
আজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেসের কোচ থেকে চুরি যাওয়া প্রায় ৪৩.২০ লক্ষ টাকা মূল্যের বহুমূল্য চুনী বা রুবি পাথর উদ্ধার করল পূর্ব রেল। সিআইবি/আরপিএফ/শিয়ালদা এবং জিআরপি/শিয়ালদার যৌথ উদ্যোগে দক্ষিণ পশ্চিম রেলের সহযোগিতায় এই সাফল্য মিলেছে। চুরির ঘটনা হয়েছিল গত ৮ অক্টোবর। ওই দিন ১২৯৮৮ আজমের-শিয়ালদা এক্সপ্রেসের এ২ কোচ থেকে চুরি যায় ৫.৪৪৮ কেজি ওজনের চুনী পাথর। ঘটনার ১০ দিন পরেই ১৮ অক্টোবর সেই সামগ্রী উদ্ধার করল পূর্ব রেল।
ঘটনার সূত্রপাত ৮ অক্টোবর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে। রেলমদতে অভিযোগ জানান যাত্রী অলকা বৈদ্য (৫৮) এবং তাঁর স্বামী রাকেশ বৈদ্য (৫৯)। তাঁরা আজমের থেকে শিয়ালদা যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, ট্রেনে তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতায় এক ব্যক্তি। রাকেশ বৈদ্য অসুস্থ বোধ করলে তাঁকে সাহায্য করার প্রস্তাব দেয় ওই ব্যক্তি। সেই সুযোগে ব্যাগের চেন খুলে বহুমূল্য চুনী পাথর ভর্তি দুটি থলি চুরি করে সে। পরে কাঁকুড়গাছি সিগন্যালের কাছে সঙ্গীদের নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
অভিযোগের ভিত্তিতে ৮ অক্টোবর শিয়ালদা জিআরপিএস ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ৩০৫(সি) ধারায় ক্রাইম নম্বর ১১৯/২৬-এ মামলা রুজু করে। যাত্রীদের অভিযোগ দায়ের করতে সাহায্য করেন আরপিএফ কর্মীরা। সিনিয়র ডিএসসি/শিয়ালদার তত্ত্বাবধানে সিআইবি/শিয়ালদা এবং আরপিএফ পোস্ট/শিয়ালদা মেনের আধিকারিকদের নিয়ে একটি যৌথ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।
তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি গোপন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ এবং জিআরপি ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়। ৯ অক্টোবর তদন্তকারীরা কাঁকুড়গাছি রেল কেবিনের কাছে বাগমারি এলাকা এবং বর্ধমান রেলওয়ে স্টেশনের গুরুত্বপূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। তাতে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি ধরা পড়ে। পরে অভিযোগকারী যাত্রী ফুটেজে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করেন। ১০ অক্টোবর তদন্তকারীরা বর্ধমানের একটি গেস্ট হাউসের সন্ধান পান, যেখানে সন্দেহভাজনরা ৫ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ছিল বলে জানা যায়।
এরপর ১৩ থেকে ১৬ অক্টোবর দিল্লির বাইরের সুলতানপুরী এলাকার বিভিন্ন সন্দেহজনক ডেরায় তল্লাশি চালানো হয়। তবে অভিযুক্তদের সেখানে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে নির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে হরিয়ানায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পূর্ব রেল ও দক্ষিণ পশ্চিম রেলের মধ্যে সমন্বয়ের ভিত্তিতে আইপিএফ/ম্যাঙ্গালোরের শ্রী মনোজ যাদব তদন্তকারী দলকে সহযোগিতা করেন। ১৮ অক্টোবর হরিয়ানার হান্সি জেলার বাথোল গ্রামে প্রধান সন্দেহভাজন সন্দীপ ওরফে রোডার পৈতৃক বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
এই অভিযানে চুরি যাওয়া ৫.৪৪৮ কেজি চুনী পাথর, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৩.২০ লক্ষ টাকা, সম্পূর্ণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। স্বাধীন সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তদন্তকারী আধিকারিক নিয়ম মেনে উদ্ধার হওয়া সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেন।
এই চুরির ঘটনায় হরিয়ানার কুখ্যাত ‘সানসি গ্যাং’-এর যোগ থাকার সন্দেহ করছে তদন্তকারী দল। যাত্রীদের ব্যাগের চেন খুলে কৌশলে চুরি করার জন্য এই গ্যাং পরিচিত বলে জানা গিয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত সন্দীপ ওরফে রোডা এবং তার আরও তিন সন্দেহভাজন সঙ্গী এখনও অধরা। তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত ও তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, সিসিটিভি ফুটেজের সুশৃঙ্খল বিশ্লেষণ তথ্য সংগ্রহ এবং রেলের বিভিন্ন জোনের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা এই উচ্চমূল্যের চুরির মামলার কিনারা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যাত্রীদের নিজেদের জিনিসপত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। কোনও সন্দেহজনক কার্যকলাপ চোখে পড়লে অবিলম্বে রেলওয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের অথবা ‘রেলমদত’-এর মাধ্যমে তা জানানোর আবেদনও করেছেন।