
১০০% ইথানল। সবুজ সংকেত দিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নিতিন গড়কড়ীর দাবি, এই জ্বালানিতে ভারতের লাভ-ই লাভ। সম্পূর্ণ ইথানলেই গাড়ি চললে আর বিদেশ থেকে বেশি ক্রুড অয়েল কিনতে হবে না। কিন্তু এই ইথানল ফুয়েল কি পেট্রোলের জায়গা নিতে পারবে? একদিন কি সত্যিই দেশের সব গাড়ি ইথানলে চলবে?
সম্প্রতি নাগপুরের একটি অনুষ্ঠানে গড়কড়ী জানান, E100 ফুয়েলের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন এসে গিয়েছে। তাঁর দাবি, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে একাধিক গাড়ি কোম্পানি ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির নতুন মডেল আনতে পারে। ইতিমধ্যেই কিছু সংস্থা ইথানল-চালিত বা ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ির প্রোটোটাইপ বের করেছে।
E100 ফুয়েল কী?
E100 এমন এক ধরনের জ্বালানি, যাতে ১০০ শতাংশ ইথানল থাকে। এতে পেট্রোল থাকে না বললেই চলে। আখ, ভুট্টা, চাল এবং বিভিন্ন কৃষিজ বর্জ্য থেকে ইথানল তৈরি করা যায়।
বর্তমানে দেশে E20 জ্বালানি ব্যবহার করা হচ্ছে। অর্থাৎ ২০% ইথানল এবং ৮০% পেট্রোল থাকে।
E100-এর উপর কেন্দ্র জোর দিচ্ছে কেন?
কেন্দ্রের দাবি, ভারত বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা হয়। তাতে দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে। সেই নির্ভরতা কমাতেই ইথানল ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।
সরকারের দাবি, ইথানলের চাহিদা বাড়লে আখ, ভুট্টা-সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের চাহিদাও বাড়বে। ফলে কৃষকরাও আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারেন।
এছাড়া এতে বায়ুদূষণ কমবে বলেও দাবি কেন্দ্রের।
E100 কি পেট্রোলকে পুরোপুরি রিপ্লেস করতে পারবে?
থিওয়রিটিক্যালি সম্ভব। তবে বাস্তবে এখনই সম্ভব নয়। কারণ দেশের রাস্তায় চলা অধিকাংশ পেট্রলচালিত গাড়ি, বাইক বা স্কুটারই E100-তে চলবে না।
এই জ্বালানি ব্যবহারের জন্য বিশেষ ধরনের ফ্লেক্স-ফুয়েল ইঞ্জিন প্রয়োজন। ফলে এখন রাস্তায় যে কোটি কোটি যানবাহন রয়েছে, সেগুলি হঠাৎ E100-এ বদলে ফেলা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছর E20 এবং E100, দু'টিই থাকবে।
কোন ধরনের গাড়িতে ব্যবহার করা যাবে?
E100 সব গাড়িতে ব্যবহার করা যাবে না। ইথানলের রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পেট্রোলের থেকে আলাদা। তাই ইঞ্জিন, ফুয়েল পাম্প, ইনজেক্টর এবং ফুয়েল লাইনে পরিবর্তন প্রয়োজন।
এই কারণে শুধুমাত্র ফ্লেক্স-ফুয়েল প্রযুক্তির গাড়িতেই E100 ব্যবহার করা সম্ভব।
সমস্যাও বিস্তর
E100-এর 'শক্তিঘনত্ব' পেট্রোলের তুলনায় কম। ফলে একই দূরত্ব অতিক্রম করতে তুলনামূলক বেশি জ্বালানি প্রয়োজন হতে পারে।
এ ছাড়া নতুন ফ্লেক্স-ফুয়েল গাড়ি কিনতে গেলে মোটা টাকা খরচ করতে হবে। পুরনো গাড়িতে এই জ্বালানি ব্যবহার সম্ভব নয়। পাশাপাশি পেট্রোল পাম্পগুলিকেও E100 স্টোর করার জন্য় রেডি করতে হবে। সাপ্লাই চেন বানাতে হবে।
ইথানল তৈরির ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণে জলও খরচ হয়। ফলে বায়ু দূষণ বাঁচাতে গিয়ে জল সংকটের আশঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা।