
Election Commission Of India Latest Guidelines:নতুন ভোটারদের জন্য এবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম নিয়ে এল দেশের নির্বাচন কমিশন। এখন থেকে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে গেলে নতুন আবেদনকারীদের নিজেদের বাবা মায়ের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর সংক্রান্ত তথ্য জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা জানিয়েছেন আগে এই নিয়মটি শুধুমাত্র সেইসব পুরোনো ভোটারদের জন্য প্রযোজ্য ছিল যাঁদের নাম পূর্ববর্তী এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ পড়েছিল বা নথিবদ্ধ হয়নি। তবে এখন থেকে নতুন ভোটারদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম সমানভাবে বলবৎ হবে। কোনো নতুন আবেদনকারী ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য অনলাইনে ফর্ম ৬ পূরণ করার সময় এই তথ্য না দিলে আবেদন প্রক্রিয়া কোনোভাবেই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন না।
কমিশন সূত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে এই নতুন নিয়ম চালুর জন্য মূল ফর্ম ৬ ফর্ম্যাটে সরাসরি কোনও আইনি সংশোধন বা গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি করেই এই নতুন ঘোষণাপত্র বা ডিক্লেয়ারেশন অংশটি যুক্ত করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পোর্টাল ইসিআইনেট-এ ফর্ম ৬-এর পার্ট জে এবং পার্ট কে-এর মাঝখানে এই নতুন অংশটি দেখতে পাবেন আবেদনকারীরা। সেখানে ভোটারদের জন্য মূলত তিনটি বিকল্প বা অপশন দেওয়া হয়েছে। প্রথমটি হল আবেদনকারীর নিজের নাম পূর্ববর্তী এসআইআর তালিকায় ছিল কিনা দ্বিতীয়টি হল আবেদনকারীর বাবা মা বা ঠাকুরদা ঠাকুমার নাম আগের এসআইআর তালিকায় ছিল কিনা এবং তৃতীয়টি হল এদের কারোর নামই আগের তালিকায় ছিল না। প্রথম দুটি বিকল্পের যেকোনো একটি বেছে নিলে আগের এসআইআর তালিকার বিধানসভা কেন্দ্র পোলিং বুথ নম্বর এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক সংখ্যা বা সিরিয়াল নম্বর দিতে হবে। এই তথ্য না থাকলে তৃতীয় বিকল্পটি বেছে নেওয়া যাবে তবে এর প্রভাব কী হবে তা পোর্টালে স্পষ্ট করা হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন এই বিশেষ নিয়মটি প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল গত বছরের জুন মাসে বিহারের এসআইআর প্রক্রিয়ার সময়। বিহারের দৈনিক এসআইআর বুলেটিনে দেখা গিয়েছে যে নতুন আবেদনকারীরা সফলভাবেই এই ঘোষণাপত্র সহ ফর্ম পূরণ করেছেন। এই নিয়মের মূল সুবিধা হল এর মাধ্যমে ভোটারদের পারিবারিক ম্যাপিং বা যোগসূত্র তৈরি করা অনেক সহজ হবে এবং নতুন ভোটারদের আবেদনের সঙ্গে বাড়তি নথিপত্র জমা দেওয়ার ঝামেলা অনেকটাই কমে যাবে। উল্লেখ্য দেশের প্রচলিত নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী ফর্ম ৬-এ আবেদনকারীর সঙ্গে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যদের ভোটার কার্ড বা এপিক নম্বর দেওয়ার নিয়ম আগে থেকেই ছিল। এবার সেই নিয়মকেই আরও কিছুটা বিস্তার ঘটিয়ে পূর্ববর্তী এসআইআর তালিকার সঙ্গে যুক্ত করা হল যদিও ১৯৬০ সালের রেজিস্ট্রেশন অফ ইলেক্টরস রুলস-এ এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বদল আনা হয়নি।
বর্তমানে দেশজুড়ে ভুয়ো মৃত স্থানান্তরিত অনুপস্থিত এবং বিদেশি ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দিতে এবং প্রকৃত যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের নাম নথিভুক্ত করতে জোরকদমে এসআইআর প্রক্রিয়া চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গ বিহার কেরালা এবং তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলিতে এই কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং অন্যান্য রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বর্তমানে এই প্রক্রিয়া চলছে। এই ব্যাপক ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু নাম বাদ পড়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছিল। এমনকি রাষ্ট্রপুঞ্জ বা ইউএন-এর বিশেষ প্রতিনিধিদলও এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে সম্প্রতি ভারত সরকারকে চিঠি পাঠিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে যে সুপ্রিম কোর্ট দ্বারা সমর্থিত এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং সাংবিধানিক। কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যালঘু ভোটারদের নিশানা করার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কমিশন জানিয়েছে ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আগে তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের এবং চ্যালেঞ্জ করার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়েছে।