Advertisement

E10 Petrol for Older Vehicles: পুরনো গাড়িতে ফের E10 পেট্রোল, বিতর্কের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ বার্তা প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টার

ভারত সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. অনন্ত নাগেশ্বরণের মতে, পুরনো যানবাহনগুলোকে E10 পেট্রোলের বিকল্প দেওয়া উচিত। কারণ E20 পেট্রোল কার্বুরেটর ব্যবহৃত ৮ কোটি পুরনো দু-চাকার যানবাহনকে প্রভাবিত করবে। পুরনো কার্বুরেটরগুলো ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে না।

পুরনো গাড়িতে কি আবার E10  পেট্রোল ফিরছে?পুরনো গাড়িতে কি আবার E10 পেট্রোল ফিরছে?
Aajtak Bangla
  • দিল্লি,
  • 17 Aug 2026,
  • अपडेटेड 10:48 AM IST

E20 পেট্রোল নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। রাজপথ থেকে শুরু করে সংসদ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যন্ত সর্বত্রই এই নিয়ে  আলোচনা চলছে। এই জ্বালানি গাড়ির মাইলেজ কমিয়ে দিচ্ছে এবং গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি করছে, এমনটাই দাবি করা হচ্ছে। অনেকেই E5  এবং E10  পেট্রোলের মতো কম ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির বিকল্প দাবি করছেন। এদিকে,এর মাঝেই প্রথমবারের মতো একজন সরকারি কর্মকর্তা E10 ফুয়েল ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

E20  নিয়ে প্রশ্নটি শুধু আপনার গাড়ির ইঞ্জিন চলবে কি না, তা নয়, বরং পেট্রোল সাশ্রয়ের এই প্রচেষ্টা দেশের কৃষি, জল ও খাদ্যের সঙ্গে আপস করছে কি না। আর এই প্রশ্নটিকে হালকাভাবে নেওয়া যায় না, কারণ যিনি এটি উত্থাপন করছেন, তিনি কোনও সোশ্যাল মিডিয়া সমালোচক নন, বরং ভারত সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা, ভি. অনন্ত নাগেশ্বরণ।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত তাঁর লেখায় নাগেশ্বরণ স্পষ্টভাবে বলেছেন , E20 থেকে E27 বা E30-তে যাওয়ার আগে 'খাদ্য-বনাম-জ্বালানি'র দ্বন্দ্ব, অর্থাৎ খাদ্য ও জ্বালানির মধ্যকার লড়াই, পুরোপুরি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। এর অর্থ হলো, E20-কে, যা পেট্রোলের বিকল্প, তেল আমদানি কমানোর একটি উপায় এবং পরিবেশগত সুবিধার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখা হয়েছে, সেটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগে সতর্ক ভাবে বিবেচনার প্রয়োজন। আসল প্রশ্ন হলো, ভুট্টা পেট্রোলের ট্যাঙ্ক ভরবে, নাকি মানুষের পেট। কারণ, ইঞ্জিন নিয়ে বিতর্কের মাঝে আসল লড়াইটা হলো জমি ও জল নিয়ে, যা একবার জ্বালানির জন্য ব্যবহার করা হলে, খাদ্যের জন্য ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না।

অনন্ত নাগেশ্বরণ  সরকারের কাছে পুরনো যানবাহনের জন্য  E10   ফুয়েল পুনরায় চালু করার সুপারিশ করেছেন, যা ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধ পেট্রোল এবং ১০ শতাংশ ইথানলের মিশ্রণ। তবে তার আগে, তিনি  E20 জ্বালানিকে ঘিরে থাকা ভয় নিয়েও আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় E20  পেট্রোল নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে এবং দ্রুত  ভয় ছড়িয়ে পড়ছে। দাবি করা হচ্ছে, এটি গাড়ির মাইলেজ কমিয়ে দেয় এবং গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি করে। তবে, এই দাবিগুলো পুরোপুরি সত্য নয়। এর সমর্থনে তিনি কিছু পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন।

Advertisement

E20 কি ইঞ্জিনের ক্ষতি করছে?
নাগেশ্বরণের মতে, ইথানলে পেট্রোলের চেয়ে কম এনার্জি থাকে। এক লিটার ইথানলের এনার্জির পরিমাণ পেট্রোলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। তাই, E20 ব্যবহারকারী একটি যানবাহন প্রতি লিটার জ্বালানিতে সামান্য কম দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে। তবে, এর মানে এই নয় যে ইঞ্জিনের কোনও ক্ষতি হচ্ছে। যেহেতু E20-তে ২০% ইথানল থাকে, তাই মোট এনার্জি  ক্ষয় হয় প্রায় ৬ থেকে ৭%। সোশ্যাল মিডিয়ায় ৩০% পর্যন্ত ক্ষয়ের যে পরিসংখ্যান দেওয়া হচ্ছে, তা সঠিক নয়।

মজার ব্যাপার হলো, E20-এর ব্যবহার কার্বন মনোক্সাইড এবং অদগ্ধ হাইড্রোকার্বনের মতো দূষণকারী কণার পরিমাণ কমাতে পারে। ইঞ্জিনের আয়ু এবং স্থায়িত্ব সংক্রান্ত পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত উদ্বেগজনক কিছু প্রকাশ পায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি  E20-সম্মত নয় এমন ৮৬টি গাড়ির উপর পরীক্ষা চালিয়েছে এবং 
এই প্রেট্রোল  ব্যবহার করে প্রায় ১ কোটি কিলোমিটার চালিয়ে। আশ্চর্যজনকভাবে, এই পরীক্ষাগুলিতে গাড়ির কোনও যন্ত্রাংশে অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতি দেখা যায়নি। ভারতে, ARAI, পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউট এবং ইন্ডিয়ান অয়েল দ্বারা পরিচালিত পরীক্ষায় মোটামুটি একই ধরনের ফলাফল পাওয়া গেছে। সুতরাং, প্রতিটি E20 গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হওয়ার দাবিটি পরিসংখ্যানগতভাবে প্রমাণিত নয়।

পুরনো গাড়িগুলি নিয়ে চিন্তা
প্রসঙ্গত, ভারতে আনুমানিক ৭.৫ থেকে ৮০ কোটি পুর নো দু-চাকার যান রয়েছে, যেগুলো BS4-এর আগের মডেলের এবং কার্বুরেটর ব্যবহার করে। পুরোনো কার্বুরেটরগুলো ইথানল মিশ্রণে উপস্থিত অতিরিক্ত অক্সিজেনের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বালানির পরিমাণ সমন্বয় করতে পারে না। এর ফলে ইঞ্জিন প্রয়োজনের তুলনায় কম জ্বালানি পায়, যা ইঞ্জিনকে অতিরিক্ত গরম করে তোলে।

পুরনো যানবাহনের রাবার সিলগুলোও আলাদা সমস্যা তৈরি করছে। এই সিলগুলো যদি ইথানল-সহনশীল না হয়, তবে দীর্ঘ সময় ধরে ইথানলের সংস্পর্শে থাকলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যদিও এগুলোকে ইথানল-সহনশীল সিল দিয়ে প্রতিস্থাপন করা খুব ব্যয়বহুল কাজ নয়, সমস্যা হলো ভারতের ৭.৫ থেকে ৮ কোটি  পুরোনো দু-চাকার যান এক এক করে আধুনিকীকরণ করা সহজ হবে না। আজ কাজ শুরু হলেও পুরো বহরটি প্রতিস্থাপন করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

পুরনো যানবাহনের জন্য কেন E10 প্রয়োজন
নাগেশ্বরণের মতে, মূল নীতিতে এই সমস্যাটির সমাধান করা হয়েছিল এবং পুরনো যানবাহনের জন্য কম-ইথানল পেট্রোল উপলব্ধ করার কথা বলা হয়েছিল। তবে, পেট্রোল পাম্প থেকে কম-ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি ধীরে ধীরে উধাও হয়ে যায়। তাই, E20-এর পাশাপাশি E10-এর মতো কম-মিশ্রণের পেট্রোলও উপলব্ধ করা উচিত। এটি পুরনো গাড়ির মালিকদের স্বস্তি দেবে এবং E20 নিয়ে জনসাধারণের ভয় কমাবে। গুরুত্বপূর্ণভাবে, এর ফলে সামগ্রিকভাবে ইথানলের ব্যবহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও এড়ানো যাবে। পুরনো যানবাহনের জন্য কম-মিশ্রণের জ্বালানির বিকল্প দেওয়া যেতে পারে, এবং নতুন যানবাহনে E20-এর ব্যবহার অব্যাহত রাখা যেতে পারে।

Read more!
Advertisement
Advertisement