
EPFO Interest Credit Date 2025-26: চাকরিজীবীদের জন্য যেন একেবারে পোয়াবারো। প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ (PF) নিয়ে একের পর এক খুশির খবর শোনাল কেন্দ্র। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সম্ভবত মে মাসেই কর্মীদের পিএফ অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে চলেছে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের ৮.২৫ শতাংশ সুদের টাকা। অর্থ মন্ত্রকের সবুজ সংকেত মিললেই সরাসরি গ্রাহকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পৌঁছে দেবে ইপিএফও (EPFO)। তবে শুধু সুদ নয়, পেনশন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে এটিএম পরিষেবা, একগুচ্ছ চমক আসতে চলেছে সরকারি এই দফতর থেকে।
সাড়ে ৭ গুণ বাড়বে পেনশন?
সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে ইডিএস-৯৫ (EPS-95) পেনশন প্রকল্পে। বর্তমানে ন্যূনতম ১ হাজার টাকা পেনশন পান কর্মীরা। শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, এই অঙ্ক বাড়িয়ে অন্তত ৭,৫০০ টাকা করতে হবে। খোদ সংসদীয় কমিটিও পেনশন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। সরকার যদি এই প্রস্তাবে সিলমোহর দেয়, তবে পেনশনের পরিমাণ এক ধাক্কায় সাড়ে ৭ গুণ বেড়ে যাবে। বৃদ্ধ বয়সে যা লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে বড় অবলম্বন হবে।
এবার এটিএম কার্ডেই পিএফ
টাকা তোলার ঝক্কি কমাতেও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করছে ইপিএফও। সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতোই এবার পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলার জন্য এটিএম কার্ডের সুবিধা চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে। পোর্টালের কারিগরি সংস্কার চলছে দ্রুতগতিতে। এই পরিষেবা চালু হলে সাধারণ মানুষের কাছে নিজের জমানো টাকার নাগাল পাওয়া জলের মতো সহজ হয়ে যাবে।
ক্লেম সেটেলমেন্টে নয়া রেকর্ড
গত অর্থবর্ষে ইপিএফও নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছে। প্রায় ৮.৩১ কোটি ক্লেইম নিষ্পত্তি করে রেকর্ড গড়েছে এই সংস্থা। গত বছরের তুলনায় যা কয়েক গুণ বেশি। মজার বিষয় হলো, অধিকাংশ অগ্রিম বা আংশিক টাকা তোলার আবেদন মাত্র তিন দিনের মধ্যেই মেটানো হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে এখন আর নিয়োগকর্তার অনুমোদনের জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকতে হয় না। প্রায় ৭০ শতাংশ ট্র্যান্সফার ক্লেইম এখন অটো-প্রসেস মোডে হয়ে যাচ্ছে।
ই-প্রাপ্তি পোর্টালের জাদু
যাঁদের পুরনো পিএফ অ্যাকাউন্ট পড়ে আছে কিন্তু ইউএএন (UAN) নম্বর না থাকায় টাকা তুলতে পারছেন না, তাঁদের জন্য এল ‘ই-প্রাপ্তি’ (E-PRAAPTI) পোর্টাল। এই আধার-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলোকে সক্রিয় করা এবং সদস্য আইডি ছাড়াই পুরনো সঞ্চয় উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এপ্রিল মাসেও সংস্থাটি প্রায় ৬১ লক্ষ ক্লেইম নিষ্পত্তি করে নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারি দফতর এবার ডিজিটাল বিপ্লবের হাত ধরে সাধারণ কর্মীদের দুয়ারে পৌঁছে যেতে চাইছে।