
এখন অধিকাংশ মানুষই বেসরকারি চাকরি করেন। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তাঁরা নিয়মিত কোম্পানি সুইচ করেন। আর এতদিন নতুন জায়গায় কাজে যোগ দেওয়ার পর কর্মীদের আগের সংস্থার প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ নতুন সংস্থায় স্থানান্তরের জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হতো। যদিও এবার সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ হয়ে গিয়েছে।
এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে চাকরি বদলানোর পর কর্মীদের আর আলাদা করে পিএফ ট্রান্সফারের জন্য অ্যাপ্লাই করতে হবে না। যদি ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (ইউএএন) আধারের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং অন্যান্য জরুরি শর্ত পূরণ হয়, তাহলে নতুন সংস্থায় যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরনো পিএফ-এর টাকা অটোমেটিক ট্রান্সফার হয়ে যাবে। নতুন করে কিছু করতে হবে না।
কোন নিয়মে বদল?
এতদিন কর্মীদের আগের সংস্থার পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে নতুন সংস্থার পিএফ অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফারের জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হতো। সেই আবেদন ইপিএফও খতিয়ে দেখত। অনেক ক্ষেত্রে পুরনো কোম্পানির যাচাইও প্রয়োজন হতো।
নতুন ব্যবস্থায়, যেসব সদস্যের অধার অথেন্টিকেটেড ইউএএন সঠিকভাবে যুক্ত রয়েছে, তাদের পিএফ-এর টাকা ইপিএফও নিজে থেকেই ট্রান্সফার করবে। ফলে অনলাইন বা অফলাইনে আলাদা করে ট্রান্সফারের আবেদন করার প্রয়োজন পড়বে না।
ইপিএফও তাদের সেন্ট্রালাইজড আইটি এনাবেলড সার্ভিসেস প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার পর এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সদস্যদের সমস্ত তথ্য ও পরিষেবাকে একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে।
নতুন প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করবে?
একজন কর্মীর ইউএএন একবার তৈরি হলে সারাজীবন একই থাকে। তবে যখনই তিনি নতুন কোনও সংস্থায় যোগ দেন, তখন তাঁর নামে একটি নতুন পিএফ মেম্বার আইডি তৈরি হয়।
নতুন ব্যবস্থায়, একই ইউএএন-এর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মেম্বার আইডি-কে ইপিএফও নিজে থেকেই সংযুক্ত করবে। তারপর যোগ্য সদস্যদের পিএফ-এর টাকা অটোমেটিক নতুন অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেবে। এর জন্য কর্মীকে আলাদা করে কোনও আবেদন করতে হবে না।
কর্মীদের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আসলে এখন অনেকেই একাধিকবার চাকরি পরিবর্তন করেন। ফলে একই ইউএএন-এর অধীনে একাধিক পিএফ মেম্বার আইডি তৈরি হয়ে যায়।
এই সব অ্যাকাউন্ট এক জায়গায় একত্রিত হলে অবসরকালীন সঞ্চয়ের হিসেব রাখা অনেক সহজ হবে। পাশাপাশি কর্মজীবনের ধারাবাহিক রেকর্ডও বজায় থাকবে এবং একাধিক অ্যাকাউন্টের বদলে এক জায়গাতেই পুরো পিএফ-এর টাকা দেখা যাবে।
এই পদক্ষেপের ফলে কাগজপত্রের ঝামেলা কমবে, পিএফ ট্রান্সফারের সময় কম লাগবে। চাকরি বদলানোর প্রক্রিয়াও কর্মীদের জন্য আরও সহজ হবে বলে মনে করছে ইপিএফও।