
ভারতীয় বাজ়ারে রেট্রো লুকের একটি আধুনিক বাইক আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে হিরো মোটোকর্প (Hero MotoCorp)। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা একটি পেটেন্ট থেকেই এই জল্পনা শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই সংস্থা একটি নতুন মোটর সাইকেলের নকশার পেটেন্ট করিয়েছে, যা আদতে রেট্রো স্টাইলের একটি কমিউটার বাইক। পেটেন্টে বাইকটির যে নকশা দেখা গিয়েছে, তা হিরোরই পুরনো দু’টি মোটর সাইকেলের সঙ্গে বেশ মিলে যায়।
এক সময় হিরো-র ঝুলিতে রেট্রো লুকের একটি স্প্লেন্ডর (Splendor) ছিল। ২০১৪ সালে সংস্থাটি ছোট আকারের এবং রেট্রো ডিজাইনের ওই বাইকটি বাজারে এনেছিল ঠিকই, কিন্তু সে সময় তা বিশেষ সাফল্য পায়নি। তবে, ঠিক একই রকম দেখতে একটি বাইক হিরো গ্রুপ বর্তমানে জিসিসি (GCC) ভুক্ত দেশগুলিতে বিক্রি করে। বাইকটির নাম হিরো ইকো ১৫০ (Hero ECO 150)। এই মডেলটির একটি কার্গো এডিশনও রয়েছে।
কী কী চমক থাকছে নতুন বাইকে?
মনে করা হচ্ছে, এই দুই বাইকের নকশার মিশেলেই নতুন কোনও প্রোডাক্ট বাজারে আনার পরিকল্পনা করছে সংস্থা। হিরোর চূড়ান্ত পেটেন্টের নকশা অনেকটাই পুরনো স্প্লেন্ডর প্রো ক্লাসিক এবং বিদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া ইকো ১৫০-এর মতো। ফাইলিংয়ে এর রেজিস্ট্রেশনের তারিখ লেখা রয়েছে ৫ অগস্ট, ২০২৫। এতে একটি কমপ্যাক্ট এবং গোলাকার হেডল্যাম্প দেওয়া হয়েছে।
ডিজাইন ও লুক: বাইকটিতে থাকছে ছিপছিপে ফুয়েল ট্যাঙ্ক, লম্বা সিঙ্গল সিট, এক্সপোজড সাইড প্যানেল এবং ছিমছাম রিয়ার সেকশন। বাইকের সাইড প্রোফাইলটি একেবারে ক্লাসিক কমিউটার শেপের। নিচু গড়ন, সরু বডিওয়ার্ক, লম্বা এগজস্ট এবং পরিচ্ছন্ন টেল সেকশন এটিকে বেশ রুক্ষ অথচ আকর্ষণীয় লুক দিয়েছে।
ফিচার্স: এর ফ্রন্ট ও রিয়ার ফেন্ডার ছোট রাখা হয়েছে। চওড়া ও সমতল সিট এটিকে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য আরও আরামদায়ক করে তুলবে। লুক রেট্রো হলেও, হিরো একে কমিউটার সেগমেন্টেই লঞ্চ করতে পারে বলে খবর। এতে ফাইভ-স্পোক অ্যালয় হুইল এবং সাধারণ বাইকের মতো টেলিস্কোপিক ফ্রন্ট সাসপেনশন দেখা যাচ্ছে।
নতুন বাইকের নকশা স্প্লেন্ডর প্রো ক্লাসিক বা ইকো ১৫০-এর হুবহু নকল নয়, তবে দু'টির থেকেই যে অনুপ্রাণিত, তা স্পষ্ট। হিরো সম্ভবত এমন একটি বাইক আনার কথা ভাবছে, যা শুধুমাত্র নিত্যযাত্রীদের জন্যই নয়, বরং যাঁরা ভাড়ায় বাইক খাটান (ফ্লিট ওনার), তাঁদের ব্যবসাকেও মাথায় রেখে তৈরি করা হবে।
কবে লঞ্চ হবে এই বাইক?
আজকাল অনেকেই বাইক-ট্যাক্সির কাজে এই ধরনের টু-হুইলার ব্যবহার করছেন। সে ক্ষেত্রে বড় সিট এবং বেশি জায়গা থাকলে তা ফ্লিট ব্যবসার জন্য আদর্শ হয়ে উঠতে পারে। তবে মনে রাখা দরকার, অটোমোবাইল সংস্থাগুলি অনেক সময়ই একাধিক পেটেন্ট ফাইল করে থাকে। কোনও মডেল বা নকশার পেটেন্ট ফাইল হওয়ার অর্থই এই নয় যে, বাইকটি ১০০ শতাংশ নিশ্চিতভাবে বাজারে আসবেই।
ফিরে দেখা স্প্লেন্ডর প্রো ক্লাসিক
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ক্যাফে রেসার অবতারে হিরো স্প্লেন্ডর প্রো ক্লাসিক লঞ্চ করেছিল সংস্থা। ১০০ সিসি সেগমেন্টে রেট্রো স্টাইলিংয়ের এটি ছিল অন্যতম সেরা বিকল্প। এতে রাউন্ড হেডল্যাম্প, ক্রোম ডিটেলিং, সিঙ্গল সিট লুক এবং কমপ্যাক্ট বডি প্যানেল ছিল। বাইকটিতে ছিল ৯৭.২ সিসির এয়ার-কুলড সিঙ্গল সিলিন্ডার ইঞ্জিন, যা ৮.২৫ বিএইচপি (bhp) পাওয়ার এবং ৮.০৫ এনএম (Nm) টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম ছিল।