
প্রভিডেন্ট ফান্ড বা PF থেকে টাকা তোলার নিয়মে কিছু সংশোধনী আনল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPFO)। ঠিক কতটা টাকা তোলা যাবে, কী কী কারণে টাকা তোলা যাবে, এই সব কিছুই স্পষ্ট করা হল নতুন গাইডলাইনে। পিএফ-এর সঞ্চয় থেকে আপদে-বিপদে কতটা টাকা তুলতে পারবেন কর্মী, তার নিয়মে কিছু সংশোধনী আনা হয়েছে।
EPFO-র নয়া রুল অনুযায়ী, টাকা তোলার কারণগুলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১. জরুরি প্রয়োজন, ২. ঘরবাড়ি সম্পর্কিত প্রয়োজন ও ৩. বিশেষ ক্ষেত্র। প্রতিটি ক্যাটেগরিতে টাকার তোলার ক্ষেত্রে পৃথক সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ বার টাকা তোলা যাবে
ক্যাটেগরি ওয়ানের আওতায় নিজের অথবা পরিবারের কোনও সদস্যের শারীরিক অসুস্থতা বা মেডিক্যাল এমার্জেন্সির জন্য যতবার ইচ্ছে টাকা তুলতে পারা যাবে পিএফ থেকে। শিক্ষার জন্য খরচ সামলাতে পিএফ থেকে সর্বোচ্চ ১০ বার টাকা তোলা যাবে। এই সীমা এপিএফও সদস্য ও পরিবারের সদস্য, সকলের জন্যই সমান।
বিয়ের খরচের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বার পিএফ থেকে টাকা তোলা যাবে। এই সীমা এপিএফও সদস্য ও পরিবারের সদস্য, সকলের জন্যই সমান। এই উদ্দেশ্যগুলির জন্য নির্দিষ্ট বিভাগভিত্তিক সীমা নির্ধারণ করে দেয়, একজন সদস্য কতবার তাঁর EPF-এর সঞ্চিত অর্থ তুলতে পারবেন। তবে প্রতিটি অগ্রিম টাকা তোলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলিও মানতে হবে।
বাড়িঘর সংক্রান্ত খরচে সর্বোচ্চ ৫ বার টাকা তোলা যাবে
ক্যাটেগরি টু-এর আওতায় বাড়ি সংক্রান্ত খরচের ক্ষেত্রে বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য, বাড়ি তৈরির জন্য, হোম লোন মেটানো, বাড়ির মেরামত অথবা বাড়ি বদল, এই সবের ক্ষেত্রে পিএফ থেকে টাকা তোলা যাবে। এই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ বার টাকা তোলা যাবে।
ক্যাটেগরি III-তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট জরুরি পরিস্থিতির মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে EPF-এর টাকা তোলার নিয়ম রয়েছে। গাইডলাইন অনুযায়ী, এই বিভাগের অধীনে সদস্যরা একটি আর্থিক বছরে সর্বোচ্চ দু’বার টাকা তুলতে পারেন। এই বার্ষিক সীমা শিক্ষা, বিয়ে ও বাড়ি কেনার মতো খাতে টাকা তোলার নিয়ম থেকে আলাদা। ওই ক্ষেত্রগুলিতে EPF সদস্যপদের মেয়াদের ভিত্তিতে টাকা তোলার সীমা নির্ধারিত হয়।
EPF-এর ব্যালেন্সের ৭৫ শতাংশ তোলার নিয়ম
গাইডলাইনে আরও বলা হয়েছে, EPF সদস্যপদের ১২ মাস পূর্ণ হওয়ার পর কর্মী ও নিয়োগকর্তার জমা এবং তার উপর অর্জিত সুদ মিলিয়ে মোট EPF ব্যালেন্সের সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ তোলা যেতে পারে।