
ফিক্সড ডিপোজিটকে নিরাপদ বিনিয়োগ মনে করেন অনেকেই। তাই সঞ্চয়ের একটা বড় অংশ ব্যাঙ্কের এফডিতে রেখে দেন। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, ব্যাঙ্কটাই উঠে গেলে আপনার লক্ষ লক্ষ টাকার কী হবে? আসলে ব্যাঙ্কে জমা থাকা প্রতিটি টাকার সবটাই বিমার আওতায় থাকে না। তাহলে কি সব টাকাই ডুবে যাবে? নাকি একটা অংশ পাবেন? এই প্রতিবেদনে রইল সব প্রশ্নের উত্তর।
ব্যাঙ্কের এফডিতে বিনিয়োগ করার সময় শুধু রিটার্নের দিকে নজর দিলেই হবে না। ব্যাঙ্কের ঝুঁকি এবং ডিপোজিট ইনশিওরেন্স কভার সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন। এফডি বেছে নেওয়ার সময় শুধু কোন ব্যাঙ্ক সবচেয়ে বেশি সুদ দিচ্ছে, সেটা দেখা যথেষ্ট নয়। বড় অঙ্কের টাকা জমা করার আগে ওই ব্যাঙ্কে DICGC-এর অধীনে বিমার সুবিধে রয়েছে কিনা সেটা দেখে নিন। না হলে আপনার পুরো টাকাটাই জলে যাবে। এবার জানা যাক বিমার নিয়মটা কী
ব্যাঙ্কে ১০ লক্ষের এফডি থাকলে
ধরা যাক, আপনি কোনও একটি ব্যাঙ্কে ১০ লক্ষ টাকার ফিক্সড ডিপোজিট করেছেন। ব্যাঙ্ক কোনও কারণে দেউলিয়া হয়ে গেলে আপনার পুরো ১০ লক্ষ টাকা সুরক্ষিত থাকবে না। DICGC-এর নিয়ম অনুযায়ী, একটি ব্যাঙ্কে এক জন আমানতকারীর সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আমানত বিমার আওতায় থাকে। এই টাকাটা আসল ও সুদ মিলিয়ে। অর্থাৎ এফডির পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে অতিরিক্ত টাকায় বিমার সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না।
একই ব্যাঙ্কে একাধিক এফডি করলেই কী হবে
অনেকের ধারণা, ১০ লক্ষ টাকা একই ব্যাঙ্কে ২-৩টি আলাদা এফডিতে ভাগ করে রাখলে বিমা পাবেন। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। ধরুন, একই ব্যাঙ্কে আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্টে ৪ লক্ষ টাকা রয়েছে। পাশাপাশি ৫ লক্ষ টাকার একটি এফডি এবং ৩ লক্ষ টাকার আরও একটি এফডি রয়েছে। এই পুরোটাই হিসেব করা হবে। অর্থাৎ মোট আমানতের পরিমাণ ১২ লক্ষ টাকা হলেও সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্তই বিমা সুরক্ষা মিলবে। একই ব্যাঙ্কের বিভিন্ন শাখায় আলাদা আলাদা এফডি করলেও প্রতিটি শাখার জন্য পৃথক ৫ লক্ষ টাকার বিমা কভার পাওয়া যায় না।
টাকা নিরাপদ রাখার উপায়
পুরো সঞ্চয় একটি ব্যাঙ্কে রাখবেন না। বরং একাধিক ব্যাঙ্কে ভাগ করে রাখুন। DICGC-এর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা কভার আলাদা আলাদা ব্যাঙ্কে পাবেন। ফলে একই ব্যাঙ্কে টাকা না রেখে আলাদা ব্যাঙ্কে রাখতে পারবেন। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, কারও কাছে ১৫ লক্ষ টাকা রয়েছে। সেই টাকা তিনটি পৃথক ব্যাঙ্কে ভাগ করে রাখলে প্রতিটি ব্যাঙ্কে রাখা আমানতের উপর বিমা কভার পাবেন।