
PNG Apply Process: দেশে রান্নার গ্যাসের ঘাটতির মধ্যে মানুষ দ্রুত PNG সংযোগ নিচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে পিএনজি সংযোগ গ্রহণকারীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৬ সালের মার্চ থেকে ৫.০১ লক্ষেরও বেশি নতুন পিএনজি সংযোগ সক্রিয় করা হয়েছে, এবং প্রায় ৫.৬৮ লক্ষ নতুন গ্রাহক এর জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন।
এই আকস্মিক বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা। দেশের কিছু অংশে এলপিজি সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ায়, পিএনজি কানেকশনের প্রবণতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া, সরকার এখন পরিবার ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিএনজি সংযোগ নেওয়ায় উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে, কারণ এটি আরও সুবিধাজনক ও স্থিতিশীল সরবরাহের একটি বিকল্প।
PNG সংযোগে ব্যাপক বৃদ্ধি
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মার মতে, গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এখন অগ্রাধিকার। ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত, প্রায় ৩৯,৪০০ গ্রাহক তাদের এলপিজি সংযোগ সারেন্ডার করে পিএনজি-তে স্থানান্তরিত হয়েছেন। সরকার IGL এবং MGL-এর মতো সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন (CGD) কোম্পানিগুলোকে বাণিজ্যিক ও আবাসিক সংযোগ প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছে। ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস লিমিটেড (IGL) আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ৪.৮৫ লক্ষ নতুন সংযোগ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
সরকার বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ নতুন সংযোগ প্রদান করে এবং এই সংখ্যা ২০,০০০-এ উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারত সরকারের লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশে পিএনজি সংযোগের সংখ্যা বাড়িয়ে ১২.৬ কোটিতে নিয়ে যাওয়া।
PNG সংযোগের জন্য কীভাবে আবেদন করবেন?
প্রথমে, আপনার শহরে পিএনজি পরিবেশককে খুঁজে বের করুন। উদাহরণস্বরূপ, দিল্লি এনসিআর-এ আইজিএল, মুম্বাই-এ এমজিএল এবং গুজরাতে গুজরাত গ্যাস হলো প্রধান অপারেটর। তারপর, আপনার এলাকায় পাইপলাইন পাতা আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য এই সংস্থাগুলির ওয়েবসাইটে আপনার পিন কোড লিখুন।
আবেদন প্রক্রিয়া
আপনি অনলাইনে অথবা গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে গিয়ে আবেদন করতে পারেন। পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণপত্র এবং সম্পত্তির কাগজপত্র প্রয়োজন হবে। এছাড়াও আপনাকে একটি ফেরতযোগ্য জামানত দিতে হবে, যার পরিমাণ সাধারণত ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
আবেদন করার পর একটি কারিগরি দল স্থানটি পরিদর্শন করে এবং ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে মিটার ও পাইপলাইন বসিয়ে সরবরাহ শুরু করা হয়। পিএনজি শুধু নিরাপদই নয়, এটি সিলিন্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তাও দূর করে। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশকে একটি গ্যাস-ভিত্তিক অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস রেগুলেটরি বোর্ড (PNGRB)-এর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে মোট গার্হস্থ্য পিএনজি (DPNG) সংযোগের সংখ্যা প্রায় ১.৬৫ কোটিতে পৌঁছেছে। এর মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগের সংখ্যা প্রায় ৪৮,১৯১ এবং শিল্প সংযোগের সংখ্যা প্রায় ২১,৪৬৪।