
EPFO Rule: ধরুন আপনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তারপরও কিন্তু আপনার ইপিএফ অ্যাকাউন্ট বহাল তবিয়তে 'অ্যাকটিভ' থাকতে পারে। এটুকু মোটামুটি সকলেই জানেন। কিন্তু সেই অ্যাকাউন্টে কি আগের মতোই একটানা সুদ জমতে থাকবে? এক কথায় এর উত্তর হল 'না'। এর বিশেষ কিছু শর্ত রয়েছে। সেই শর্তাবলীর বিষয়েই এদিন জানাল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (EPFO)।
এক্স পোস্টে ইপিএফও জানিয়েছে, যেসব সদস্য ৫৫ বছর বয়সের আগেই আগাম অবসর গ্রহণ করেন, তাঁরা ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত তাঁদের ইপিএফ ব্যালেন্সের ওপর সুদ পেতে থাকবেন। এরপর অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় বা ডিঅ্যাকটিভেটেড হয়ে যায়।
৫৫ বছরের আগে অবসর নিচ্ছেন? সেক্ষেত্রে আপনার EPF-এ তখনও সুদ জমা হতে পারে।
উদাহরণস্বরূপ, ধরুন কোনও ব্যক্তি ৫৪ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করলেন।
স্বাভাবিকভাবেই ওই ব্যক্তি আর অফিস থেকে মাসিক যে ইপিএফ-র কন্ট্রিবিউশন দেয়, সেটা হয় তো পাবেন না। কিন্তু তার মানে এই নয় যে বর্তমানে যে ইপিএফ ব্যালেন্স জমে আছে, তার উপর সুদ জমা হওয়া সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমান স্ট্রাকচার অনুযায়ী, ইপিএফও সদস্যের বয়স ৫৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত আগের মতোই সুদ পেতে থাকবেন।
সুতরাং, ওই ব্যক্তি চাকরি ছাড়ার পর থেকে ৫৮ বছর বয়স হওয়া পর্যন্ত চার বছর ধরে সুদ পেতে থাকবেন। তাই খুব প্রয়োজন না হলে, ৫৮ বছর বয়সের আগে টাকা না তোলাই শ্রেয়।
একইভাবে, কেউ যদি যিনি ৫২ বা ৫৩ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন, তার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। ইপিএফ-এর নিয়ম অনুযায়ী, সদস্যের বয়স ৫৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টটিতে সুদ জমা হতে পারে।
৫৮ বছর বয়সের পর কী হয়?
বয়স ৫৮ বছর হয়ে গেলে, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। আর কোনও সুদ জমা হয় না।
তাহলে কি এরপর টাকা 'উধাও' হয়ে যাবে?
একেবারেই নয়। ইপিএফ ব্যালেন্স সদস্যের নামেই কানেক্টেড থাকে। সমস্যাটি হলো, অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে সেই ব্যালেন্সে আর কোনও সুদ জমা হয় না।
সরকার আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যে, ইপিএফ প্রকল্পের অধীনে ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত সুদ জমা হয়, অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার পর আর সুদ জমা হয় না।
এমন ক্ষেত্রে কী করবেন?
সবার আগে এটা বুঝতে হবে যে, ইপিএফ একটি লং টার্মে টাকা জমানোর জায়গা। তাই দ্রুত তাড়াহুড়ো করে এখান থেকে টাকা না তোলাই শ্রেয়। যতদিন টানতে পারবেন, ততই ভাল।
তবে কেউ যদি চাকরি আগেই রিটায়ারমেন্ট নিয়ে নেন এবং তারপর বয়স ৫৮ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে টাকা তুলে নিতেই পারেন।
যাঁরা সম্প্রতি চাকরি পরিবর্তন করেছেন অথবা যাঁদের আগের কোম্পানির থেকে পাওয়া পুরোনো EPF অ্যাকাউন্ট আছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টের স্ট্যাটাস নিয়মিত চেক করা উচিত। EPF ব্যালেন্সটি কারেন্ট UAN-এর সাথে সঠিকভাবে কানেক্টেড আছে কিনা তা চেক করে নেওয়া উচিত।
সহজ ভাষায়, নতুন চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বলেই পুরনো ইপিএফ অ্যাকাউন্টটি বেমালুম ভুলে মেরে দেবেন না। মনে রাখবেন, এক মনে ইপিএফও-তে টাকা জমাতে পারলে, সেটাই আপনার ভবিষ্যত অনেক বেশি সিকিওর করে তুলতে পারে।