
আর মাত্র দু’মাসের অপেক্ষা। তার পরেই বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। পুজো মানেই লম্বা ছুটি, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান। কেউ পাহাড়ে যাবেন, কেউ সমুদ্রের ধারে, আবার কেউ পুজোর ছুটিতে বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু এই পরিকল্পনার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় অনেক সময় ট্রেনের কনফার্ম টিকিট। পুজোর সময় ট্রেনে যাত্রীদের চাপ এমনিতেই অনেক বেশি থাকে। বুকিংয়ের জানলা খুললেই কয়েক মিনিটের মধ্যে জনপ্রিয় রুটের বহু আসন ভর্তি হয়ে যায়। ফলে শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটতে গেলে ওয়েটিং লিস্ট ছাড়া উপায় থাকে না অনেকের। তাই এ বার Durga Puja 2026 Train Ticket Booking কবে থেকে শুরু হচ্ছে, কোন দিনের জার্নির জন্য কবে টিকিট কাটতে পারবেন, তা আগে থেকে জেনে রাখা জরুরি।
পুজোর ছুটিতে কবে থেকে ট্রেনের টিকিট কাটবেন?
বর্তমানে ভারতীয় রেলে সাধারণ সংরক্ষিত টিকিটের অগ্রিম বুকিংয়ের সময়সীমা ৬০ দিন। অর্থাৎ যাত্রার তারিখের ৬০ দিন আগে থেকে টিকিট বুক করা যায়। ফলে পুজোর সময়ে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এখনই ক্যালেন্ডারে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলি দাগ দিয়ে রাখা ভাল।
এ বার পুজোর ছুটি ঘিরে যাঁরা ট্রেনে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য ১৫ অগস্ট থেকেই বুকিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব শুরু হচ্ছে।
ধরা যাক, কেউ চতুর্থীর দিন অর্থাৎ ১৪ অক্টোবর যাত্রা শুরু করতে চান। সে ক্ষেত্রে ১৫ অগস্ট থেকে টিকিট কাটার সুযোগ মিলবে। আবার ১৫ অক্টোবর যাত্রা করতে চাইলে তার জন্যও নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী আগে থেকেই বুকিংয়ের সুযোগ থাকবে।
অন্য দিকে, কেউ যদি পুজোর ছুটির শেষে ২১ অক্টোবর, দশমীর দিন ফেরার পরিকল্পনা করেন, সে ক্ষেত্রে ফেরার টিকিটের বুকিং শুরু হবে ২২ অগস্ট থেকে।
অর্থাৎ শুধু যাওয়ার টিকিট নয়, ফেরার টিকিটের তারিখও আগে থেকে হিসাব করে রাখা দরকার। পুজোর সময়ে দু’দিকের টিকিট একসঙ্গে পরিকল্পনা করে কাটলে শেষ মুহূর্তের সমস্যা অনেকটাই কমতে পারে।
সকাল ৮টা থেকেই বুকিংয়ের লড়াই
ট্রেনের সংরক্ষিত টিকিট বুকিং সাধারণত সকাল থেকেই শুরু হয়। অনলাইনে বুকিং করতে গেলে IRCTC ওয়েবসাইট বা রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট অ্যাপ ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়াও স্টেশনের রিজার্ভেশন কাউন্টার থেকে টিকিট কাটার সুযোগ রয়েছে।
তবে পুজোর সময় জনপ্রিয় রুটে চাহিদা এতটাই বেশি থাকে যে বুকিং খোলার পর দেরি করলে পছন্দের আসন পাওয়া কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে কলকাতা থেকে দিঘা, পুরী, দার্জিলিংয়ের কাছাকাছি স্টেশন, উত্তরবঙ্গ কিংবা দেশের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের দিকে যাওয়া ট্রেনে চাপ বেশি থাকে।
তাই যে দিন বুকিং খুলবে, সেই দিনই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টিকিট কাটার চেষ্টা করা ভাল।
কনফার্ম টিকিট না পেলে কী হবে?
