
অফিসে চাকরি করা কর্মীরা ৮ ঘণ্টার পূর্ণ কর্মদিবসে মাত্র ২ ঘণ্টা ৫৩ মিনিটই কাজ করেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় এমনটাই উঠে এল। ভাউচারক্লাউডের পরিচালিত এই সমীক্ষায় ইংল্যান্ডে ১৮ বছরের বেশি বয়সী ১,৯৮৯ জন অফিস কর্মীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যারা সকলেই অফিসে পূর্ণকালীন চাকরি করেন। এতে দৈনন্দিন অভ্যাস, মনোযোগের বিচ্যুতি এবং কর্মক্ষেত্রে মানুষ আসলে কীভাবে তাদের সময় কাটায়, তা দেখা হয়েছে।
সরাসরি জিজ্ঞেস করা হলে, ৭৯ শতাংশ স্বীকার করেছেন যে তাঁরা সারাদিন কর্মক্ষম থাকেন না। মাত্র ২১ শতাংশ বিশ্বাস করেন যে তাঁরা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কর্মক্ষম থাকেন।
কোন বিষয়গুলো কর্মীদের মনোযোগ সবচেয়ে বেশি বিক্ষিপ্ত করে?
এরপর সমীক্ষায় বিশ্লেষণ করা হয়, কোন বিষয়গুলো মানুষকে কাজ থেকে মনোযোগ হারিয়ে দেয়? উত্তরদাতারা একাধিক বিকল্প বেছে নিতে পারতেন।
সোশ্যাল মিডিয়া দেখা – ৪৭%
ওয়েবসাইটে খবর পড়া – ৪৫%
সহকর্মীদের সঙ্গে কাজের বাইরে কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা– ৩৮%
চা খাওয়া– ৩১%
সিগারেটের জন্য বিরতি – ২৮%
টেক্সট বা ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং – ২৭%
হালকা খাবার খাওয়া – ২৫%
অফিসে খাবার তৈরি করা – ২৪%
সঙ্গী বা বন্ধুদের ফোন করা – ২৪%
নতুন চাকরির সন্ধান করা – ১৯%
শুধু খাবার ও চা-এর বিরতিতেই বেশ খানিকটা সময় চলে যায়। গড়ে, কর্মীরা প্রতিদিন প্রায় ২৫ মিনিট সময় ব্যয় করেন জলখাবার ও চা খেতে।
মনোযোগের হারালে কতটা সময় ব্যয় হয়?
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, একটি কর্মদিবসে এই কাজগুলোতে কতক্ষণ সময় লাগে:
সোশ্যাল মিডিয়া দেখা – ৪৪ মিনিট
খবর পড়া – ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট
কাজের বাইরের কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা করা – ৪০ মিনিট
চা খাওয়া – ১৭ মিনিট
সিগারেট ব্রেক – ২৩ মিনিট
টেক্সট বা ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং – ১৪ মিনিট
হালকা খাবার খাওয়া – ৮ মিনিট
খাবার তৈরি করা – ৭ মিনিট
সঙ্গী বা বন্ধুদের ফোন করা – ১৮ মিনিট
নতুন চাকরির সন্ধান করা – ২৬ মিনিট
একসঙ্গে শুধু খবর পড়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করতেই প্রায় দু'ঘণ্টা লেগে যেতে পারে।
কর্মক্ষেত্রে মনোযোগে বিঘ্ন ঘটানো প্রধান কারণগুলো এবং কর্মচারীরা প্রতিটিতে যে সময় ব্যয় করেন, তার একটি তালিকা রইল:
সোশ্যাল মিডিয়া দেখা ৪৭% ৪৪ মিনিট
সংবাদ ওয়েবসাইট পড়া ৪৫% ১ ঘণ্টা ৫ মিনিট
কাজের বাইরের কার্যকলাপ নিয়ে আলোচনা করা ৩৮% ৪০ মিনিট
চা খাওয়া ৩১% ১৭ মিনিট
সিগারেট ব্রেক ২৮% ২৩ মিনিট
টেক্সট বা ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং ২৭% ১৪ মিনিট
হালকা খাবার খাওয়া ২৫% ৮ মিনিট
অফিসে খাবার তৈরি করা ২৪% ৭ মিনিট
সঙ্গী বা বন্ধুদের ফোন করা ২৪% ১৮ মিনিট
নতুন চাকরির সন্ধান করা ১৯% ২৬ মিনিট
বিরতিই কি আসলেই সমস্যা?
মজার ব্যাপার হল, সবাই মনোযোগের বিচ্যুতিকে খারাপ বলে মনে করেন না। মাত্র ৩৫ শতাংশ বলেছেন যে তারা এগুলো ছাড়াই দিন পার করতে পারবেন। বাকি ৬৫ শতাংশ বলেছেন যে তারা পারবেন না।
এই দলের অর্ধেকেরও বেশি মনে করেন যে এই বিরতিগুলো দিনটিকে আরও সহনীয় করে তোলে এবং এমনকি পরে তাদের কর্মক্ষম থাকতেও সাহায্য করে।
ভাউচারক্লাউডের ক্রিস জনসনের ভাষায়, “আধুনিক কর্মক্ষেত্রে আমাদের মনোযোগ নষ্ট করার মতো অনেক কিছুই আছে, সম্ভবত আমরা নিজেদেরকে খুব সহজেই বিভ্রান্ত হতে দিচ্ছি।”
সংখ্যাগুলো একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে নির্দেশ করে। আধুনিক কর্মদিবস দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু এর মধ্যে মনোযোগ দিয়ে কাজ করার সময়টা আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক কম।