
মোবাইল রিচার্জের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (TRAI)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, টেলিকম সংস্থাগুলিকে এমন আরও বেশি রিচার্জের সুযোগ রাখতে হবে, যেখানে মোবাইল ডেটা থাকবে না। সেই অনুযায়ী ট্যারিফও কমাতে হবে। ফলে জিও, এয়ারটেল এবং ভোডাফোন আইডিয়া-র গ্রাহকরা এবার ডেটা বাদ দিয়ে শুধু ভয়েস কল এবং SMS-এর প্ল্যান বেছে নেওয়ার আরও সুযোগ পাবেন।
TRAI জানিয়েছে, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হল গ্রাহকদের আরও বেশি কলিংয়ের সুবিধা দেওয়া। বিশেষ করে নিম্নবিত্ত, প্রবীণ নাগরিক এবং যাঁরা ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য মূলত Wi-Fi-এর উপর নির্ভর করেন, তাঁদের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হবে। যাঁদের মোবাইল ডেটার প্রয়োজন খুব কম, তাঁদের অপ্রয়োজনীয় ডেটার জন্য আর টাকা দিতে হবে না।
কী রয়েছে নতুন নিয়মে?
নতুন সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, Reliance Jio, Bharti Airtel এবং Vodafone Idea (Vi)-কে ভয়েস ও SMS-ভিত্তিক এমন কিছু প্ল্যান আনতে হবে, যার মেয়াদ ৩০ দিন বা তার কম। সংস্থাগুলি বর্তমানে কল, SMS ও ডেটা প্ল্যানের একগুচ্ছ অফার দেয় গ্রাহকদের।
এই ভয়েস ও SMS-ভিত্তিক প্ল্যানগুলির দাম সংশ্লিষ্ট ডেটা-সহ প্ল্যানের তুলনায় কম হতে হবে। অর্থাৎ, ডেটা বাদ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে ট্যারিফও কমাতে হবে।
এছাড়াও, টেলিকম সংস্থাগুলিকে অন্তত একটি এমন ভয়েস ও SMS-ভিত্তিক প্ল্যান দিতে হবে, যা প্রতি মাসে একই তারিখে পুনরায় রিচার্জ করা যায়। কোনও মাসে সেই তারিখ না থাকলে ওই মাসের শেষ দিনে প্ল্যানটি রিনিউ করা যাবে।
এর পাশাপাশি, সংস্থাগুলিকে দীর্ঘ মেয়াদের অন্তত একটি ভয়েস ও SMS-ভিত্তিক ভাউচারও দিতে হবে, যা তারা যে দীর্ঘমেয়াদি বান্ডেল প্ল্যান অফার করে তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
কেন এই নিয়ম আনল TRAI?
TRAI জানিয়েছে, তারা লক্ষ্য করেছিল, টেলিকম সংস্থাগুলি সীমিত সংখ্যক ভয়েস ও SMS-ভিত্তিক Special Tariff Voucher (STV) অফার করছিল। এর বেশিরভাগই ছিল দীর্ঘ মেয়াদের প্ল্যান। ফলে কম আয়ের গ্রাহকদের জন্য স্বল্প মেয়াদে সাশ্রয়ী রিচার্জের বিকল্প তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
এই পরিস্থিতি বদলাতে TRAI ৭ এপ্রিল ২০২৬-এ Telecom Consumer Protection (Thirteenth Amendment) Regulations, 2026-এর খসড়া প্রকাশ করে জনসাধারণের মতামত চায়।
এই বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের কাছ থেকে মোট ১ হাজার ১৩২টি মতামত পাওয়া যায়। এরপর ১৫ জুন ২০২৬-এ Open House Discussion আয়োজন করা হয়। মতামত পর্যালোচনা এবং নিজেদের বিশ্লেষণের পর TRAI সংশোধনীটি চূড়ান্ত করে।
সাধারণ মোবাইল গ্রাহকদের কী সুবিধা হবে?
যাঁদের মোবাইল ডেটার প্রয়োজন নেই বা খুব কম, তাঁদের জন্য নতুন নিয়মে রিচার্জের বিকল্প বাড়বে। যেমন, কোনও ব্যক্তি যদি মূলত ফোন করা ও SMS-এর জন্য মোবাইল ব্যবহার করেন এবং ইন্টারনেটের জন্য Wi-Fi ব্যবহার করেন, তাহলে তাঁকে ডেটা-সহ বান্ডেল প্ল্যান নিতে হবে না। পরিবর্তে তিনি শুধু ভয়েস ও SMS-এর প্ল্যান বেছে নিতে পারবেন।
তবে ঠিক কত টাকা সাশ্রয় হবে, তা নির্ভর করবে জিও, এয়ারটেল এবং Vi নতুন প্ল্যানগুলির দাম কত রাখে তার উপর।
মাসিক একই তারিখে রিচার্জ করার সুযোগ থাকায় রিচার্জের তারিখ মনে রাখাও কিছুটা সহজ হতে পারে। বর্তমানে অনেক প্রিপেইড প্ল্যানের মেয়াদ ২৮ দিন হওয়ায় প্রতি মাসে একই তারিখে রিচার্জ করার বিষয়টি থাকে না।
২৮ দিনের প্ল্যান কি এবার বদলে যাবে?
নতুন নিয়মের ফলে সব ২৮ দিনের প্ল্যানকে ৩০ দিনের প্ল্যানে বদলে দেওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। TRAI-এর সংশোধনীর মূল লক্ষ্য হল ভয়েস ও SMS-ভিত্তিক প্ল্যানের সংখ্যা বাড়ানো, মাসিক ভিত্তিতে রিনিউয়ের একটি বিকল্প দেওয়া এবং এই প্ল্যানগুলির ট্যারিফ যথাযথভাবে কম রাখা।
বর্তমানে অনেক প্রিপেইড প্ল্যানের মেয়াদ ২৮ দিন। ফলে একটানা পরিষেবা চালু রাখতে বছরে ১২টির বদলে ১৩ বার রিচার্জ করতে হতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, ২৮ দিনের মেয়াদের একটি ২৯৯ টাকার প্ল্যান হলে ১৩ বার রিচার্জে খরচ হবে ৩ হাজার ৮৮৭ টাকা। একই দামের কোনও প্ল্যানের মেয়াদ ৩০ দিন হলে ১২ বার রিচার্জে খরচ হবে ৩ হাজার ৫৮৮ টাকা, যা ৩৬০ দিনের পরিষেবার হিসাব। এটি শুধুমাত্র একটি উদাহরণ এবং ধরে নেওয়া হয়েছে যে প্ল্যানটির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
অর্থাৎ, নতুন সংশোধনী সরাসরি ২৮ দিনের সমস্ত প্ল্যানকে ৩০ দিনের করার নিয়ম নয়। মূল বিষয় হল, ডেটা প্রয়োজন নেই এমন গ্রাহকদের জন্য আরও বেশি ভয়েস ও SMS-ভিত্তিক রিচার্জের সুযোগ, মাসিক রিনিউয়ের বিকল্প এবং সেই প্ল্যানগুলিতে উপযুক্ত কম ট্যারিফ নিশ্চিত করা।