
Gold-Silver Crash: যারা জুনের আগে সোনা ও রুপো কিনেছিলেন, তাদের জন্য জুন মাসটি ভালো যায়নি, কারণ এই মাসে সোনা ও রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। তাই, অনেক বিনিয়োগকারী এখন সোনা ও রুপো কেনার দিকে ঝুঁকছেন। প্রসঙ্গত, ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শেষ হওয়া এবং শান্তি আলোচনা শুরু হওয়া সত্ত্বেও জুন মাসে সোনা ও রুপোর দাম তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। সোনা ও রুপোর দাম বাড়ার কথা থাকলেও, এই মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম তীব্রভাবে কমে গেছে। আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন এই উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে-
জুন মাসে সোনা ও রুপোর দাম তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১৭,০০০ টাকা কমেছে। ২৯ মে থেকে এর দাম ১০.৩৬% হ্রাস পেয়েছে। রুপোর দামেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। জুন মাসে রুপোর দাম ৫১,০০০ টাকা কমেছে, যা ১৮.৫৬% হ্রাস। এই উল্লেখযোগ্য পতনের পর বিনিয়োগকারীরা সোনা ও রুপোয় বিনিয়োগের কথা ভাবছেন।
সোনা ও রুপোর দাম এত কমে গেল কেন?
মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর সোনা ও রুপোর দাম বাড়ার প্রত্যাশা করা হয়েছিল, কিন্তু এরপর মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের একটি বিবৃতির কারণে দামে তীব্র পতন ঘটে। ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ এই বছর সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই ইঙ্গিতের পর সোনা ও রুপোর দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়। অনেক বিশেষজ্ঞ ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর পূর্বাভাসও দিচ্ছেন, যে কারণে সোনা ও রুপোর দাম ক্রমাগত কমছে। এর পাশাপাশি, বিনিয়োগকারীরা উচ্চ মূল্য থেকে সোনা ও রুপা বিক্রি করে নিরাপদ সম্পদের পরিবর্তে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ বাড়িয়েছেন, যার কারণে সোনার দরপতন আরও বড় হয়েছে।
সোনা ও রুপার দাম এ পর্যন্ত কতটা কমেছে?
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সোনার দাম তার সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তর থেকে প্রায় ২৯% কমে ৪,০০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, রুপোর দাম ৫০%-এর বেশি কমে প্রতি আউন্স প্রায় ৫৭ ডলারে অবস্থান করছে।
দেশের কিছু প্রধান শহরে সোনার দাম
রুপোর পরিস্থিতি
সোনার মতো রুপোর দামও সাপ্তাহিক ভিত্তিতে কমছে। এক সপ্তাহে দাম ১০,০০০ টাকা কমেছে। ২৮ জুন সকালে রুপোর দাম ছিল প্রতি কিলোগ্রাম ২,৪০,০০০ টাকা। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট রুপোর দাম প্রতি আউন্স ৫৯.১২ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। সোনা ও রুপার দাম দেশীয় এবং বৈশ্বিক উভয় কারণ দ্বারাই প্রভাবিত হয়। বর্তমান ইঙ্গিত থেকে বোঝা যাচ্ছে যে বিনিয়োগকারীরা রুপোর চেয়ে সোনার প্রতি বেশি আগ্রহী।
(দ্রষ্টব্য- যেকোনও স্টকে বিনিয়োগ করার আগে অবশ্যই আপনার আর্থিক উপদেষ্টার সাহায্য নিন।)