
ভারতীয় রেলের ইতিহাসে এক নয়া পালক জুড়ল হাওড়া ডিভিশনের মুকুটে। দেশের মধ্যে প্রথমবার এবার EMU ট্রেনের রেকে সফল ভাবে পরীক্ষা হল কবচ v4.0 সিস্টেমের। ফলে রেলেওয়ে নিরাপত্তায় একধাপে অনেকখানি এগিয়ে গেল পূর্ব রেলের হাওড়া ডিভিশন। এর আগে দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেনে কবচের পরীক্ষা হলেও, এই প্রথমবারের জন্য লোকাল ট্রেনের রেকে কবচ v4.0 সিস্টেমের পরীক্ষা হল একেবারে সফল ভাবে।
রেলসূত্রে খবর, এই পরীক্ষার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল হাওড়া ইএমইউ কারশেডের একটি সাধারণ EMU রেককে। এরপর হাওড়া-বর্ধমান কর্ড লাইনে পরীক্ষা হয় অত্যাধুনিক কবচের। আর তাতে সফল ভাবেই পাশ করে যায় কবচ প্রযুক্তি।
এই কবচ আদতে কী?
এটি রেলের একটি অত্যাধুনিক সেফটি ফিচার। এটিকে রেলের Automatic Train Protection (ATP) ব্যবস্থা বলা যেতে পারে। কোনও ট্রেনচালক সামনের দিকে থাকা বাধা দেখতে না পেলেও বা সিগন্যাল ব্রেক করলেও এই সিস্টেম নিজে থেকে ট্রেনের গতি কমাতে বা ব্রেক প্রয়োগ করতে পারে। এর অন্যতম লক্ষ্য হল SPAD (Signal Passed At Danger) কমানো। অর্থাৎ, লাল সিগন্যাল ভেঙে ট্রেন যাতে সামনে এগিয়ে না যায়।
হাওড়া বর্ধমান লাইনের এই ট্রেনে কবচের সফল পরীক্ষার সময় যে বিষয়গুলির দিকে নজর দেওয়া হল, সেই তালিকায় রয়েছে -
DMI-তে রিয়েল-টাইম সিগন্যাল
চালকের সামনে থাকা Driver Machine Interface (DMI)-তে সিগন্যালের পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে দেখানো হয়েছে। ফলে চালক ট্রেনের সামনে সিগন্যালের অবস্থা সম্পর্কে আরও পরিষ্কার তথ্য পান।
সিগন্যাল ভাঙলেও সর্বোচ্চ ১৫ কিমি গতি
বিশেষ বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চালককে সিগন্যাল ওভার রাইড করার অনুমতি দেওয়া হলেও ট্রেনের গতি ১৫ কিলোমিটার/ঘণ্টার বেশি হতে দেয় না এই সিস্টেম। ফলে ঝুঁকি থাকে অনেক কম।
লাল সিগন্যালের আগে অটোমেটিক ব্রেক
লাল সিগন্যালের আগে চালক কোন ভুল করলেও কোনও ভুল করবে না প্রযুক্তি। ট্রেন বিপজ্জনক অর্থাৎ লাল সিগন্যালের দিকে এগিয়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী Kavach System নিজে থেকেই ব্রেক প্রয়োগ করতে পারে। ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কমে যায়। এই টেস্টও EMU-তে সফল হয়েছে।
পাশাপাশি, যদি কোনও কারণে মাঝ রাস্তায় ট্রেন বন্ধ হয়ে যায়, তবে আপৎকালীন পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্টেশন মাস্টারকে SOS কল দিতে পারবেন চালক। সেই সিস্টেমেরও এদিন সফল পরীক্ষা সম্ভব হয়েছে।
লোকাল ট্রেনে কবচ পরীক্ষা আপাতত সফল হওয়ার ফলে এটিকে যাত্রী সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক হিসেবে ধরা হচ্ছে। কারণ এরফলে যাত্রী নিরাপত্তা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। কবচ ইন্সটলেশনের ফলে কমে দুর্ঘটনার প্রবণতাও।