
পিএফে বড়সড় পরিবর্তন। এর আওতায় ইপিএফও-র কভারেজের জন্য স্যালারি লিমিট মাসে ১৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৫,০০০ টাকা। সরকারের আশা, এই পরিবর্তনের ফলে আরও ৫১ লক্ষের বেশি কর্মী ইপিএফও-র আওতায় আসবেন। ইপিএফও নির্ধারিত সংশোধিত ২৫,০০০ টাকার বেতনসীমা ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে যা চালু হচ্ছে পুরোদমে। এর ফলে কর্মীদের বেতন থেকে পিএফ হিসেবে কাটা টাকার পরিমাণও বাড়তে পারে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকেই কার্যকর হয়েছে ইপিএফও এই সিদ্ধান্ত। ফলে সেপ্টেম্বর মাসে পুরনো এবং নতুন বেতন লিমিট অনুযায়ী আনুপাতিক হিসাব করতে হবে। অক্টোবর মাসের বেতন দেওয়া হবে নতুন নিয়মে। এবার প্রশ্ন হল, আপনার স্যালারি থেকে পিএফ কাটলে হাতে পাওয়া বেতন কি কমে যাবে?
প্রথমে বোঝা যাক, আগে কী ছিল, এখন কী বদলাচ্ছে? সহজ ভাষায়, আগে পিএফের স্যালারি লিমিট ছিল মাসে ১৫,০০০ টাকা। তাহলে ধরুন, কারও বেসিক স্যালারি ২০ হাজার টাকা ছিল। সেক্ষেত্রে তাঁর ক্ষেত্রে পিএফের সুবিধে নেওয়া ছিল ঐচ্ছিক, বাধ্যতামূলক নয়। এখন সেই লিমিট ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে ২০ হাজার টাকার বেসিক স্যালারি হলেই বাধ্যতামূলকভাবে পিএফ ও পেনশনের টাকা কাটতেই হবে নিয়োগকারীরা। নিশ্চিত হল, অবসরকালীন সঞ্চয় এবং পেনশন।
পিএফ কাটার হিসাব
ধরা যাক, আপনার বেতন ২০ হাজার টাকা। অক্টোবর থেকে বেতনের ১২ শতাংশ কাটা যাবে। মানে ২৪০০ টাকা জমা পড়বে পিএফ অ্যাকাউন্টে। ২৪০০ টাকা দিতে হবে কোম্পানি। সেই টাকা সরাসরি পুরোটা কর্মীর ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হবে না। এর একটি অংশ যাবে কর্মচারী পেনশন স্কিমে এবং বাকিটা ইপিএফ অ্যাকাউন্টে।
২,৪০০ টাকার মধ্যে ১,৬৬৬ টাকা, অর্থাৎ ৮.৩৩ শতাংশ যাবে পেনশন স্কিমে।
বাকি ৩.৬৭ শতাংশ, অর্থাৎ ৭৩৪ টাকা যাবে পিএফে।
কর্মী এবং নিয়োগকর্তা মিলিয়ে মোট অবদান ৪,৮০০ টাকা।
২৫,০০০ টাকার উপর PF দিতে হবে?
উত্তর হল, না। ২৫,০০০ টাকা হল লিমিট। প্রত্যেক কর্মীর ক্ষেত্রে ২৫,০০০ টাকা ধরে পিএফের অঙ্ক নির্ধারণ হবে না। কোনও কর্মীর বেতন ২৫,০০০ টাকার কম হলে সেই বেতনের ভিত্তিতেই হিসেব করা হবে। ইপিএফও স্পষ্ট করেছে, পিএফ-যোগ্য বেতন এবং মোট বেতন এক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। উদাহরণ, অক্টোবর মাসের জন্য ইপিএফও-র দেওয়া হিসাবে ১০,০০০ টাকা বেতনের ক্ষেত্রে কর্মীর পিএফ অবদান ১,২০০ টাকা। ২০,০০০ টাকা বেতনের ক্ষেত্রে তা ২,৪০০ টাকা। ২৫,০০০ টাকায় সেটা ৩,০০০ টাকা।
স্যালারিতে কী বদল?
যাঁদের পিএফের অবদান আগে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ছিল, তাঁদের মাসিক পিএফ কাটার পরিমাণ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে নিয়োগকর্তার অবদানও সেই অনুপাতে বাড়বে। তবে কর্মীর হাতে পাওয়া বেতনের উপর ঠিক কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করবে তাঁর বর্তমান অবদান এবং বেতন কাঠামোর উপর। নিয়োগকর্তার অবদান এবং কর্মীর অবদান আলাদা। নিয়োগকর্তার অংশকে তাঁর CTC-র অংশ হিসাবে দেখিয়ে সেটিকে কর্মীর বেতন থেকে কেটে নেওয়া অর্থ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।