
ফের কলকাতায় বাড়ল ডিমের দাম। গত এক সপ্তাহের মধ্যে শহরে ডিমের ট্রে-র দাম বাড়ল প্রায় ২০ টাকা। ফলে প্রতি পিস ডিমের দামও প্রায় ৭০ পয়সা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চড়ছে খুচরো বাজারের রেটও।
আজ কলকাতায় ডিমের দাম কত?
ন্যাশনাল এগ কো-অর্ডিনেশন কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজ কলকাতায় ডিমের ট্রে-র পাইকারি রেট রয়েছে ১৭৪ টাকা। যা পিস প্রতি হিসেব করলে হয় ৫ টাকা ৮০ পয়সা। এই ডিম যখন খুচরো বাজারে আসবে তখন প্রতিটি ট্রে-র দাম হতে পারে ১৮৫ টাকা থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে, প্রতি পিস ডিমের দাম রয়েছে ৬ টাকা থেকে সাড়ে ৬ টাকা।
কেন ডিমের দাম বাড়ল?
ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশনের সভাপতি মদন মাইতি bangla.aajtak.in-কে জানান, "মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ডিমের রফতানি পুরো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সেই কারণে দেশে প্রচুর ডিম থেকে যাচ্ছিল। যার জেরে কৃষকেরা লসে ডিম বিক্রি করছিলেন। কিন্তু বর্তমানে রফতানি শুরু হয়েছে, দেশেও ডিমের চাহিদা বেড়েছে, ফলে সব মিলিয়ে ডিম বিক্রি শুরু হয়েছে। এরফলেই চড়ছে ডিমের দাম। তবে এই দাম বৃদ্ধি নয়। বরং ডিম আগের দামে ফিরে যাচ্ছে। এরফলে ডিম উৎপাদক চাষিরা স্বস্তি পাবে। ৬ টাকার নীচে ডিম বিক্রি হওয়ার অর্থ কৃষকদের লস।"
চড়া রয়েছে মুরগির দামও
তবে শুধুমাত্র ডিম নয়, কলকাতায় চড়চড় করে বাড়তে শুরু করেছে চিকেনের দাম। গত প্রায় একমাস ধরেই কলকাতা-সহ শহরতলিতে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে মুরগির মাংসের। মার্চের শুরুতে যেখানে চিকেনের কেজি প্রতি দাম ছিল ২২০-২৩০ এর আশেপাশে। সেই দাম এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে রয়েছে ২৫০-২৬০ টাকা।
এই বিষয়ে মদন মাইতি জানিয়েছেন, "প্রচন্ড গরমের জেরেই চিকেনের দাম বেড়ে গিয়েছে। অত্যাধিক গরম পড়ার কারণে খামারেই মুরগি ধুঁকছে। ফলে পোলট্রির উৎপাদন কমে গিয়েছে। যার জেরে দাম বাড়ছে।" তবে একইসঙ্গে মুরগির মাংসের কালোবাজারি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন পোল্ট্রি ফেডারেশনের সভাপতি। তিনি জানান, "বর্তমানে পোলট্রি চাষিদের এক একটি ২ কেজি ওজনের মুরগি উৎপাদন করতে প্রায় ১৫০ টাকা খরচ হচ্ছে। সেই মুরগি বাজারে এলে দাম ২২০-২৩০ টাকা হওয়া উচিত। কিন্তু যারা ২৭০ টাকায় চিকেন বিক্রি করছে তাঁরা অন্যায় করছে। এটা হওয়া উচিত নয়।"