পুজোর সময়ে সবচেয়ে বড় চিন্তা হল ওয়েটিং লিস্ট। বুকিংয়ের সময় কনফার্ম টিকিট না পেয়ে অনেক যাত্রীর টিকিট WL বা ওয়েটিংয়ে চলে যায়।
সাধারণ সময়ে ওয়েটিং টিকিট পরে কনফার্ম হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও পুজোর মতো অত্যন্ত ব্যস্ত সময়ে যাত্রীসংখ্যা অনেক বেশি থাকে। ফলে কনফার্মেশনের জন্য অপেক্ষা করে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বসে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে রেলের তরফে একাধিক বিকল্প ব্যবস্থাও থাকে।
পুজোয় চলবে স্পেশাল ট্রেন
পুজোর সময় যাত্রীদের বাড়তি ভিড় সামলাতে প্রতি বছরই বিশেষ ট্রেন চালানো হয়। এ বারও পূর্ব রেলের তরফে স্পেশাল ট্রেন চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
পুজোর প্রায় দুই সপ্তাহ আগে থেকে শুরু করে কালীপুজো পর্যন্ত এই বিশেষ পরিষেবা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নিয়মিত ট্রেনগুলিতে টিকিট না পাওয়া যাত্রীদের জন্য অতিরিক্ত কিছু বিকল্প তৈরি হবে।
কোন রুটে কতগুলি স্পেশাল ট্রেন চলবে, কোন দিন চলবে এবং কোথা থেকে ছাড়বে—এই সংক্রান্ত বিস্তারিত সূচি পূর্ব রেলের তরফে পরে জানানো হবে।
তাই যাঁরা এখনও নিয়মিত ট্রেনে কনফার্ম টিকিট পাচ্ছেন না, তাঁদের জন্য স্পেশাল ট্রেনের ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তৎকাল টিকিট
স্পেশাল ট্রেনেও টিকিট না পেলে রয়েছে Tatkal Ticket-এর ব্যবস্থা। হঠাৎ যাত্রার প্রয়োজন হলে কিংবা সাধারণ কোটায় টিকিট না পেলে অনেকেই তৎকাল বুকিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকেন।
তৎকাল টিকিটের জন্য নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। ফলে বুকিং শুরুর সময়ের আগে প্রয়োজনীয় তথ্য, যাত্রীর নাম এবং অন্যান্য বিবরণ তৈরি করে রাখলে দ্রুত টিকিট কাটার সুবিধা হতে পারে।
এ ছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে Premium Tatkal-এর বিকল্প পাওয়া যায়। তবে এই ব্যবস্থায় ভাড়া সাধারণ তৎকালের তুলনায় বেশি হতে পারে। তাই এটি ব্যবহার করার আগে ভাড়ার বিষয়টি দেখে নেওয়া ভাল।
পুজোয় ট্রেনের টিকিট কাটার আগে এই কাজগুলি সারুন
পুজোর সময়ে টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিলে সমস্যা হতে পারে। তাই আগে থেকেই কয়েকটি বিষয় ঠিক করে রাখুন।
প্রথমত, কবে রওনা দেবেন তা ঠিক করুন। শুধু যাওয়ার তারিখ নয়, ফেরার তারিখও আগে ঠিক করুন।
দ্বিতীয়ত, কোন ট্রেনে যাবেন তার পাশাপাশি অন্তত দু’টি বিকল্প ট্রেনের নাম লিখে রাখুন। পছন্দের ট্রেনে আসন না থাকলে সঙ্গে সঙ্গে অন্য ট্রেনে চেষ্টা করতে পারবেন।
তৃতীয়ত, অনলাইনে টিকিট কাটলে IRCTC অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই লগ ইন করে প্রয়োজনীয় যাত্রীর তথ্য প্রস্তুত রাখা ভাল।
চতুর্থত, টিকিট বুকিংয়ের দিন সকাল থেকে প্রস্তুত থাকুন। জনপ্রিয় রুটে দেরি হলে পছন্দের আসন দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।
পুজোর ছুটি এবার আরও গুরুত্বপূর্ণ
এ বার পুজোর ছুটির সময়টাও অনেকের কাছে আকর্ষণীয়। ছুটির সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে অনেকে টানা কয়েক দিন বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষ করে পরিবার নিয়ে বেড়াতে গেলে কনফার্ম টিকিট পাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একসঙ্গে কয়েকজনের টিকিট কাটতে হলে একই ট্রেনে আসন পাওয়া আরও কঠিন হতে পারে।
তাই Durga Puja 2026 Train Ticket Booking নিয়ে এখন থেকেই পরিকল্পনা করা ভাল। বুকিংয়ের তারিখ মনে রাখুন, যাওয়ার পাশাপাশি ফেরার টিকিটও সময়মতো কাটুন। সাধারণ টিকিট না পেলে স্পেশাল ট্রেন, তৎকাল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রিমিয়াম তৎকাল; এই অপশনগুলিও মাথায় রাখুন।