস্যজীবী ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদির মতো কোনও সরকারি সুবিধা পান কিনা, তাও জানাতে হবে। 

Advertisement

সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখার পর অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা ঢুকবে অ্যাকাউন্টে।  অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ডাউনলোড করতে https://socialsecurity.wb.gov.in/login লিংকে ক্লিক করুন। 


 

Read more!
Advertisement
Advertisement